খুঁজুন
, ,

খাদ্য সেক্টরের দাপুটে সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে গিয়ে হুমকির মুখে সচিব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৪, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
[shared_counts]
খাদ্য সেক্টরের দাপুটে সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে গিয়ে হুমকির মুখে সচিব

 

বিশেষ প্রতিনিধি

খাদ্য সেক্টরের বেজায় দাপুটে সিন্ডিকেট ভাঙ্গার উদ্যোগ নেওয়ায় খোদ খাদ্য সচিবই বিপাকে পড়েছেন। সিন্ডিকেটের হুমকির মুখে রয়েছেন তিনি। গেল অক্টোবরে নিয়োগ পাওয়া সচিব মো. মাসুদুল হাসানকে বিতর্কিত করার মাধ্যমে হটিয়ে দিতে উল্টো সিন্ডিকেট সদস্যরাই জোট বেধেছে।

তারা মতিঝিলে প্রভাবশালী এক খাদ্য ঠিকাদারের অফিসে গোপন বৈঠক করে সচিব হটাতে দশ কোটি টাকার তহবিল পর্যন্ত গঠন করেছে। ওই তহবিলের টাকায় বিভিন্ন মিডিয়ায় একের পর এক সংবাদ প্রকাশ করে খাদ্য সচিবকে বিতর্কিত করাসহ উচ্চ আদালতে রীট দাখিলের মাধ্যমে বেকায়দায় ফেলারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সচিব মো. মাসুদুল হাসান খাদ্য মন্ত্রনালয়ে দায়িত্ব পেয়েই সিন্ডিকেট বিরোধী নানা আদেশ নির্দেশ জারি করায় সোহাগ-জসিম-সাধনদের মতো দশটিরও বেশি সিন্ডিকেট চরম বিপাকে পড়ে।

এসব চক্র বছরের পর বছর ধরে খাদ্য অধিদপ্তরসহ মন্ত্রনালয়কে জিম্মি করে নিজেদের খেয়াল খুশি মতো খাদ্য সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। সচিবের কঠোর ভূমিকায় খাদ্য সরবরাহকারী মিল মালিক চক্রের অপকর্মও ফাঁস হয়ে গেছে, বেরিয়ে এসেছে ডিলার চক্রেরও নানা কারসাজি।

এমন পরিস্থিতিতে গত ৮ নভেম্বর রাতে অভিযুক্ত সিন্ডিকেট ব্যবসায়িরা মতিঝিলে গোপন বৈঠকে বসে। বরাবরই আওয়ামী ঘরানার ঠিকাদার ও মিল মালিকরা সিন্ডিকেট গড়লেও তাদের চক্রান্ত সফল করতে এবারই প্রথম বিএনপি সমর্থক দুই ঠিকাদারকে সিন্ডিকেটভুক্ত করার তথ্য পাওয়া গেছে।

বিএনপি ব্যানারের দুই ঠিকাদারকে সামনে নিয়ে শামীম ওসমানের গড়া সোহাগ-গম জসিম সিন্ডিকেট খাদ্য সেক্টরকে লুটপাটের আখড়া বানাতে চায় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বর্তমান খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাসুদুল হাসান ও খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আব্দুল খালেক দায়িত্ব নেওয়ার পর খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন নতুন সচিবের নানা উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন পর সিন্ডিকেট মুক্ত হলো নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা মহানগরসহ অন্যান্য জেলার বেসরকারি ময়দার মিলের গম বরাদ্দ। ২০২২ সালের পর এই প্রথম বেসরকারি ময়দার মিলে সরকারি গম বরাদ্দ নীতিমালা ২০২২ (সংশোধিত) কার্যকর হয়েছে।

গত ৩ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে খাদ্য সচিব হিসেবে যোগদান করেন মো. মাসুদুল হাসান। যোগদানের পরই সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে তিনি বেসরকারি ময়দার মিলের সরকারি গম বরাদ্দ এবং চাল, আটা বিক্রিও অনুমোদন প্রদান করেন।

একইসঙ্গে ইতিপূর্বে জারিকৃত সকল পরিপত্র বাতিল করে নীতিমালা অনুযায়ী ঢাকা মহানগরসহ অন্যান্য জেলায় তালিকাভুক্ত ময়দার মিলগুলোকে গম বরাদ্দের আদেশ জারি করেন। খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আব্দুল খালেক গত ৩১ অক্টোবর সচিবের জারিকৃত চিঠি সকল জেলায় প্রেরণ করেছেন।

সাবেক খাদ্য সচিব ইসমাইল হোসেন ২০২২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বেসরকারি ময়দার মিলে সরকারি গম বরাদ্দ নীতিমালা ২০২২ প্রণয়ন করেছিলেন। কিন্তু তিনি নিজে নীতিমালা প্রণয়ন করেও নীতি বহির্ভুত কাজ করেছেন, সকল ক্ষেত্রেই খাদ্য সিন্ডিকেটের একচেটিয়া সুবিধা নিশ্চিত করেছেন।

নারায়নগঞ্জের শামীম ওসমান ও তার দোসর সোহাগ ছাড়া খাদ্য অধিদফতরে আর কোন ব্যবসায়ী বা মিল মালিক খাদ্য অধিদপ্তরে প্রবেশও করতে পারতো না। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক খাদ্য সচিব বিপুল পরিমাণ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে নারায়ণগঞ্জের মিল মালিকদের অনৈতিকভাবে গম বরাদ্দের সুযোগ করে দিয়েছিলেন।

যা নীতিমালা পরিপন্থি ও বেআইনি কাজ ছিল। সাবেক খাদ্য সচিবের এমন কর্মকান্ডে অন্যান্য মিল মালিকরা মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন। এরপরও তারা টু শব্দটি পর্যন্ত করতে সাহস পেতেন না।

সোহাগ ও গম জসিমের সিন্ডিকেটে জিম্মি খাদ্য সেক্টর

২৯ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে খাদ্য সচিব নভেম্বর ২০২৪ এর চাল আটা বিক্রির অনুমোদন প্রদান করেন। “বেসরকারী ময়দার মিলসমূহে সরকারী গম বরাদ্দ নীতিমালা ২০২২ (সংশোধিত)” আবশ্যিক ভাবে অনুসরণ করার শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়।

এরপর বিভিন্ন ভাবে গড়িমসি ও সময়ক্ষেপণ করেও শেষ রক্ষা হয়নি, সচিবের কঠোর ভূমিকা ও নজরদারির কারণে ০৬ নভেম্বর ঢাকা মহানগরসহ অন্যান্য জেলায় গম বরাদ্দ দিতে হয়েছে। কিন্তু স্বচ্ছতার সাথে এ বরাদ্দ প্রদানের বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না খাদ্য অধিদপ্তরের সরবরাহ, বন্টন ও বিপনন বিভাগের কর্মকর্তারা।

সিন্ডিকেটের আজ্ঞাবহ পরিচালক মোঃ আব্দুস সালাম (সরবরাহ, বন্টন ও বিপনন) আগেরদিন অর্থাত ৫ নভেম্বর ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে বিভ্রান্তিমূলক চিঠি পাঠান ঢাকা মহানগরসহ শ্রমঘন জেলার খাদ্য কর্মকর্তাদের কাছে। এতে নারায়নগঞ্জ জেলার কতিপয় মিলে (সিন্ডিকেট সদস্যদের মালিকানাধীন) সরকারি গম বরাদ্দ দেওয়া যাবে কি না সে বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়।

পাশাপাশি টেলিফোন নির্দেশনায় ঢাকা রেশনিংসহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের নারায়নগঞ্জের মিলসমূহে সরকারি গম বরাদ্দ দেওয়ার পক্ষে মতামত প্রদানে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। খাদ্য সেক্টরকে টানা ১৭ বছর যাবত কব্জা করে রাখা সোহাগ-জসিমের নারায়নগঞ্জ সিন্ডিকেটের মিলসমূহে সরকারি গম বরাদ্দ দেওয়ার জন্য ‘অতীব জরুরি’ চিঠি কেন- তা নিয়ে সকল মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে সোহাগ-জসিম সিন্ডিকেটের বাইরে কোনো মিল মালিক, খাদ্য ঠিকাদার এমনকি ডিলার পর্যন্ত খাদ্য অধিদপ্তরের ধারে কাছে ঘেষতে পারেন না। তাদের আঙ্গুলী নির্দেশনা ছাড়া খাদ্য সেক্টরের টুকিটাকি সাপ্লাইয়ের কাজও কারো ভাগ্যে জোটে না। সেই দাপুটে সিন্ডিকেটই পুনরায় সরকারি বরাদ্দের সিংহভাগ গম নারায়নগঞ্জের মিলসমূহের জন্য বাগিয়ে নিলে সারাদেশে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হবে। সারাদেশের সাধারন মিল মালিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এবারও শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সিন্ডিকেটকে খাদ্য নীতিমালা ভঙ্গ করে গম বরাদ্দের পাঁয়তারা চালানো হলে তারা প্রধান উপদেষ্টার সরনাপন্ন হতে বাধ্য হবেন।

ধারাবাহিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মিল মালিকসহ ঠিকাদাররা অভিযোগ করে জানান, গত ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পরও সাবেক খাদ্য সচিব ইসমাইল হোসেন এনডিসি শামীম ওসমানের সহযোগী ব্যবসায়ীদের মিলগুলোতে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসেরও গম বরাদ্দ দিয়েছেন। দুর্নীতিসহ নানা অপকর্মের কারণে খাদ্য সচিব ইসমাইল হোসেনকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও তার অবৈধ আদেশসমূহ যথারীতি নহাল রাখা হয়েছে।

এ সিন্ডিকেটের কারনে গত ১৭ বছর কোন ব্যবসায়ী সরকারী গম বরাদ্দ ঠিকমত নিতে পারেনি। তারা নারায়নগঞ্জের মিলগুলোর নামে বরাদ্দ নিয়ে উন্নতমানের সরকারী গম কালোবাজারে বিক্রি করে দেন এবং নিম্নমানের পশুখাদ্যের গম দিয়ে আটা বানিয়ে কিছু আটা প্রদান করেন ও বাকী আটা ডিলারের সাথে সমন্বয় করেন। এ গম চুরি নিয়ে সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা মোঃ জসিমের নামে দুদকে ৫০০ কোটি টাকার সরকারী গম চুরির তদন্ত চলমান রয়েছে। এরপরও খাদ্য অধিদপ্তর ওই অভিযুক্তদের অনুকুলেই কেন সরকারি বরাদ্দের সুবিধা দিতে চায়?

অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেট সদস্যরা একচেটিয়া বরাদ্দ হাতিয়ে নেওয়ার বিনিময়ে খাদ্য অধিদপ্তরের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে কোটি কোটি টাকা প্রদান করে থাকে। অনেক কর্মকর্তাকে দামি গাড়ি, ঢাকায় প্লট-ফ্ল্যাট উপহার দেওয়া ছাড়াও প্রতি বছর স্বপরিবারে ইউরোপ-আমেরিকায় অবকাশ যাপন, সন্তানদের বিদেশে পড়াশুনার খরচ, মেডিকেল চেকআপ করানোসহ নানারকম দায়িত্ব পালন করে সিন্ডিকেট। এসব সুবিধা হাতছাড়া না করতেই অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মন্ত্রী-সচিবের নির্দেশকেও পাত্তা দেয় না। তাদের চাকরি ক্ষেত্রে কোনো ঝুট ঝামেলা হলেও সিন্ডিকেট সদস্যরা যে কোনো মূল্যে তা মিটিয়ে থাকেন বলেই দিন দিন তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

সরকারকে বেকায়দায় ফেলার সিন্ডিকেট ষড়যন্ত্র

সূত্র জানায়, চিহ্নিত কয়েকটি সিন্ডিকেট সারাদেশের মোট সরকারি গম বরাদ্দের ৭০ ভাগ নীতিমালা বহির্ভূত ভাবে নারায়নগঞ্জের মিলের মাধ্যমে নিয়ে যেতেন। ভুয়া কাগজপত্রে মিলের মালিক সেজেই নেওয়া হতো এ গম বরাদ্দ। সরকারী উন্নতমানের গম কালোবাজারে বিক্রি করে নিম্নমানের গো খাদ্যের গম দিয়ে আটা তৈরি করে ঢাকা মহানগর সহ অন্যান্য শ্রমিকঘন জেলায় সরবরাহ করতেন। সাবেক সচিব ছিলেন তাদেরই কেনা গোলাম। শুধু তাই নয় খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক থেকে শুরু করে সকল পরিচালক (বিশেষ করে সরবরাহ, বন্টন ও বিপনন বিভাগের) তাদেরই আজ্ঞাবহ। এরইমধ্যে সাবেক সচিব ইসমাইল হোসেনকে দুর্নীতির জন্য সরকার অব্যাহিত দিয়েছে।

নতুন সচিব যোগদানের পর জেলাগুলোতে নীতিমালা অনুসরণ না করে গম বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং এ ব্যাপারে তিনি আপোষহীন ভূমিকা গ্রহণ করেন। খাদ্য মন্ত্রনালয়ের সচিব মোঃ মাসুদুল হাসান চলতি নভেম্বর মাসে নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণপূর্বক ওএমএস খাতের চাল ও আটা বিক্রির নির্দেশ দেন। এ নীতি অনুসরণ করলে সাধারণের উপকার হবে এবং তারা নিয়মিত নির্ধারিত মূল্যে চাল ও আটা পেতে কোন বাধা থাকার কথা নয়।

কিন্তু খাদ্য সেক্টর জিম্মি রাখা ঠিকাদার সিন্ডিকেটের পরামর্শে অধিদপ্তরের বিশেষ সুবিধাভোগী পরিচালকরা নীতিমালা অনুসরণের অজুহাতে নানা জটিলতা বাধিয়ে যথাসময়ে গম বরাদ্দ বাধাগ্রস্ত করার ফন্দি এটেছে। এতে অচিরেই ওএমএস খাতে অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হবে এবং সচিবসহ গোটা সরকারই বেকায়দায় পড়বে। তখন জরুরি পরিস্থিতিতে নীতিমালা পূণরায় পরিবর্তনের মাধ্যমে নারায়নগঞ্জের মিলকেই সিংহভাগ সরকারি গম বরাদ্দ দিতে বাধ্য হবে সরকার। সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রের এমন কৌশলী ছক আঁকার কারিগর হচ্ছেন শামীম ওসমানের ঘনিষ্ট সহযোগী সোহাগ-জসিম সিন্ডিকেট। জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করে সিন্ডিকেট হোতা সোহাগ অস্ত্র হাতে দলবল নিয়ে রাস্তায় নামেন, মেতে ওঠেন নানা অরাজকতায়। সেই সোহাগের নেতৃত্বাধীন ব্যবসায়ি সিন্ডিকেটই এখন আবার সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ভিন্ন কৌশলে তৎপরতা চালাচ্ছে। সব দায় অন্যের কাধে চাপাতে নিজের সিন্ডিকেটেই যুক্ত করেছেন বিএনপি ঘরানার দুই ঠিকাদার ও মিল ব্যবসায়িকে।

সিন্ডিকেটের যাবতীয় ষড়যন্ত্রে যোগান দিচ্ছেন খাদ্য অধিদপ্তরের সরবরাহ, বন্টন ও বিপনন বিভাগের পরিচালক, ঢাকা রেশনিং এর প্রধান ও কতিপয় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। এসব চক্রান্তের কথা উল্লেখ করে যাবতীয় অনিয়ম থেকে প্রতিকার পেতে মিল মালিকগন গত মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা ও আইন উপদেষ্টা বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করেছেন। এছাড়াও খাদ্য অধিদপ্তরের ঠিকাদার, মিল-মালিকগন পৃথক পৃথক অভিযোগও করেছেন দুদকে।

গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতি ও ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
[shared_counts]
গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদের বিরুদ্ধে  কোটি টাকার দুর্নীতি ও ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ

 

 

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল-মেকানিক্যাল (ই-এম) বিভাগ-৫-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ তামজিদ হোসেনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, ঘুষ বাণিজ্য, ভুয়া বিলে অর্থ ছাড়, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

২০১৩ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদানের পর থেকে বিগত ১৩ বছরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদ হোসেন বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ না করেই ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে সরকারি অর্থ ছাড় করেছেন। এছাড়াও, পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট হারে উৎকোচ বা ‘পার্সেন্টেজ’ গ্রহণ করতেন। দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম ও কারচুপির মাধ্যমে তিনি বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

গত ২২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদ হোসেনের অনিয়ম ও দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বাকী বিল্লাহ নামের এক ব্যক্তি।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং বিভিন্ন সাংবাদিকের নাম ভাঙিয়ে ই-এম বিভাগ-৫-এর এই কর্মকর্তা প্রায় ৫০ লাখ টাকার চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েন।

শুধু আর্থিক দুর্নীতিই নয়, এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর নৈতিক স্খলনের অভিযোগও পাওয়া গেছে। গৃহকর্মী সুফিয়াকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং আইনগত আইনি প্রক্রিয়া এড়াতে তিনি প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করেন বলে তথ্যে উঠে এসেছে।

চাকরি জীবনের মাত্র ১৩ বছরে সৈয়দ তামজিদ হোসেন নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সম্পদ।

ধানমন্ডি ২৭/১ (রবীন্দ্র সরোবর ৮ নম্বর ব্রিজের ঢালে) একটি বহুতল ভবনে আনুমানিক ৫ কোটি টাকা মূল্যের ৩৫০০ বর্গফুটের একটি রাজকীয় ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন তিনি।

মোহাম্মদপুর ২৭/১, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটির টেক রোড নম্বর ৭-এ শ্বশুর মোঃ জাহিদ মিয়ার সাথে যৌথ মালিকানায় একটি ৭ তলা বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন।

যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা।রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নিজ নামে ও বেনামে প্রায় ৩০ একর জমি ক্রয় করার তথ্য পাওয়া গেছে।

এসব দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অপরাধের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই-এম বিভাগ-৫-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ তামজিদ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর কোনো বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে তা প্রকাশ করা হবে।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি কোনো ইনডোর গেম নয়: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আবদুস সবুর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ
[shared_counts]
আওয়ামী লীগের রাজনীতি কোনো ইনডোর গেম নয়: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আবদুস সবুর

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আবদুস সবুর বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি কোনো ইনডোর গেম নয় এবং এই দল আচমকা কোনো বৈশাখী ঝড়ে ভেসে আসেনি।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো ব্যাকডোর সমঝোতায় বিশ্বাস করে না এবং কোনো গুপ্ত বা সুপ্ত নেতৃত্বের হিসাব-নিকাশও বোঝে না। ইতিহাসই তার সাক্ষী—এই দলের শিরায় শিরায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্তের সাহস এবং দলটির সভা প্রতি শেখ হাসিনার অবিনাশী সংগ্রামের শক্তি প্রবাহিত।

ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আবদুস সবুর আরও বলেন, “আমরা অত্যন্ত পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই—গুপ্ত বা সুপ্ত বলে কিছু বুঝি না। তৃণমূলের আওয়ামী লীগ একটাই সত্য জানে, তা হলো—আওয়ামী লীগ মানেই শেখ হাসিনা। প্রথমত, দ্বিতীয়ত, তৃতীয়ত এবং শেষ পর্যন্ত দেশের লাখ-কোটি মানুষ শেখ হাসিনাকেই তাঁদের সবচেয়ে আপনজন মনে করেন।”

গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতি ও ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ আওয়ামী লীগের রাজনীতি কোনো ইনডোর গেম নয়: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আবদুস সবুর গণপূর্তের আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে ডেভেলপার ব্যবসা ও অনিয়মের অভিযোগ দুদকে গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ তামজিদ হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ। বরিশাল গণপূর্তে ‘আওয়ামী দোসর’ ফয়সালের রাজত্ব: অপকর্মের পাহাড় সত্ত্বেও বহাল তবিয়তে! এক হাতে গাছের চারা, অন্য হাতে লাল কার্ড উঁচিয়ে মাদককে ‘না’ বলে শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমের  কাজ না করেই ৫ কোটি টাকার বিল সাবাড়: পাবনা গণপূর্তে প্রকৌশলী রাশেদ কবীরের জালিয়াতি অদৃশ্য নেটওয়ার্ক ও ছায়া পার্টনারশিপ গণপূর্তের প্রকৌশলীদের সিন্ডিকেট বাণিজ্য দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের পুকুরের মাছ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি বিধি ভেঙে ফ্ল্যাট ব্যবসা গণপূর্তের আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দুর্নীতি ও জালিয়াত চক্রের মাধ্যমে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তোলার অভিযোগ গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে গণপূর্তের ইএম জোনে বসতে কোটি টাকার চিঠি কিনলেন আলমগীর খান! চাঁদা না পেয়ে চরের ঘাসে বিষ: অসুস্থ ৩০ মহিষ, মারা গেছে তিনটি মহাসড়কে মাদক পাচার রোধে কড়া নজরদারি: দাউদকান্দিতে ওসি সাজেদুলের নেতৃত্বে একাধিক চালান জব্দ সৌদি তরুণের গুলিতে বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত, তিন তিন বারের নির্বাচিত সাবেক সফল চেয়ারম্যানের ছোট ভাই আমেরিকা প্রবাসি সাহনেওয়াজ সরকার সানুর চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা প্রতিদিনের কাগজের ফেসবুক পেজ হ্যাক ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে আনিসুর রহমান কারাগারে মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতিবাজ দুই কর্মকর্তা কর্মচারীর হাতে জিম্মি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ দেবিদ্বারে মাদরাসার দেয়াল ধসে শিক্ষার্থী নিহত: বিচারের অপেক্ষায় হাফেজ সিফাতের পরিবার বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুশীলন লেখক পরিষদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন গণপূর্তের আলমগীর খানের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ, তদন্ত চেয়ে আবেদন দাউদকান্দি থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ ওসি: ক্রেস্ট ও ১২টি অর্থ পুরস্কার অর্জন গণপূর্তের প্রকৌশলী মইনুলের বিরুদ্ধে ২.৬৩ কোটি টাকার আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগ কুমিল্লা দাউদকান্দি মোহনা টেলিভিশনের অফিসের মালামাল লুটের ঘটনায় গ্রেফতার দুইজন ।  দাউদকান্দিতে মাদকবিরোধী শপথ ও মতবিনিময় সভা: শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করল লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ