টেন্ডারবাণিজ্যের গডফাদার: গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আলমগীর খানের শতকোটি টাকার সাম্রাজ্য; আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেটের মাস্টারমাইন্ড তিনি
অনুসন্ধানী প্রতিবেদক :
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে যখন ‘উন্নয়নের মহাসড়ক’ তৈরির প্রতিশ্রুতিতে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তখন সেই মহাসড়কের অন্তরালে চলছে দুর্নীতির মহোৎসব। সরকারি টেন্ডার ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনাকে পুঁজির খেলার মাঠে পরিণত করেছেন একদল প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান কারিগর হিসেবে নাম উঠে এসেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আলমগীর খানের।
অভিযোগ অনুযায়ী, আলমগীর খান সরকারি টেন্ডারবাণিজ্যকে নিজের ব্যক্তিগত আয়ের খনিতে পরিণত করেছেন। বড় বড় প্রকল্পের টেন্ডারে জটিল শর্ত জুড়ে দিয়ে তিনি পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেন, আর এর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের ঘুষ ও কমিশন হাতিয়ে নেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ—আলমগীর খানের টেবিলে কোনো ফাইল তদবির ছাড়া নড়ে না। প্রতিটি অনুমোদনের পেছনে থাকে ‘নির্ধারিত হারে ঘুষের হিসাব’।
তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে—
রাজধানীর অভিজাত এলাকায় একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, গ্রামের বাড়িতে অট্টালিকা নির্মাণ, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার লেনদেন এবং আত্মীয়স্বজনের নামে বিপুল সম্পদ গঠন করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ঠিকাদারি চক্র, রাজনৈতিক নেতা ও আমলাতান্ত্রিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী যোগাযোগ, যা তাঁকে করেছে প্রশাসনিকভাবে অদৃশ্য এক শক্তিমান ব্যক্তি।
গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম, ঘুষ ও সম্পদ পাচারের তথ্য উঠে এলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ ছড়ালেও, গণমাধ্যমের ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও তিনি রয়ে গেছেন অক্ষত।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক সাবেক কর্মকর্তা বলেন, “আলমগীর খান এমন এক ‘অদৃশ্য সুরক্ষা বলয়ের’ ভেতরে আছেন, যেখানে আইন পৌঁছায় না। তিনি নিজেই যেন একটি প্রতিষ্ঠান।
তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সারকথা একটাই—
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে তিনি বানিয়েছেন নিজের ধনসম্পদের উৎস। জনগণের করের টাকা থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে তিনি তৈরি করেছেন বিলাসী জীবনের দুর্গ।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই, রাষ্ট্রের এই সিন্ডিকেটনির্ভর দুর্নীতি বন্ধে পদক্ষেপ নেবে কে? আলমগীর খানের মতো ক্ষমতাধর কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনবে কে?




