দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের পুকুরের মাছ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের দুটি সরকারি পুকুরে প্রায় তিন বছর আগে সরকারি অর্থায়নে মাছ ছাড়া হলেও সেসব মাছ ভোগ করার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরিন আক্তারের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা পরিষদের আওতাধীন পুকুর দুটিতে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করা হচ্ছে।
বর্তমানে পুকুরের মাছগুলোর অনেকটির ওজন প্রায় ৪ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত হয়েছে। এসব মাছ সরকারি অর্থে ছাড়া হলেও সাধারণ জনগণ কিংবা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তা বিতরণ না করে ইউএনও নিজেই ভোগ করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দাউদকান্দি থেকে বদলি হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে ইউএনও নাছরিন আক্তার উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ ধরিয়ে সরকারি গাড়িতে করে ঢাকায় নিয়ে যান। স্থানীয়দের দাবি, ওই সময় ৪০ কেজিরও বেশি মাছ নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এদিকে গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ইউএনও নাছরিন আক্তার দায়িত্ব হস্তান্তর করে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। দায়িত্ব হস্তান্তরের সময়ও উপজেলা পরিষদের পুকুরের মাছ সরকারি গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা পরিষদ ও আশপাশের কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি অর্থে মাছ ছাড়া হলেও পুকুরের মাছ সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্তভাবে ব্যবহারের সুযোগ নেই।
বিশেষ করে উপজেলা পরিষদ মসজিদের পাশের পুকুর ও ইউএনওর বাসভবনের সামনের পুকুরের মাছ নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুকুরের মাছ সুস্বাদু ও বড় আকারের হওয়ায় মাছগুলোর প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। বদলির সময় মাছ নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে ইউএনও নাছরিন আক্তারের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সরকারি পুকুরের মাছ ধরার ক্ষেত্রে কোনো বিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে পরিচালিত পুকুরের মাছ ব্যক্তিগতভাবে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।




