খুঁজুন
বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩

হোসাইন মোহাম্মদ দিদার কবিতার ভুবনে এক যাদুকরী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০২৫, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

হোসাইন মোহাম্মদ দিদার কবিতার ভুবনে এক যাদুকরী নামতৌফিক রুবেল : বুক পকেট মৃত্যু নিয়ে এই জনপদের এক কবি ঘুরছেন রাতবিরেত। বুক পকেটে মৃত্যু নিয়ে কী শুধু কবিই ঘুরে! কে মৃত্যু বুকে না নিয়ে ঘুরে? মৃত্যু বুকে নিয়ে ঘুরে রাজা থেকে প্রজা, ফেরিঅলা, ফুল ও ফল বিক্রেতা। মূলত সৃষ্টি মানেই লয়। আমরা প্রকৃতার্থে বুক পকেটে মৃত্যু নিয়ে ঘুরছি।আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে নীরবে কবিতার আলোয়ে ঘুমন্ত বিবেক জাগ্রত করে তুলছেন এই সমাজের এক তরুণ তুর্কী হোসাইন মোহাম্মদ দিদার। তিনি কবিতা লিখে চলছেন প্রায় দুই যুগের অধিক সময় ধরে। তার কবিতায় সুফিবাদের তীব্র দর্শন পরিলক্ষিত। যে একবার তার এই সুফিবাদে অবগাহন করেছে; সে জানে খোদ তার কবিতা মুধুময় অমিয় স্বাদে ভরপুর। তার হাতের লেখায় ইসলামি দর্শন যেন কমন। তিনি তার দর্শনে রাষ্ট্র, সমাজ সংক্রমণের কথা বলার পাশাপাশি, তা থেকে পরিত্রাণের কথাও চমৎকারভাবে বন্দনা করেছেন। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ এ পর্যন্ত ৭ টি। এরমধ্যে থেকে সবকটি কবিতার বইয়ে খোদাপ্রেম, খোদা ভীতি, নবী প্রেম দেখতে পাই। সর্বশেষ প্রকাশিত কবির তিনটি কবিতার বই— অন্যরকম মেঘ, সে ফিরবে না আর ও বুক পকেটে মৃত্যু নিয়ে ঘুরি। এই তিনটি গ্রন্থের ভিতরে যাপিত জীবনের সকল ক্ষত আরগ্য হওয়ার মত নির্যাস রয়েছে। তিনি তার সর্বশেষ প্রকাশিত” বুক পকেটে মৃত্যু নিয়ে ঘুরি ” কাব্যগ্রন্থে একটি কবিতায় লিখেছেন, ‘আমি তো চেয়েই এনেছি তোমার থেকে দুঃখ/ সইতে যেন পারি প্রস্তুত করো আমার বক্ষ। মানুষ যখন দুঃখে থাকে তখন সেটা রবের পক্ষ থেকেই উপহার হিসেবে আসে, একথাই কবি তার লিখিত কাপলেটে বুঝাতে চেয়েছেন। এবং সেই দুঃখ যদি পাহাড়সমও হয় তা যেন সহ্য করতে পারেন সেজন্য রবের প্রতি প্রার্থনাও জানিয়েছেন। দোযখ নামে আরেকটি কাপলেটে কবি লিখেছেন, ‘নাচে চোখের সামনে দোজখ / অথচ বেহেশত যাওয়ার শখ’।আসলে আমাদের পারিপার্শ্বিক সমাজ ব্যবস্থা এমন পর্যায়ে গেছে যেন ঘর থেকে বের হলেই বেলেল্লাপনা চোখের সামনে এসে উপস্থিত হয়। এই অবস্থায় মানুষের ঈমান ধরে রাখা কতোটা কঠিন সেই কথাটিই কবি তার কাব্যিক ভাষায় বলেছেন। এভাবেই নানান উপমা আর ছন্দেবন্দে কালের কথা বলেছেন। স্রস্টার অস্তিত্বের জানান দিতে গিয়ে কবি তার সৃষ্টি ‘মিরাকল’ নামক কবিতায় লিখেছেন পৃথিবীর মিরাকল বলতে যদি কিছু থাকে সেটা তো— ‘তুমিই’। আসলেই তো দুনিয়ায় সবচেয়ে রহস্যময় ও আশ্চর্যের বিষয়তো স্রস্টাই। নবির প্রেমের জানান দিতে ‘আমিনা মায়ের কোলে’ নামক কবিতায় তিনি লিখেছেন—”সেই ফুলের খুশবু মেখে/ পথ চলিব হেসেহেসে; সেই ফুলেতে প্রাণ সপেছি/ সকল কিছু ভুলে।”নবি প্রেম একটা নিঃস্ব মানুষকে আশা জাগায়, আলোকিত জীবন উপহার দেয়। তার লেখায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে নবি প্রেমে নিজেকে সপে দিতে দারুণভাবে উদ্বুদ্ধ করবে।বলাবাহুল্য জীবন যার কবিতা সঙ্গী। যার কবিতা দুঃসময়ে হয়ে ওঠে হাতিয়ার। পথ দেখায় আলোর। ভাঙা হৃদয় করে একত্রীকরণ। অবচেতন বিবেকে করে তুলে জাগ্রত। তরুণ এই তুর্কীর হাতে কবিতার মশাল।বিশেষ করে গেল বছর-২৪ গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমির বিষয়টিকে কবি এভাবে বলেছেন বিপ্লবীদের যখন মৃত্যু বুক পকেটে থাকে। দেখা গেছে ঐ সময়টা একটা অনিশ্চিত সময়। মানুষ জীবন নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে লাশ হয়ে ফিরতে হতো। কুরআন-হাদীসে মৃত্যুর কথা বারবার স্মরণ করার তাগিদ দিয়েছেন আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুল(সা.)। তবে কবিতার মাধ্যমে মানুষকে মৃত্যুর কথা স্মরণ করে দিয়েছেন এ কবি বারংবার । তার ‘বুক পকেটে মৃত্যু নিয়ে ‘ কাব্যগ্রন্থটি যে একবার পড়বে সে আর স্থির থাকতে পারবে না। বারবার নিজেকে হারাবে মৃত্যুর গহ্বরে। ঐসব সমসাময়িক নানান বিষয়ে মহুয়া কবিতার শব্দে বন্দে ছন্দে স্রস্টা, নবি প্রেম, মানবিক প্রেম,সুফিজম, মাটি ও মানুষকে হৃদয়ে ধারণ করে লেখা তার প্রকাশিত গ্রন্থগুলো একদিন মানুষের হৃদয় জয় করবে এমনটাই ধারণা করা যায়। ইসলামি রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদ, আল-মাহমুদ কিংবা মতিউর রহমান মল্লিক যে পথে হেঁটেছেন। বলা যায়, তরুণ কবি হোসাইন মোহাম্মদ দিদার অনেকটাই সেই পথ ধরেই হাঁটছেন। ক্লান্তিহীন এই পথচলা কবিকে একদিন হয়তো অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে। কবি চান কবিতার মাধ্যমে একটি মানবিক পৃথিবীর কথা বলতে,বারবার নবি প্রেম ও খোদা প্রেম কিংবা দেশ প্রেমের বিশদ বর্ণনা ফুটে ওঠেছে তার সব কবিতায় ও প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থে।মানুষের ভাষা বুঝে, দাবি বুঝে লেখার সক্ষম কবি হিসেবে ইতিমধ্যে পাঠকের মনমণিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছেন তরুণ এই কবি।কবি তাঁর বহুমাত্রিক কবিতার তুলির আছড়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের কথাও সাজিয়ে ধরছেন অপরুপ বর্ণনা ভঙ্গিতে। তাঁর কবিতা হৃদয় জাগাবে,জয় করবে মন।শান্তির পায়রা উড়িয়ে দিতে চান তার কবিতার মাধ্যমে, তিনি চমৎকার লিখেছেন এইটুকু কবিত্ব জীবনে। কালের পরিক্রমায় এই কবি যদি সুদীর্ঘকাল কবিতা লিখতে পারেন তাহলে তার কবিতার সুন্দরের ধ্বনি, কবিতার মাধ্যমে বলা মানবতার জয়গানের ধ্বনি পৌঁছে যাবে গোটা দুনিয়া জুড়ে।শেষ করছি কবির” পৃথিবীটা সেদিন মানুষের হতো একটি কবিতার পংক্তি দিয়ে তিনি লিখেছেন—”পৃথিবীটা সেদিন মানুষের হতো যদি প্রতিটা মানুষ মানুষ হতো/ পৃথিবীটা সেদিন মানুষের হতো যদি পৃথিবীতে কোনো সংঘাত না হতো।”তিনি তার সর্বশেষ কবিতার বইয়ে ব্যতিক্রমধর্মী ভাবনায় কিছু কবিতা লিখেছেন যা পাঠকের কাছে খুব হৃদয়স্পর্শী মনে হবে। তিনি আমার এখন খুব ভয় করে কবিতায় লিখেছেন,”এখন আমার পোশাকধারী দেখলেই ভয় করে/সাদা পোশাকধারী দেখলেও ভয় করে/সামরিকবাহিনীকে দেখলে তো ভয়ে তটস্থ থাকি/ এখন ভয় করে আমার প্রাক্তন প্রেমিকাকে দেখলেও।”মূলত তিনি ২৪ এর জুলাই বিপ্লবের করুণ আর্তনাদ, অগণিত তরুণ যুবার আত্মাহুতির কথা সুকৌশলে তুলে ধরেছেন। এই সুগভীর চিন্তা ও দর্শন যে কাউকে মর্মাঘাত করার পাশাপাশি ঘুমন্ত বিবেক জাগ্রত করবে।এই গ্রন্থের, আমাকে পড়তে চাইলে,অনুকাব্যে তিনি লিখেছেন, ” দূর থেকেও পড়তে চাইলে পড়তে পারো আমায়/ চোখের তারা বলে দিবে কতটুকু ভালোবাসি তোমায়।”তিনি হয়তো তার সমগ্র দেহের আয়না হিসেবে চোখের তারাকে বুজিয়েছেন। হয়তো তার চোখের চাহনিযুক্ত তারা অনায়াসে বলে দিতে সক্ষম কবির ভালোবাসা কেমন সুগভীর। কবিকে দেখতে চাইলে হয়তো তার চোখের তারায় তাকিয়ে বলতে পারব।কতটুকু ভালোবাসেন তিনি মানুষ ও জগত।পৃথিবীর মানুষের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে মানুষকে সংশোধিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কবি। যদি মানুষের পৃথিবী হয় তাহলে এত হানাহানি সংঘাত খুনখারাবি কেনো? পৃথিবীর আর সৃষ্টিরাজি তো মানুষের মতো এত হানাহানি করে না, মানুষ কেনো সৃষ্টির সেরা হয়ে এত রাহাজানি করছে। তাহলে আর শ্রেষ্ঠত্বর মূল্য কী? কবি চান মানুষের হৃদয় জাগুক। মানবতার সেবায় মানুষ এগিয়ে আসুক।তবেই পৃথিবীটা শান্তির হবে। পরিশেষে বলা যায়, কবি হোসাইন মোহাম্মদ দিদার একজন খ্যাতিমান কবি হিসেবে সমাদৃত হবেন। তার কবিতা ফুলের ঘ্রাণের মতো চৌদিকে ম ম করে সুগন্ধি ছড়িয়ে দিবে গোটা দুনিয়া জুড়ে।দাউদকান্দিতাং-২৮/০৭/২০২৫ইং

বিনোদন ভিডিও সংবাদ

তারিখ দিয়ে সংবাদ খুজুন

সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

দুর্নীতির নগর রাজত্ব পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার অধীনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত রাজউক 

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
দুর্নীতির নগর রাজত্ব পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার অধীনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত রাজউক 

 

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:

রাজউক—যে প্রতিষ্ঠানটির নাম দেশের নাগরিকদের কাছে ছিল একসময় স্বপ্নের আরেক নাম, আজ তা পরিণত হয়েছে দুর্নীতির মহাসিন্ডিকেটে রূপান্তরিত এক ভয়াবহ প্রশাসনিক ‘ডার্ক জোন’-এ। আর এই অন্ধকার সিস্টেমের কেন্দ্রে অবস্থান করছেন এক ব্যক্তি—পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া—যিনি আজ শুধুই একজন সরকারি কর্মকর্তা নন, বরং রাজউকের গায়ে শেকড় গেড়ে বসা এক দুর্নীতিচক্রের নির্লজ্জ সম্রাট।

 

তিনি যেন নিজেই প্রতিষ্ঠানের উপরে প্রতিষ্ঠিত এক প্রভু—যার নিয়ন্ত্রণে চলছে গোপন আর্থিক সাম্রাজ্য, যেখানে ব্যতিক্রম নয়—ঘুষের অঙ্ক, ক্ষমতার দম্ভ, অদৃশ্য চুক্তি এবং এক ভয়ংকর আমলাতান্ত্রিক তস্করগোষ্ঠীর স্বাধীন অভিযান।

 

সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার অধীনে রাজউকের মহাখালী জোন আজ কার্যত রূপ নিয়েছে ‘কর্তৃত্ববাদী দুর্নীতির হেডকোয়ার্টার’-এ। এখানে নির্মাণ পরিদর্শকরা আর নির্মাণ আইন প্রয়োগকারী নন—তারা এখন ঘুষ বাণিজ্যের টেকসই ‘ম্যানেজার’। প্রতিটি ফাইল আটকে রাখার পেছনে রয়েছে অর্থবাণিজ্যের হীনচক্র, যা পরিচালকের সরাসরি জ্ঞাতসারে সংঘটিত হচ্ছে বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। রাজউকের মূলনীতি ও আইনি কাঠামো এখানে শুধুই খোলস—তার আড়ালে গড়ে উঠেছে এক বিস্তৃত প্রশাসনিক ব্ল্যাকমার্কেট।

 

এই সিন্ডিকেটের অন্যতম কুশীলব ছিলেন মো. সোলাইমান হোসেন, যিনি ৩০ জানুয়ারি ২০২৫ সালে একজন সংবাদকর্মীর উপর প্রকাশ্যে হামলা চালিয়েছেন, শুধু এজন্য নয় যে তিনি সাংবাদিককে অপছন্দ করেন—বরং এটা ছিল পুরো চক্রটির বার্তা, “আমরা অপরাধী, কিন্তু ধরার কেউ নেই!” হামলার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছে, কিন্তু পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া এটিকে “তেমন কিছু না” বলে সরাসরি ধামাচাপা দিতে উদ্যত হয়েছেন। যদিও শেষপর্যন্ত তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। প্রশ্ন হচ্ছে—এমন স্পষ্ট অপরাধের বিচারহীনতা কি কেবল ঊর্ধ্বতনদের দুর্বলতা, নাকি তা পরিচালকের প্রশাসনিক মদতের প্রতিফলন?

 

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ শুধু পেশাগত নয়, ব্যক্তিগত পর্যায়েও ভয়াবহভাবে বিতর্কিত। অভিজাত ক্লাব, লাউঞ্জ আর বারগুলোতে তার নিয়মিত আসা-যাওয়া, মদ্যপান, নারীসঙ্গ—এসব নিয়ে প্রশাসনিক মহলে কানাঘুষা বহুদিনের। রাষ্ট্রীয় একজন কর্মকর্তার জীবনে যখন নৈতিকতার এমন দেউলিয়াত্ব আসে, তখন সেটি ব্যক্তিগত সীমা অতিক্রম করে রাষ্ট্রীয় নৈতিকতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তিনি যেন একজন আধুনিক-কালের দুর্নীতিগ্রস্ত কেলিগুলা, যিনি একাধারে ভোগবিলাস, ক্ষমতা ও ঘৃণ্য প্রশাসনিক দম্ভের প্রতীক।

 

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, তার সময়েই রাজউকের ইতিহাসে সবচেয়ে অযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো—মাত্র এসএসসি পাস আব্দুর রহিমকে প্রধান ইমারত পরিদর্শক হিসেবে! এমন এক পদ যেখানে প্রকৌশল, আইনি ও প্রশাসনিক দক্ষতা অপরিহার্য, সেখানে শুধুমাত্র ‘ঘুষ ক্ষমতা’ দিয়ে একজন শিক্ষাগতভাবে অযোগ্য ব্যক্তি কীভাবে আসীন হন? এ কি কেবল তদবির, না সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার ‘ম্যানেজমেন্ট থিওরি’-র ফল? এই নিয়োগ রাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যঙ্গ করে, এবং জনগণের আস্থাকে পদদলিত করে।

 

সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া আজ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফোন কেটে দেন, মেসেজের উত্তর দেন না, কিংবা রীতিমতো ব্যঙ্গাত্মক আচরণ করেন। অথচ একজন পরিচালকের উচিত ছিল জবাবদিহিমূলক আচরণ। বরং তার আচরণে ফুটে ওঠে একধরনের ঔদ্ধত্য, যা শুধুমাত্র দুর্নীতিগ্রস্ত ‘সুরক্ষিত চক্রের’ মধ্যেই দেখা যায়।

 

সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া এখন রাজউকের ভেতরে রাষ্ট্রের বাইরে একটা ছোট ‘রিপাবলিক’ তৈরি করেছেন—যেখানে তার নিজের আইন, নিজের বিচার, নিজের শাসন। এই সাম্রাজ্যে প্রবেশ করতে হলে লাগে শুধু দুটি জিনিস—অন্ধ আনুগত্য আর মোটা ঘুষে

চলবে…..

রাজউক পরিদর্শক সোহাগ মিয়ার দালালি সাম্রাজ্য: শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৯:০৯ অপরাহ্ণ
রাজউক পরিদর্শক সোহাগ মিয়ার দালালি সাম্রাজ্য: শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ।

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক |

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৪/২ (মহাখালী)-এর ইমারত পরিদর্শক মো. সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধে উঠেছে অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ। রাজনৈতিক পরিচয় আর প্রভাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন শত কোটি টাকা।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, সোহাগ মিয়া একসময় ছাত্রলীগের পরিচয়ে দাপট দেখালেও পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজের রূপ বদলেছেন। বর্তমানে তিনি সরকারের উচ্চপদস্থ উপদেষ্টাদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে রাজউকে নিজের একক আধিপত্য বজায় রাখছেন। তার এই দাপটের সামনে জোন-৪/২-এর সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।

 

মহাখালী ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অসংখ্য নকশাবহির্ভূত ভবন গড়ে তোলার পেছনে সোহাগ মিয়ার প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো অবৈধ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হলেও, অদৃশ্য কারণে তা মাঝপথেই থমকে যায়।

 

অভিযোগ আছে, মোটা অঙ্কের উৎকোচ এবং মুচলেকার বিনিময়ে এসব অবৈধ স্থাপনাকে বৈধতা দেওয়া হয়। স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট হারে ‘পার্সেন্টেজ’ বা কমিশন ছাড়া এই জোনে কোনো ফাইল নড়ে না।

 

নির্মাণাধীন ভবনের অনুমোদন নিতে আসা সাধারণ গ্রাহকদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। সোহাগ মিয়া ও তার দালালি সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় করছে। অনেক ক্ষেত্রে “উপরে টাকা পাঠাতে হয়” এমন অজুহাতে প্রকাশ্যে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। তার দাবি করা অর্থ না দিলে ভবনে ত্রুটি খুঁজে বের করে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

 

রাজউকের অভ্যন্তরে সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ থাকলেও কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না। তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই বদলি বা বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দেওয়া হয়।

 

ফলে প্রশাসনের নাকের ডগায় বসেই তিনি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।

এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের উৎস এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে রাজউকের উচ্চপর্যায় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

[বিস্তারিত আসছে পরবর্তী সংখ্যায়…]

এস.এ ও বৈশাখী টিভির সংবাদ ভিত্তিহীন, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ কর্তৃপক্ষের তীব্র প্রতিবাদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩:০৩ পূর্বাহ্ণ
এস.এ ও বৈশাখী টিভির সংবাদ ভিত্তিহীন, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ কর্তৃপক্ষের তীব্র প্রতিবাদ

ডেস্ক রিপোর্ট:

গত ১১ মে ২০২৬ তারিখে এস. এ টিভি এবং বৈশাখী টিভির অনলাইন সংস্করণে “দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর মালিকানা নিয়ে ধোঁয়াশা, আসল মালিক কে?” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ। প্রকাশিত সংবাদটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মানহানিকর হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোঃ খায়রুল আলম রফিক জানান, জনপ্রিয় এই পত্রিকা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোনো প্রকার যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে।

প্রতিবাদে উল্লেখ করা হয়, এ বিষয়ে দুই মাস আগে ভাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের নেতা মোঃ শহীদুল ইসলাম উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। বিষয়টি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় আইনত এটি একটি ‘সাব-জুডিস’ বিষয়। বিচারাধীন মামলার বিষয়ে এ ধরনের একপাক্ষিক সংবাদ প্রকাশ করা আইনগত ও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

কর্তৃপক্ষ মনে করে, একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের উচিত ছিল সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করা। কিন্তু উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভ্রান্তি ছড়াতে একপাক্ষিক তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, যা পাঠকমহলে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা মাত্র।

প্রতিবাদে আরও বলা হয়, প্রতারক মির্জা সোবেদ আলী রাজা গত দুই বছর ধরে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যেই ময়মনসিংহের বিজ্ঞ আদালতে দুটি মানহানি মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং- ৩৪৯/২৬ এবং মামলা নং- ১০, তারিখ: ১৬/০৩/২০২৬)।

প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানিয়ে কর্তৃপক্ষ।

 

দুর্নীতির নগর রাজত্ব পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার অধীনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত রাজউক  রাজউক পরিদর্শক সোহাগ মিয়ার দালালি সাম্রাজ্য: শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ। এস.এ ও বৈশাখী টিভির সংবাদ ভিত্তিহীন, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ কর্তৃপক্ষের তীব্র প্রতিবাদ গণপূর্তে ৫০ কোটির নিয়োগ বাণিজ্য ও টেন্ডার সিন্ডিকেট নিয়ে তোলপাড়। মানবসেবায় নিবেদিত এক আলোকবর্তিকা আরফানুল আলম প্রধান গণপূর্ত প্রকৌশলী তাবেদুন সিন্ডিকেটের কোটি টাকা লুটপাট (১ম পর্ব) শত কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে যশোর গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম গণপূর্ত অধিদপ্তরে দুর্নীতির ‘অদৃশ্য সাম্রাজ্য’ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামছুদ্দোহাকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ ! গণপূর্তে সন্ত্রাসীদের দ্বারা সিন্ডিকেট গড়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদ হোসেন গণপূর্তের প্রকৌশলী তৈমুর আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়: নেপথ্যে ভাই ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা গণমাধ্যম সপ্তাহে দাউদকান্দিতে বর্ণাঢ্য শুভযাত্রা ও বৃক্ষরোপণ ২০২৬ সালের ঈদুল আযহা কবে? তারিখ, তাৎপর্য এবং প্রস্তুতির পূর্ণাঙ্গ গাইড দ্রুত ওজন কমানোর ১০টি বৈজ্ঞানিক ও কার্যকর উপায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা, খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই ইরানের জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে   ভণ্ড পীরের আস্তানা: শামীম রেজা সীতাকুণ্ডে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে খুন রূপগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ‘খারা মোশাররফ’র নেতৃত্বে হামলা: ১৮ লাখ টাকার সরঞ্জাম লুট দাউদকান্দিতে জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা প্রাণনাশের শঙ্কায় সাংবাদিক শরিফুল হোমনায় তিতাস নদী থেকে নারীর ভাসমান লাশ উদ্ধার দাউদকান্দিতে প্রবাসী কল্যাণ সংগঠনের উদ্যোগে ঈদে গরুর মাংস বিতরণ রিয়াদে প্রবাসী অপহরণ: ‘রনি গ্রুপ’-এর নির্যাতনে সর্বস্বান্ত সানা-উল্লাহ, মামলা দায়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইমারত পরিদর্শক উজ্জ্বল চন্দ্র দেব এর রঙ্গলীলা – পর্ব ১ “ উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) মাসুম বিল্লাহ। বর্তমানে কর্মরত শের-ই-বাংলা নগর ৩নং গণপূর্ত উপবিভাগের এসডিই হিসাবে