দাউদকান্দি গৌরীপুর দীর্ঘদিনের সুপরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী ‘গৌরীপুর কাঠবাজার’ অবশেষে গুটিকয়েক লুটেরা ইজারাদারের মাত্রাতিরিক্ত লালসার শিকার হলো।
নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দিনদুপুরে প্রকাশ্যে চলা এই ‘প্রাতিষ্ঠানিক চাঁদাবাজি’ এবং অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের কড়া প্রতিবাদ হিসেবে বাজারটি বাধ্য হয়ে পার্শ্ববর্তী রায়পুরে সরিয়ে নিয়েছেন বিক্ষুব্ধ ও সর্বস্বান্ত ব্যবসায়ীরা।
দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গৌরীপুর কাঠবাজারে একচেটিয়া রামরাজত্ব কায়েম করেছিল অসাধু ইজারাদার চক্র। অভিযোগ রয়েছে, সরকার নির্ধারিত হাসিল বা খাজনার তালিকার কোনো অস্তিত্বই সেখানে রাখা হয়নি।
ক্রেতা ও বিক্রেতাদের আক্ষরিক অর্থেই জিম্মি করে নির্ধারিত হারের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা জোরপূর্বক হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। দিনের পর দিন এই প্রকাশ্য অনিয়মের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যায়।
অতিরিক্ত খাজনার নামে এই প্রকাশ্য চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীরা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানালেও কোনো এক অজানা ও রহস্যজনক কারণে নিশ্চুপ ছিল স্থানীয় প্রশাসন।
প্রশাসনের এই নির্বিকার ভূমিকার কারণেই ইজারাদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত নিজেদের ব্যবসা ও অস্তিত্ব রক্ষায় কাঠ ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে নীরব কিন্তু জোরালো প্রতিবাদ গড়ে তোলেন। তারা দুর্নীতিগ্রস্ত গৌরীপুর বাজার বয়কট করে বাজারটিকে রায়পুরে স্থানান্তর করার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন।
ব্যবসায়ীদের এই স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে রায়পুরে এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় ও ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতিবাদী এই পদক্ষেপের ফলে দুর্নীতিবাজ ইজারাদারদের গৌরীপুর বাজার এখন ক্রেতাশূন্য হয়ে খাঁ খাঁ করছে।
এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনিক জবাবদিহিতার জায়গাটিকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। সচেতন মহলের এখন একটাই প্রশ্ন— সাধারণ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে যারা এই চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছিল, তাদের বিরুদ্ধে কি আদৌ কোনো আইনি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে? নাকি সাধারণ মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণকারী এই চক্র বরাবরের মতোই ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাবে?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬ । ৪:৫১ অপরাহ্ণ