নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও গণপূর্ত অধিদপ্তরে থামেনি সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির দৌরাত্ম্য। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বিতর্কিত নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ আহসান ওরফে রাশেদুজ্জামান এবার বাগিয়ে নিতে যাচ্ছেন প্রায় ৪০০ কোটি টাকার আজিমপুর গণপূর্ত প্রকল্প। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ওএসডি (OSD) হওয়া এবং ক্ষুব্ধ ঠিকাদারদের হাতে অবরুদ্ধ হওয়ার নজিরবিহীন ঘটনার পরও সংস্থাপন শাখাকে ম্যানেজ করে এই লাভজনক পোস্টিং নেওয়ার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের আস্থাভাজন হিসেবে প্রথমে ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগে প্রভাব বিস্তার করেন রাশেদ আহসান। পরবর্তীতে তিনি পদায়ন পান গুরুত্বপূর্ণ মিরপুর বিভাগে। সেখানে তিনি যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হাসান নিখিলের সরাসরি ব্যবসায়িক অংশীদার হয়ে ওঠেন। মিরপুরের কুখ্যাত ‘বিকাশ বাহিনী’র ছত্রচ্ছায়ায় সাধারণ ঠিকাদারদের কোণঠাসা করে গড়ে তোলেন নিজস্ব টেন্ডার সিন্ডিকেট।
অভিযোগ রয়েছে, মিরপুর পাইকপাড়া আবাসন কোয়ার্টার প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৫ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই ভুয়া নথিপত্রে শতকোটি টাকার অগ্রিম বিল ছাড় দেন রাশেদ। প্রায় ৫ কোটি টাকা কমিশনের বিনিময়ে এই বিল ছাড়ের প্রমাণ পাওয়ায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এছাড়া প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশনা অমান্য করে ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ এলটিএম (LTM) পদ্ধতির বদলে ওটিএম (OTM)-এ দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রের বিভিন্ন আইডি (যেমন: ৯৯৫৩০০, ৯৯৪২৭৭, ৯৯৪০২০, ৯৯২৩৫২, ৯৯২৩৮৭ প্রভৃতি) থেকে প্রায় ১০ শতাংশ হারে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আন্দোলন চলাকালে নিখিল-রাশেদ সিন্ডিকেট ছাত্র ও বিরোধীদের ওপর দমনপীড়নে অর্থায়ন করেছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
টেন্ডার দুর্নীতির পাশাপাশি অর্থ পাচার ও বিদেশে গোপন বৈঠকের মতো গুরুতর তথ্যও পাওয়া গেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর গত অক্টোবর ও ডিসেম্বরে স্ত্রীর চিকিৎসার ভুয়া অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার ব্যবহার করে ভারতে যান তিনি। অভিযোগ রয়েছে, পলাতক দোসরদের কাছে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো এবং গণপূর্তের আরও দুই প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী গোপন ষড়যন্ত্রে অংশ নিতেই ছিল এই সফর।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রাথমিক অনুসন্ধানে রাশেদ আহসান ও তার পরিবারের নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড়ের তথ্য মিলেছে। এর মধ্যে রয়েছে উত্তরা ও ধানমন্ডিতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, বসুন্ধরা ও পূর্বাচলে একাধিক প্লট, সাভার, গাজীপুর ও কেরানীগঞ্জে শত শত শতাংশ জমি এবং ঢাকা সংলগ্ন এলাকায় বিলাসবহুল ফার্মহাউস। এ ছাড়া দুবাই ও কানাডায় সেকেন্ড হোম, আত্মীয়দের নামে বিপুল অঙ্কের এফডিআর এবং ব্যাংক ভল্টে সোনা ও নগদ অর্থ মজুতের তথ্য এখন দুদকের নজরদারিতে রয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ । ১:০৪ অপরাহ্ণ