আওয়ামী সরকারের সুবিধাভোগী গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদের দুর্নীতি এখনো বহাল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬ । ২:১৭ অপরাহ্ণ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগে পতিত হাসিনা সরকারের অবৈধ অর্থের অন্যতম উৎস ছিল গণপূর্ত অধিদপ্তর। এই গণপূর্ত অধিদপ্তরের কিছু বিভাগ রয়েছে যেখানে পূর্ত কাজের সংখ্যা বেশি।

কাজে সংখ্যা যেহেতু বেশি সেহেতু এইসব বিভাগের নিয়ন্ত্রণ যার হাতে থাকে তার উপরি আয়ও বেশি। আর আয় বেশি বলেই এসব বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হওয়ার জন্য প্রকৌশলীরা বিপুল পরিমাণ টাকা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে ঘুষও দিয়ে থাকেন। তেমনই একটি বিভাগ হলো ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪। এই বিভাগে গণপূর্তের প্রভাবশালী প্রকৌশলীরা ছাড়া সহজে কেউ পদায়ন পায়নি।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীসহ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনেক মন্ত্রী আমলারাও সুবিধা পেয়েছেন এই বিভাগ থেকে। তাই তারা তাদের নিজস্ব আস্থাভাজন লোক ছাড়া অন্য কোনো প্রকৌশলীকে এই বিভাগে পদায়ন করেনি। প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানাও তেমনই একজন আস্থাভাজন লোক। শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালীন তিনি এসব আওয়ামীপন্থীদের আস্থাভাজন হয়ে উঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেজন্যই তাকে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদায়ন করা হয়েছে বলে জানা যায়।

 

জানা যায়, মাসুদ শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-৩ ঢাকায় থাকাকালীন ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে এপিপির কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করেন। এতে শতকারা ৮০ ভাগ কাজই পেয়েছে আওয়ামীপন্থী ঠিকাদারেররা। আর ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করে মোটা অংকের কমিশন নিয়ে তাদের কাজ পেতে সহযোগীতা করেন মাসুদ।

 

গণপূর্ত সংশ্লিষ্ট্রা জানান, ছাত্র জীবন থেকেই মাসুদ ছাত্রলীগ রাজনীতির সাথে জড়িত। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীসহ ১৫ জন কর্মকর্তার নামে ছাত্র ও জনতা গণহত্যা মামলায় আসামী করা হলেও বাদ পরে মাসুদের নাম। অভিযোগ রয়েছে, এই গণহত্যা মামলা মীমাংসা করার জন্য মামলার বাদীর সাথে দেন-দরবার করছেন প্রধান প্রকৌশলীসহ তার অনুসারীরা। মামলা মীমাংসা করার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়ে পরলে এই অর্থের জোগান দেওয়ার দায়িত্ব বর্তায় প্রধান প্রকৌশলীর অনুসারীদের উপর।

প্রধান প্রকৌশলীর অন্যতম অনুসারী মো. মাসুদ রানা ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার বাদীকে ম্যানেজ করার জন্য গত ১৪ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে এপিপির কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে এনসিটি পদ্ধতিতে দেওয়ার জন্য দরপত্র আহবান করেন। জানা যায়, প্রধান প্রকৌশলী একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে এপিপি কাজ এলটিএম পদ্ধতির ছাড়া ওন্য কোনো পদ্ধতিতে দেওয়া যাবে না। কিন্তু প্রধান প্রকৌশলীকে বাঁচাতে তারই আদেশে অমান্য করেন মো. মাসুদ।

দরপত্রগুলোর ই-জিপি আইডি নম্বর হলো ১০৩৫৯১০, ১০৩৫৯৩৩, ১০৩৫৯৮৯, ১০৩৬১২৯, ১০৩৬১৪৬, ১০৩৬৪১৫, ১০৩৬৯৫৮, ১০৩৭১৩৪। এই সকল কাজগুলো পূর্ত ভবন ও মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট সংশ্লিষ্ট। এরমধ্যে ১০৩৫৯১০ ও ১০৩৬১২৯ আইডি দুটির কাজের ধরন হলো ফার্নিচার সরবারহ করা। কিন্তু ফার্নিচার সরবারহ করার জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের গণপূর্ত কারখানা বিভাগ থাকা সত্ত্বেও গণপূর্ত বিভাগ-৪ থেকে সরবরাহের দরপত্র আহবান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, এই দরপত্র দুটি গণপূর্ত বিভাগ-৪ থেকে আহবান করা হয়েছে দ্রুত অর্থের সঙ্কুলান করার জন্য।

 

গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষ বরাদ্দের দরপত্র ওটিএম পদ্ধতিতে আহবান করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিয়ে নামমাত্র কাজ করে মাসুদ রানা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভাগাভাগি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে এপিপি বরাদ্দের পাঁচটি কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করেছেন। গুঞ্জন রয়েছে এই পাঁচটি কাজ থেকেও মাসুদ রানা মোটা অংকের কমিশন পেয়েছেন।

 

এবিষয়ে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

প্রিন্ট করুন