আশিকুর রহমান :
নরসিংদীর ইটাখোলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত তামিন হৃদয়ের জন্য বেসরকারি, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন থেকে বরাদ্দকৃত আর্থিক অনুদানের টাকা স্বামী কর্তৃক আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন খোদ স্ত্রী রুমি আক্তার।
এবিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর তিনি একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন।
জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে শিবপুর উপজেলার দক্ষিন সাধারচর গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে তমিজ উদ্দীন মীরের সাথে পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের দক্ষিণ দেওড়া গ্রামের মজনু কাজীর মেয়ে রুমি আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।
বিয়ের পর তাদের সংসারে তামিন হৃদয় নামে একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় স্বামী তমিজ উদ্দিন ৩য় বিয়ে করেন এবং নিহতের মা রুমি আক্তারের ২য় বিয়ে হয়। সংসার জীবন আলাদা হলেও মা-ছেলের নিয়মিত যোগাযোগ, খোঁজ-খবর, আসা-যাওয়া ছিল।
গত ১৯ জুলাই শিবপুর উপজেলার ইটাখলা মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় তামিন হৃদয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিকদল ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন থেকে তামিন হৃদয়ের নামে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। যা তার গর্ভধারিনী মাকে জানানো হয়নি।
সেখান থেকে বরাদ্দকৃত ক্ষতিপূরণের কোন অংশ না দিয়ে তামিনের বাবা তমিজ উদ্দিন একাই আত্মসাৎ করেন। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ পরিবারকে সরকারি ভাবে বরাদ্দকৃত আর্থিক অনুদান ও সুযোগ- সুবিধা আইন অনুযায়ী প্রাপ্য অংশ সমাহারে বন্টনের ব্যবস্থা করতে জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেন তিনি।
নিহত তামিন হৃদয়ের মা রুমি আক্তার বলেন, আমাকে মৃত দেখিয়ে তমিজ উদ্দিন একাই তামিনের টাকা আত্মসাৎ করতে চাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে বিভিন্নভাবে সে আমাকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছেন। তাতে আমি রাজি না হলে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে বিভিন্ন মিথ্যাচার ও ভয়-ভীতি এবং হুমকি দিয়ে আসছে।
এ ব্যাপারে আমি প্রশাসনের দ্বারস্থ হলে শিবপুর উপজেলা প্রশাসন আমাদের দুইজনেরই কথা শুনে গত ২২ এপ্রিল আমরা দু’জনে লিখিত অঙ্গিকার নামা দিয়ে এসেছি। অঙ্গীকার নামায় সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হারে প্রদেয় আর্থিক সুবিধা বিধি মোতাবেক নিতে আমাদের কার ও কোন আপত্তি নাই এবং ভবিষ্যতে এ বিষয় নিয়ে আর কোন অভিযোগ করবো না বলে উল্লেখ করি। তারপরও তমিজ উদ্দিন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভুল তথ্য দিয়ে অপপ্রচারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
তার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো সে আমাকে বঞ্চিত করে একাই অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ করবে। এব্যাপারে আমি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কসহ মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।এব্যাপারে নিহতের পিতা তমিজ উদ্দিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।
সরকারিভাবে কিছু অংশ তাকে দেওয়া হয়েছে। জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকেও তাকে টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি তাদের বিরোধ নিষ্পত্তি ও শিবপুর উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অঙ্গীকারনামা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।
শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইয়াসমিন জানান, আমার এবং ডিসি অফিসে তামিন হৃদয়ের বাবা এবং মা দুইজনেরই ডকুমেন্টস রয়েছে। গত সপ্তাহে আমাদের এখানে দুই-জনই লিখিত অঙ্গীকার নামা দিয়ে গেছেন । আইন অনুসারে আমাদের পক্ষ থেকে যা হওয়ার তাই হবে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী জানান, তামিন হৃদয়ের বাবা এবং মা কে আইন অনুযায়ী সাহায্য- সহযোগিতা ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। আইনে যা আছে আমরা তাই করব।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৫ । ৬:৩০ অপরাহ্ণ