মানবসেবায় নিবেদিত এক আলোকবর্তিকা আরফানুল আলম প্রধান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬ । ১১:২৬ অপরাহ্ণ

মানবসেবায় নিবেদিত এক আলোকবর্তিকা আরফানুল আলম প্রধান

পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার কৃতিসন্তান আরফানুল আলম প্রধান। তিনি দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের মহলদার পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন একজন মেধাবী শিক্ষার্থী এবং একই সঙ্গে প্রাণবন্ত ও রসিক স্বভাবের মানুষ।

তিনি শিক্ষাজীবনের সূচনা করেন শান্তিরহাট ঝলঝলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে দেবীগঞ্জ এন.এন. উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও ছিল তাঁর সক্রিয় পদচারণা। ‘বন্ধু নাট্যগোষ্ঠী’র সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি একাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন। এছাড়াও আধুনিক গান, উপন্যাস এবং ইসলামি গজল রচনায় তিনি তাঁর সৃজনশীল প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি মেডিকেল কোরে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে যোগদান করেন। কর্মজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও শিক্ষার প্রতি তাঁর অদম্য আগ্রহ ছিল অব্যাহত। আর্মি হেডকোয়ার্টারের অনুমতি নিয়ে তিনি তেজগাঁও সরকারি কলেজ এবং সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মাস্টার্স অব আর্টস (এমএ) ডিগ্রি অর্জন করেন।

আরফানুল আলম প্রধান এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা ও সামাজিক সংগঠনের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচ বহন এবং অনেক শিক্ষার্থীকে বই-খাতা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। তার সহযোগিতায় বহু শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছে।

২০২২ সালে তিনি কঠিন রোগে আক্রান্ত হলেও কখনো ভেঙে পড়েননি। ধৈর্য, সাহস ও আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস নিয়ে তিনি জীবনযুদ্ধ চালিয়ে গেছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও মানুষের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সমাজকল্যাণমূলক কাজের প্রতি আগ্রহ হারাননি।

পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমান্ডো প্রশিক্ষণ সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেন, যা তাঁর সাহসিকতা ও দৃঢ় মনোবলের পরিচায়ক। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), ঢাকায় কর্মরত অবস্থায় তিনি আর্মি হেডকোয়ার্টারের অনুমতি নিয়ে ফার্মগেটস্থ ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল থেকে ভিট্রিও-রেটিনা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া, ঢাকা থেকে ডিপ্লোমা ইন অপটোমেট্রি (লো ভিশন) এবং মাস্টার্স অব পাবলিক হেলথ (কমিউনিটি) সম্পন্ন করেন।

স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও তার অবদান ছিল প্রশংসনীয়। এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য তিনি বিভিন্ন সময় বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচির আয়োজন করতেন। অসুস্থ ও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করতেন। কেউ রক্তের প্রয়োজন হলে তিনি নিজে উদ্যোগ নিয়ে রক্তদাতার ব্যবস্থা করে দেন। মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানো ছিল তার জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রাথমিক চক্ষু সেবা প্রদান করে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন নিষ্ঠা, দক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে। তাঁর এই সেবাধর্মী মনোভাবেরই ধারাবাহিকতায় তিনি দেবীগঞ্জ উপজেলার গালান্ডী বাজারে একটি চক্ষু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন, যেখান থেকে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবা পেয়ে আসছেন।


সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয়। পরিবেশ রক্ষায় তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা এবং মানুষকে গাছ লাগানোর জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন। বিভিন্ন রাস্তার পাশে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং খালি জায়গায় তিনি নিজ উদ্যোগে অসংখ্য গাছ রোপণ করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, “একটি গাছ একটি প্রাণ, আর সবুজ পরিবেশই সুস্থ জীবনের ভিত্তি।”

বর্তমানে তিনি পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং লেখালেখির মাধ্যমে তাঁর সৃজনশীল জীবনকে আরও সমৃদ্ধ করে চলেছেন।

প্রিন্ট করুন