কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানাধীন জিংলাতলী ইউনিয়নের জিংলাতলী গ্রামে জমি-সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে একই পরিবারের ওপর দু’দফা সশস্ত্র হামলা, ঘরবাড়ি ভাঙচুর, স্বর্ণালঙ্কার লুটপাট অভিযোগ পাওয়া গেছে। অসহায় এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টাসহ শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক প্রভাবশালী ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে। গত ৪ আগস্ট এবং ২২ সেপ্টেম্বর সোমবার বাবুল মিয়া ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে এই ন্যক্কারজনক ঘটনাগুলো ঘটে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জিংলাতলী গ্রামের বাসিন্দা খুরশীদ আলম (৭০)-এর পরিবারের সাথে একই এলাকার বাবুল মিয়া (৩২):এবং তাদের সহযোগীদের দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জের ধরে অভিযোগকারী খুরশীদ আলমের পরিবারকে পথঘাটে নানাভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
প্রথম দফার তাণ্ডব (৪ আগস্ট ২০২৬): গত ৪ আগস্ট সকাল অনুমান ১০:০০ ঘটিকার সময় ১ নং আসামি বাবুল মিয়া ও মনির হোসেন নেতৃত্বে ৪/৫ জনের একদল অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত ধারালো রামদা, চাপাতি, লোহার রেন্স, শক্ত কাঠের রোয়া ও লাঠিসোটায় সজ্জিত হয়ে খুরশীদ আলমের বসতবাড়িতে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে।
তারা খুরশীদ আলমের স্ত্রী লিলি বেগমকে (৬৩) অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে বাবুল মিয়ার হুকুমে আসামিরা লিলি বেগমের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর থেতলানো জখম করে।
হামলাকারীরা বসতঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে প্রায় ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার) টাকার ক্ষতি সাধন করে। লিলি বেগম আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে ২ নম্বর আসামি বিল্লাল হোসেন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা চালায়। এ সময় বাবুল মিয়া বৃদ্ধা লিলি বেগমের পরনের কাপড় টেনে-হিঁচড়ে শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং তার গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন (যার আনুমানিক মূল্য ১,২০,০০০ টাকা) ছিনিয়ে নেয়। আহত বৃদ্ধার চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা তাদের প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
দ্বিতীয় দফার হামলা ও ভয়াবহ হুমকি (২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ): প্রথম ঘটনার পর থেকে সুযোগ খুঁজতে থাকা ওই একই সন্ত্রাসী দল গত ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল সারে আট টার সময় অভিযুক্ত বাবুল মিয়া ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী ১৫/১৬ জনের দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে খুরশীদ আলমের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। আসামিরা এবার খুরশীদ আলম ও তার স্ত্রী লিলি বেগমকে একা পেয়ে বেধড়ক মারধর করে এবং তাদের রান্নাঘর, বাথরুমসহ বসতঘরের বেড়া ও দরজা-জানালা কুড়াল ও লাঠিসোটা দিয়ে কুপিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। এতে তার (এক লক্ষ) টাকার সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার সময় স্থানীয় সাক্ষী ও আশপাশের লোকজন ছুটে এলে আসামিরা প্রকাশ্যে হুঙ্কার দিয়ে ঘোষণা দেয় যে, বাড়াবাড়ি করলে খুরশীদ আলমের ছেলে শাহজালালসহ পুরো পরিবারকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হবে। এমনকি তাদের বসতবাড়িতে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেয় সন্ত্রাসীরা।
অভিযুক্ত বাবুল মিয়ার সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আমরা জায়গা পাওনা আছি। আমাদের ঘর আমরা ভেঙে নিয়ে আইছি।
এ বিষয়ে অসহায় ভুক্তভুগী খোরশেদ আলম এর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন ভুক্তভোগী পরিবার মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান এবং এ ঘটনার সাথে জড়িত সকল আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
দাউদকান্দি মডেল থানা ওসি মোঃ সাজেদুল ইসলাম বলেন, একটা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৫:৩৪ অপরাহ্ণ