দাউদকান্দিতে জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা প্রাণনাশের শঙ্কায় সাংবাদিক শরিফুল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬ । ৮:১১ অপরাহ্ণ

 

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের বীরবাগগোয়ালী এলাকায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা, বাড়িতে ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ শরিফুল ইসলাম নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোঃ শরিফুল ইসলামের পৈতৃক ও নামজারীকৃত জমি সিএস ২৪৯, আরএস ২৮৯ ও বিএস ৩৮ নং খতিয়ানভুক্ত। ৫০৩, ৫০৫, ৫০৭/৮৩৩ ও ৫০৭ দাগে মোট ৭৫ শতক জমির সব ধরনের কাগজপত্র হালনাগাদ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

শরিফুল ইসলামের অভিযোগ, পাশের দাগে জমি কিনে দখলে থাকা মোস্তাক বেপারী ও তার স্বজনরা দীর্ঘদিন ধরে সুযোগ নিয়ে তাদের জমির অতিরিক্ত অংশ দখলে রেখেছেন। তিনি দীর্ঘদিন বাড়িতে না থাকায় এ দখল আরও বিস্তৃত হয়। কয়েক দফা মৌখিকভাবে জমি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও অভিযুক্তরা বিষয়টি কালক্ষেপণ করে আসছিলেন।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সকালে নিজের দখলীয় জমিতে বালু ভরাটের কাজ শুরু করতে গেলে মোস্তাক বেপারী পক্ষের লোকজন বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় মুসা তালুকদার বাধা না দেওয়ার জন্য একাধিকবার নিষেধ করলেও তা উপেক্ষা করে মোস্তাক বেপারী, তার স্ত্রী, ছেলে নজরুল ও তার স্ত্রী, মিলন শাহর স্ত্রীসহ কয়েকজন লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

পরবর্তীতে শরিফুল ইসলাম বাড়িতে ফিরে গেলে প্রায় এক ঘণ্টা পর মিলন শাহ, তার স্ত্রী, নজরুল ও তার স্ত্রীসহ আরও কয়েকজন সাগর মেম্বারের উপস্থিতিতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়ির সামনে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও জবাই করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

প্রাণভয়ে তিনি ঘরের ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় অভিযুক্তরা তার বাড়ির তিনটি ঘরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে এবং দরজা ভাঙার চেষ্টা চালায়। নিরুপায় হয়ে তিনি দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এম আব্দুল হালিমকে ফোন করেন। পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

ভুক্তভোগী জানান, পুরো ঘটনার সময় তিনি ঘরের ভেতর থেকে ফেসবুক লাইভে ছিলেন এবং পুলিশ না আসা পর্যন্ত লাইভ বন্ধ করেননি। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর উপজেলা ছাত্রদল নেতা মুক্তার প্রধান ও সাগর মেম্বারের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল অভিযুক্তদের বাড়ির দিকে যায়।

পরে এসআই আবুবকর ঘটনাস্থলে এসে ঘটনার বিবরণ নেন। তবে অভিযোগকারী দাবি করেন, পুলিশকে প্রকৃত ঘটনার পরিবর্তে সাগর মেম্বার ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের মতো করে তথ্য উপস্থাপন করেন, যা তাকে আরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

শরিফুল ইসলামের অভিযোগ, অতীতেও চন্দ্রশেখরদী এলাকায় নির্মাণাধীন ভবন ভাঙচুর, নৈয়াইর এলাকায় প্রবাসী লিটন মিয়ার বাড়িতে হামলা, নশ্বিপুরে জোরপূর্বক সাতটি দোকান দখলসহ মারুকা ও দৌলতপুর ইউনিয়নের কয়েকটি স্পর্শকাতর ঘটনার সঙ্গে একই গ্রুপের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

এ বিষয়ে তিনি প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করে বলেন,

“আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার পরিবার ও সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এম আব্দুল হালিম এর পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

প্রিন্ট করুন