বিল আটকে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ এলজিইডি প্রকৌশলী ইমরানের বিরুদ্ধে!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬ । ৩:২৪ অপরাহ্ণ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, কমিশন বাণিজ্য, বিল আটকে রাখা, বদলি আদেশ কার্যকর না করা এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা আদায়ের একাধিক অভিযোগ উঠেছে বলে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে।

অভিযোগে বলা হচ্ছে, বিভিন্ন রাস্তা ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পের বিল ছাড় করতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ২ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করা হতো। একই সঙ্গে জরিমানার অর্থ মওকুফ বা প্রকল্প সংশোধনের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি অনুযায়ী, কমিশন বা আর্থিক সুবিধা ছাড়া কোনো ফাইল অনুমোদন হতো না।

একাধিক ঠিকাদারের বক্তব্য অনুযায়ী, কার্যাদেশ প্রদান, রিভাইজ স্কিম অনুমোদন এবং বিল পরিশোধের প্রতিটি ধাপে অনৈতিক লেনদেনের চাপ ছিল। এতে অনেক ঠিকাদার ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ বা মানববন্ধনের প্রস্তুতি নিলেও পরে পরিস্থিতি আপসের মাধ্যমে সামাল দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. এনামুল হককে ব্যবহার করে ঘুষ ও কমিশন সংগ্রহের একটি চক্র পরিচালিত হতো। অভিযোগকারীদের দাবি, তার “সবুজ সংকেত” ছাড়া কোনো ফাইল অগ্রসর হতো না।

একই সঙ্গে বদলি সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ বাস্তবায়ন না হওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ১৪ মে জারিকৃত আদেশে এনামুল হককে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় বদলির নির্দেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, অভ্যন্তরীণ প্রভাব খাটিয়ে বদলি প্রক্রিয়া আটকে রাখা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন, তিনি ঢাকার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন এবং অফিস পরিচালনা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিজ দপ্তর থেকেই নেওয়া হয়। তবে তার এই বক্তব্যকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, যেসব আত্মীয়তার দাবি করা হয়েছে, তার বেশিরভাগই বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।

অন্যদিকে এলজিইডির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ফিল্ড পর্যবেক্ষণের পরিবর্তে দপ্তরে বসেই প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো প্রকল্পের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সচেতন মহল এবং সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি প্রকল্প ও অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা

এ সব বিষয়ে বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানের

বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে

প্রকাশ করা হবে।

প্রিন্ট করুন