রাজউক পরিদর্শক সোহাগ মিয়ার দালালি সাম্রাজ্য: শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ।
নিজস্ব প্রতিবেদক |
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৪/২ (মহাখালী)-এর ইমারত পরিদর্শক মো. সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধে উঠেছে অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ। রাজনৈতিক পরিচয় আর প্রভাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন শত কোটি টাকা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সোহাগ মিয়া একসময় ছাত্রলীগের পরিচয়ে দাপট দেখালেও পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজের রূপ বদলেছেন। বর্তমানে তিনি সরকারের উচ্চপদস্থ উপদেষ্টাদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে রাজউকে নিজের একক আধিপত্য বজায় রাখছেন। তার এই দাপটের সামনে জোন-৪/২-এর সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।
মহাখালী ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অসংখ্য নকশাবহির্ভূত ভবন গড়ে তোলার পেছনে সোহাগ মিয়ার প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো অবৈধ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হলেও, অদৃশ্য কারণে তা মাঝপথেই থমকে যায়।
অভিযোগ আছে, মোটা অঙ্কের উৎকোচ এবং মুচলেকার বিনিময়ে এসব অবৈধ স্থাপনাকে বৈধতা দেওয়া হয়। স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট হারে ‘পার্সেন্টেজ’ বা কমিশন ছাড়া এই জোনে কোনো ফাইল নড়ে না।
নির্মাণাধীন ভবনের অনুমোদন নিতে আসা সাধারণ গ্রাহকদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। সোহাগ মিয়া ও তার দালালি সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় করছে। অনেক ক্ষেত্রে “উপরে টাকা পাঠাতে হয়” এমন অজুহাতে প্রকাশ্যে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। তার দাবি করা অর্থ না দিলে ভবনে ত্রুটি খুঁজে বের করে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
রাজউকের অভ্যন্তরে সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ থাকলেও কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না। তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই বদলি বা বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দেওয়া হয়।
ফলে প্রশাসনের নাকের ডগায় বসেই তিনি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।
এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের উৎস এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে রাজউকের উচ্চপর্যায় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
[বিস্তারিত আসছে পরবর্তী সংখ্যায়…]




