নিজস্ব প্রতিনিধি:
কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অধিদপ্তরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম- সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমান আওয়ামী দোসর পরিচয়ে বছরের পর বছর ধরে সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি আর লুটপাটে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ শুধু দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নয়- বরং এটি একটি বৃহৎ দুর্নীতিচক্রের অন্যতম চরিত্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, যশোর অঞ্চলে তিনি নামে-বেনামে গড়ে তুলেছেন শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড়। জমি, বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ টাকায় ঠাসা এসব সম্পদ সুশৃঙ্খল কোনও আয় উৎসের ভিত্তিতে নয়- বরং রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে গড়ে তোলা।
বিশেষ করে, তরিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে করযোগ্য প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে ফাঁকি দিয়েছেন বিপুল রাজস্ব। এসব বৈঠকে আওয়ামীপন্থী নেতাদের মধ্যস্থতা ও সহযোগিতা ছিল নিয়মিত। বিনিময়ে তরিকুল সরকারের খাতায় কোটি কোটি টাকার রাজস্ব গায়েব করে এসব ব্যবসায়ীদের অনৈতিক ছাড় দিয়েছেন, বিনিময়ে নিজের হিসাব গুছিয়েছেন।
রাজস্ব আদায়ে পক্ষপাতিত্ব করে ঘুষ গ্রহণ, আমদানিকারকদের নিকট থেকে ভ্যাট/কাস্টমস ফাঁকি দিয়ে অর্থ আদায়, প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের ‘গেট ক্লিয়ারেন্স’ দিয়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া, নামে-বেনামে ব্যবসা পরিচালনা করে সরকারি নিয়ম ভাঙা, জাল ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট তৈরি করে ভ্যাট ফাঁকি,
অডিট না করেই প্রতারণামূলক রিপোর্ট পেশ করে আর্থিক সুবিধা নেওয়া, আওয়ামী লীগের দলের নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করে তদন্ত ও জরিমানা থেকে অব্যাহতি দেওয়া। তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রতিটি অভিযোগই একাধিক ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। তাঁর দুর্নীতির বিষয়গুলো বহুবার ঊর্ধ্বতন দপ্তরে মৌখিকভাবে জানানো হলেও রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকায় কেউ তাঁর বিরুদ্ধে স্পষ্ট পদক্ষেপ নিতে সাহস পাননি।
বিস্তারিত পরবর্তী সংখ্যায়…

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৫ । ৮:৫৮ অপরাহ্ণ