দুদকে গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ তামজিদ হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:
ঢাকা: গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল-মেকানিক্যাল (ই-এম) বিভাগ-৫-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ তামজিদ হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই-এম বিভাগ-৩-এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবদুল খালেক আকন ও নির্বাহী প্রকৌশলী এস. এম. মইনুল হকের ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে একজন ঠিকাদারের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের দৃশ্য রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবদুল খালেক আকনকে বদলি করা হলেও পরবর্তী সময়ে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীর দাবি। এ বিষয়ে ভিডিও ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ দুদকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই ভিডিও ও সংশ্লিষ্ট ঘটনার তদন্ত ঠেকানো এবং বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ বন্ধ করার কথা বলে নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ তামজিদ হোসেন অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করেন। তিনি নিজেকে সাংবাদিক ও দুদক কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, এভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৩০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, সৈয়দ তামজিদ হোসেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ফোন করে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশের আশঙ্কার কথা জানান এবং সাংবাদিক ও দুদকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার কথা উল্লেখ করে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রস্তাব দেন।
এ ছাড়া দপ্তরের অন্যান্য ঠিকাদার ও কর্মচারীদেরও বিষয়টি নিয়ে মুখ না খোলার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারী মনে করেন, সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগটি গুরুতর। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।




