চাঁদা না পেয়ে চরের ঘাসে বিষ: অসুস্থ ৩০ মহিষ, মারা গেছে তিনটি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ

 

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নদীবেষ্টিত দুর্গম চরে খাবারে বিষক্রিয়ায় ৩০টি মহিষ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে তিনটি মহিষ মারা গেছে। বাকি মহিষগুলোর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার লালচরে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে মাঠে চড়াতে যাওয়া ঘাসে বা খাদ্যে বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়ে এই ‘নৃশংসতা’ চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর।

স্থানীয় ও গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরাঞ্চলে সরকারি খাস জমিতে মহিষ চড়ান স্থানীয় খামারিরা। তারা এখানে কোন প্রকার অর্থ ছাড়াই মহিষ চড়াতেন। হঠাৎ করে তৈরি হলো নতুন নিয়ম। চরের খাস জমিতে মহিষ চড়াতে গেলে মাসে চাঁদা হিসেবে খামারিদের দিতে হবে মহিষ প্রতি ২০০ টাকা। আর টাকা না দিলে মহিষগুলোকে ঘাস খাওয়াতে দেওয়া হয় না বলে জানা গেছে।

 

তারা আরও জানান, বাধ্য হয়েই মাসে মহিষ প্রতি ২০০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। এভাবে ৪৭৮টি মহিষের জন্য দিতে হচ্ছে মাসে ৯৫,৬০০টাকা। এতে লোকসানে পড়ছেন খামারিরা। আর নতুন এই চাঁদা প্রথার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মাইনুদ্দিন নামে এক সাবেক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে।

এদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সাবেক ছাত্রদল নেতা মাইনুদ্দিন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, জেলেদের মাছ ধরার চাই ভেঙে ফেলে মহিষগুলো সেই জরিমানা হিসেবে টাকা নেয়া হয়েছে; এ বিষয়ে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে শালিশ বসেছে বলেও জানান মাইনুদ্দিন। সেখানে টাকাগুলো তার কাছেই জমা রাখা হয় এমনকি নিজের মহিষের জন্যও টাকা দিয়েছেন বলে দাবি তার।

 

মহিষ পালকদের দাবি, ‘জেলেদের সাথে আমদের কথা হয়েছে; তাদের মাছ ধরার কোন চাই ভাঙ্গেনি এমনকি কোন টাকাও দেওয়া হয়নি জেলেদের।’চাঁদা তুলার ঘটনা কেন্দ্র করে বিষ দেওয়া হয়েছে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাউফল উপজেলার ওসি শোনিত কুমার গায়েন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘চাঁদা তুলার বিষয় কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে কিনা আমরা এখনো জানতে পানিনি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর স্যাম্পল সংগ্রহ করেছে বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।’

মহিষ প্রতি ২০০ টাকা চাঁদা নেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এদিকে এ ঘটনায় ফেসবুকে পোস্টে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, ‘চাঁদা না পেয়ে চরের ঘাসে বিষ, মারা গেল দরিদ্র কৃষকের ৩ মহিষ, অসুস্থ আরও অন্তত ৩০টি। চাঁদাবাজির দাপটে রেহাই নেই চরের মহিষেরও।’

প্রিন্ট করুন