রাজউকের মাহবুবার রহমানের দুঃসাহসিক দুর্নীতির সাম্রাজ্য | পর্ব-০১

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০২৫ । ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) মোঃ মাহবুবার রহমানের বিরুদ্ধে উঠেছে ভয়াবহ অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্তৃত অভিযোগ। দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে জনগণের স্বার্থ রক্ষার বদলে, তিনি পরিণত হয়েছেন একটি স্বার্থান্বেষী চক্রের কুশীলবে—যার চূড়ান্ত লক্ষ্য রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়া।

 

বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, মাহবুবার রহমান একাধিক দুর্নীতিপরায়ণ রাজউক কর্মকর্তাকে নিজের বলয়ের অন্তর্ভুক্ত করে একটি অদৃশ্য সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্লট বরাদ্দ, জমির দখল হস্তান্তর, মূল্যায়ন ও অনুমোদনের নামে লক্ষ-কোটি টাকার দুর্নীতির রীতি চালু করেছেন তিনি। দায়িত্বের সুযোগ নিয়ে সরকারি জমি নিজেদের দখলে এনে বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিশেষ করে, রাজধানীর অভিজাত এলাকায় একাধিক ‘ফাইলভিত্তিক দখলদারিত্ব’ তার প্রত্যক্ষ ইন্ধনে হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।

 

সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো—মাহবুবার রহমান শুধু আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। আওয়ামী লীগের একাধিক স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতার সাথে সুগভীর আঁতাত করে তিনি রাজউকের ভূমি শাখাকে ব্যবহার করেছেন ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষার অস্ত্র হিসেবে। তথাকথিত এই যোগসাজশের ফলে দলীয় পরিচয়ে সুবিধাভোগীরা দখল করেছেন সরকারি জমি, পেয়েছেন বেআইনিভাবে প্লট বরাদ্দ—যা পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

 

রাজউকের একজন সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, “মাহবুবার রহমান হলো সেই শ্রেণির আমলা, যারা নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে রাজউককে ব্যক্তিগত জমিদারিতে পরিণত করেছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত হলেই বেরিয়ে আসবে কিভাবে ‘রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান’কে ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা যায়—তার ক্লাসিক মডেল।”

 

এদিকে, দুদক সূত্রে জানা গেছে, মাহবুবার রহমানের নামে একাধিক ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলোর মালিকানা রয়েছে স্ত্রী, সন্তান ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের নামে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চলছে টাকা পাচার, অবৈধ লেনদেন ও সম্পদ হস্তান্তরের ভয়াবহ খেলা। তবে এসব তথ্য সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ—যা গোটা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই যেন প্রকাশ করছে।

 

রাজউক এখন এক দুর্বিনীত আমলার হাতে বন্দি। মাহবুবার রহমানের স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতির নেটওয়ার্ক এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে মরণব্যাধিতে আক্রান্ত করেছে।

 

চলবে…

প্রিন্ট করুন