শত কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে যশোর গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬ । ৩:৩২ অপরাহ্ণ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সরকারি চাকরির সীমিত বেতন কাঠামোর আড়ালে বিপুল সম্পদের মালিকানা, টেন্ডার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, কমিশন বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে শত কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করে একটি শক্তিশালী ঠিকাদার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও ভুক্তভোগীদের।

 

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরির সীমিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে খুলনার জোড়াকল বাজার এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন জাহিদুল ইসলাম। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার বলয় ব্যবহার করে তিনি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী দুর্নীতি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন বলেও দাবি উঠেছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পে সুপরিকল্পিত টেন্ডার কারসাজি, দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং কমিশনভিত্তিক কাজ বণ্টনের মাধ্যমে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একাডেমিক ভবন, হাসপাতালের ওটি, আইসিইউ, সিসিইউ ভবনের লিফট স্থাপনসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোতে বারবার সর্বনিম্ন দরদাতাদের বাদ দিয়ে সিন্ডিকেটভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

এছাড়া কমিশন বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে ৩ থেকে ৪ মাস পর্যন্ত দরপত্র নিষ্পত্তি ঝুলিয়ে রাখা, অতিরিক্ত দামে কাজ প্রদান এবং প্রকৃত যোগ্য ঠিকাদারদের অভিযোগ উপেক্ষা করারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, একই ধরনের অনিয়ম সড়ক, ড্রেন, পুকুর খননসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক প্রকল্পেও করা হয়েছে।

 

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, কুষ্টিয়ার নতুন সার্কিট হাউস, মডেল মসজিদসহ একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে একই কৌশলে লুটপাট ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি পূর্বে চলমান বড় প্রকল্পধারী কিছু প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় কাজ পাইয়ে দিতে সর্বনিম্ন দরদাতাদের অযোগ্য দেখানোরও অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযোগের তালিকায় আরও রয়েছে, কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের ৪০ বছর পুরনো এক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর সরকারি বাসভবনের কাঠামো পরিবর্তনের নামে নামে-বেনামে দরপত্র আহ্বান করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, একই ভবনে একই অর্থবছরে একাধিকবার ‘মেরামত কাজ’ দেখিয়ে বিল উত্তোলন এবং ডিসি অফিসের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণে একই অর্থবছরে বারবার টেন্ডার ডেকে অর্থ লোপাটের অভিযোগ।

 

সদর হাসপাতাল, জজ কোর্ট, ডিসি অফিসসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলোতে ‘ওভারল্যাপিং প্রকল্প’ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, এসব বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়লেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসনিকভাবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

 

এসব অভিযোগের বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

প্রিন্ট করুন