নিজস্ব প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক শাহরিয়ার নাজিরের বিরুদ্ধে সরকারি ক্রয়নীতি ও প্রশাসনিক শিষ্টাচার উপেক্ষা করে নিজেই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়ভাবে তাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এক অদৃশ্য অথচ অদ্ভুত ক্ষমতার বলয়—যার নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন বিপুল মোফাজ্জল নামের এক ব্যক্তি, যাকে এলাকাবাসী ইউএনও’র ‘অঘোষিত ক্যাশিয়ার’ ও ‘ম্যানেজার’ বলে অভিহিত করছেন।
সরকারি নীতিমালা অনুসারে দরপত্র আহ্বান না করে কোনো সরকারি প্রকল্পের কাজ শুরুর সুযোগ নেই। কিন্তু বোদা পৌরসভার বাস্তবতা যেন উল্টো পথে হাঁটে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১৯ মে বোদা পৌরসভা ১০টি প্রকল্পে ৮৮ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩ টাকার টেন্ডার আহ্বান করে। ৩ জুন ছিল দরপত্র সংগ্রহের শেষ সময় এবং জমা দেওয়ার তারিখ ৪ জুন।
অথচ দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই পৌর প্রশাসকের নিজ কক্ষ ও কনফারেন্স রুমের অভ্যন্তরীণ নকশার (ইন্টেরিয়র ডিজাইন) কাজ শুরু হয় গত ২৮ মে, অর্থাৎ নির্ধারিত সময়েরও আগে।
প্রথম প্যাকেজের ৯ লাখ ৯২ হাজার ৫৫২ টাকা বরাদ্দের কাজ অর্ধেকের বেশি শেষ হওয়ার পর, সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে বিষয়টি ফাঁস হলে ১৪ মে থেকে ওই কাজ বন্ধ রাখা হয়। বর্তমানে রুম দুটি তালাবদ্ধ থাকলেও কাজের ৫০ শতাংশেরও বেশি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিয়ে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রাফি ইমাম বলেন, “আমার দায়িত্ব শুধু টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করা, কাজের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন।”
অন্যদিকে, ইউএনও শাহরিয়ার নাজির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কোনো অনিয়ম হয়নি। শুরুতে সরাসরি ক্রয়ের চিন্তা ছিল, পরে সিদ্ধান্ত হয় টেন্ডারেই কাজটি করা হবে। নিয়ম মেনেই সবকিছু হয়েছে।”
তবে এ বক্তব্যকে স্থানীয় সচেতন মহল হাস্যকর ও দায়সারা বলে অভিহিত করেছেন। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, দরপত্র আহ্বান হবার আগেই কাজ শুরু হয় কীভাবে? এটি কি পূর্বপরিকল্পিত লুটপাটের অংশ নয়?
জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলী বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “এটা খোঁজ নিতে হবে। সরকারী টাকা খরচ হয়েছে কিনা সেটা আগে দেখতে হবে। যদি সরকার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তাহলে সমস্যা নেই।”
তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, বোদা উপজেলা এখন ইউএনওর একক নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যক্তিগত খামারে পরিণত হয়েছে। অবৈধ সুবিধাভোগী বিপুল মোফাজ্জল নামে এক ব্যক্তি, যিনি একজন কথিত সাংবাদিক, ইউএনওর হয়ে ঠিকাদার নির্বাচন, বিল উত্তোলন, চুক্তি চূড়ান্তকরণসহ সবকিছু তদারকি করেন। তাকে ঘিরে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
এছাড়া বোদা নগরকমারী হাটের ইজারা নিয়ে রয়েছে আরেকটি অনিয়মের অভিযোগ। সাবেক রেলমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মজিবুল হক সুজনের ‘অঘোষিত ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রহমানের স্ত্রীর নামে হাটটি ইজারা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই ইজারা প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। সব মিলিয়ে বোদা উপজেলা প্রশাসন যেন একটি ‘ম্যানেজড সিন্ডিকেটে’ পরিণত হয়েছে—যার মূলে রয়েছেন ইউএনও শাহরিয়ার নাজির এবং তার ‘ম্যানেজার’ বিপুল মোফাজ্জল।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫ । ৬:৪১ অপরাহ্ণ