খুঁজুন
, ,

আমুর আত্মীয় নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহর বিতর্কিত পোস্টিং: দুর্নীতির অভিযোগ সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ দফতরে বহাল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
[shared_counts]
আমুর আত্মীয় নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহর বিতর্কিত পোস্টিং: দুর্নীতির অভিযোগ সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ দফতরে বহাল

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জুলাই অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলেও সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আমির হোসেন আমুর আত্মীয় প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহর প্রভাব কমেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তোলার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২-এর মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ দফতরে নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে পোস্টিং পেয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘর দেখভালের মতো স্পর্শকাতর দায়িত্ব যে বিভাগের ওপর ন্যস্ত, সেখানে এমন একজন বিতর্কিত কর্মকর্তার পদায়নে সংশ্লিষ্ট মহলে চরম ক্ষোভ ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, লটারির ক্যাটাগরির মানদণ্ডের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে এবং প্রায় তিন কোটি টাকা লেনদেনের বিনিময়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) সরোয়ার জাহান বিপ্লবের সহযোগিতায় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বাগিয়ে নেন। এ সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের একটি গোপন ভিডিও প্রতিবেদকের সংগ্রহে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

কোটা জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার:

অনুসন্ধানে জানা যায়, ৩৩তম বিশেষ বিসিএসে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটা ব্যবহারের মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রবেশ করেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাসুম বিল্লাহ। আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমুর সুপারিশে চাকরি জীবনের শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ নগর গণপূর্ত বিভাগে পোস্টিং পান। ২০১৬ সালে নগর গণপূর্ত বিভাগের স্টাফ অফিসার (সহকারী প্রকৌশলী) থাকাকালে টেন্ডার বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন তিনি। গোপালগঞ্জের এস এ এন্টারপ্রাইজসহ দলীয় ঠিকাদারদের ১ থেকে ২ শতাংশ কমিশনের বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দিয়ে মাত্র তিন অর্থবছরে প্রায় দুই কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) হিসেবে মিরপুর উপবিভাগ-২-এ দায়িত্ব পালনকালে পাইকপাড়া অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পে অগ্রিম বিল ছাড় ও জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেন। এরপর প্রভাব খাটিয়ে বদলি হন শের-ই-বাংলা নগর ৩নং উপবিভাগে, যেখানে পরোক্ষ ঠিকাদারি ও ঘুষ বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন।

দুদকের অনুসন্ধান ও রহস্যজনক ডাকাতি:

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহ, তার ভাই শফিউল বসর ও স্ত্রী নাইমা আক্তার সুমার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মাসুম বিল্লাহর গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির রাজাপুরের কাঠিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে তাদের পারিবারিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত সাধারণ—একটি ভাঙা টিনের ঘরে বসবাস করতেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ আমলে মাসুম বিল্লাহর উত্থান ঘটে রূপকথার মতো।

গ্রামবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর মাসুম বিল্লাহর গ্রামের বাড়িতে এক রহস্যজনক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের বিপুল পরিমাণ অর্থসহ আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ কোটি নগদ টাকা ও কয়েকশ ভরি স্বর্ণালংকার তাদের বাড়িতে গচ্ছিত ছিল, যা ডাকাত দল লুটে নেয়। তবে অর্থের বৈধ উৎস দেখাতে না পারার ভয়ে থানায় দায়ের করা এজাহারে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে মাত্র ৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ও ১৩ ভরি স্বর্ণ উল্লেখ করা হয়।

বিক্ষোভ ও উত্তেজনার আশঙ্কা:

জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়েও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বহাল তবিয়তে থাকা এবং উল্টো গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল স্থানে পদায়ন পাওয়া নিয়ে গণপূর্তের বঞ্চিত কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈষম্যবিরোধী প্রকৌশলীদের একজন জানান, এমন বিতর্কিত কর্মকর্তাকে স্পর্শকাতর দফতরে পুনর্বহাল করায় যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে, যার সম্পূর্ণ দায়ভার বর্তমান গণপূর্ত প্রশাসনকেই নিতে হবে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

লটারি ক্যাটাগরিতে সিলেটে নির্বাহী প্রকৌশলী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অর্ণব, ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৩ অপরাহ্ণ
[shared_counts]
লটারি ক্যাটাগরিতে সিলেটে নির্বাহী প্রকৌশলী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অর্ণব, ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা

​নিজস্ব প্রতিবেদক:

​শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত মেডিকেল উপ-বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের প্রকল্পসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য খাতের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সিলেট গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলীর ‘প্রাইজ পোস্টিং’ পেয়েছেন অর্ণব বিশ্বাস। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতার এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তরে।

​অভিযোগ রয়েছে, ময়মনসিংহ গণপূর্তে দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে এবং পরবর্তী সময়ে ক্যাটাগরি লটারির মাধ্যমে সিলেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দায়িত্ব বাগিয়ে নিতে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন করেছেন অর্ণব বিশ্বাস। গণপূর্তের একাধিক প্রকৌশলীর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

​অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, শেরেবাংলা নগরে দায়িত্ব পালনকালে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর), জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের ভার্টিক্যাল এক্সটেনশন প্রকল্প থেকে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন অর্ণব বিশ্বাস। এছাড়া ভার্টিক্যাল এক্সটেনশনের কাজ দেখিয়ে বার্ষিক মেরামত খাতের অর্থ তছরুপের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিশেষ করে বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (এপিপি) এবং ‘১৩৮/স্বাস্থ্য মেরামত’ খাতের পুরো অর্থই তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

​অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ শাসনামলে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা ভোগকারী অর্ণব বিশ্বাসকে এই পদে বসানোর মাধ্যমে অধিদপ্তরে সাবেক সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার পেছনে অধিদপ্তরের সংস্থাপন শাখার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ফিরোজ আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান বিপ্লব এবং সাবেক মন্ত্রীর ভাগ্নে হিসেবে পরিচিত নির্বাহী প্রকৌশলী মাযাহার সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

​দীর্ঘদিন গণপূর্ত অধিদপ্তরের রিজার্ভে থাকা এবং বিগত সরকারের প্রভাবশালী রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অর্ণব বিশ্বাসকে সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়ন করায় অধিদপ্তরের সাধারণ ও পেশাদার প্রকৌশলীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

নিখিলের পার্টনার রাশেদ আহসান এবার বাগিয়ে নিচ্ছেন ৪০০ কোটির আজিমপুর প্রকল্প

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৪ অপরাহ্ণ
[shared_counts]
নিখিলের পার্টনার রাশেদ আহসান এবার বাগিয়ে নিচ্ছেন ৪০০ কোটির আজিমপুর প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও গণপূর্ত অধিদপ্তরে থামেনি সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির দৌরাত্ম্য। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বিতর্কিত নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ আহসান ওরফে রাশেদুজ্জামান এবার বাগিয়ে নিতে যাচ্ছেন প্রায় ৪০০ কোটি টাকার আজিমপুর গণপূর্ত প্রকল্প। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ওএসডি (OSD) হওয়া এবং ক্ষুব্ধ ঠিকাদারদের হাতে অবরুদ্ধ হওয়ার নজিরবিহীন ঘটনার পরও সংস্থাপন শাখাকে ম্যানেজ করে এই লাভজনক পোস্টিং নেওয়ার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন তিনি।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের আস্থাভাজন হিসেবে প্রথমে ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগে প্রভাব বিস্তার করেন রাশেদ আহসান। পরবর্তীতে তিনি পদায়ন পান গুরুত্বপূর্ণ মিরপুর বিভাগে। সেখানে তিনি যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হাসান নিখিলের সরাসরি ব্যবসায়িক অংশীদার হয়ে ওঠেন। মিরপুরের কুখ্যাত ‘বিকাশ বাহিনী’র ছত্রচ্ছায়ায় সাধারণ ঠিকাদারদের কোণঠাসা করে গড়ে তোলেন নিজস্ব টেন্ডার সিন্ডিকেট।

​অভিযোগ রয়েছে, মিরপুর পাইকপাড়া আবাসন কোয়ার্টার প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৫ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই ভুয়া নথিপত্রে শতকোটি টাকার অগ্রিম বিল ছাড় দেন রাশেদ। প্রায় ৫ কোটি টাকা কমিশনের বিনিময়ে এই বিল ছাড়ের প্রমাণ পাওয়ায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

​এছাড়া প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশনা অমান্য করে ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ এলটিএম (LTM) পদ্ধতির বদলে ওটিএম (OTM)-এ দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রের বিভিন্ন আইডি (যেমন: ৯৯৫৩০০, ৯৯৪২৭৭, ৯৯৪০২০, ৯৯২৩৫২, ৯৯২৩৮৭ প্রভৃতি) থেকে প্রায় ১০ শতাংশ হারে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আন্দোলন চলাকালে নিখিল-রাশেদ সিন্ডিকেট ছাত্র ও বিরোধীদের ওপর দমনপীড়নে অর্থায়ন করেছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।

​টেন্ডার দুর্নীতির পাশাপাশি অর্থ পাচার ও বিদেশে গোপন বৈঠকের মতো গুরুতর তথ্যও পাওয়া গেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর গত অক্টোবর ও ডিসেম্বরে স্ত্রীর চিকিৎসার ভুয়া অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার ব্যবহার করে ভারতে যান তিনি। অভিযোগ রয়েছে, পলাতক দোসরদের কাছে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো এবং গণপূর্তের আরও দুই প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী গোপন ষড়যন্ত্রে অংশ নিতেই ছিল এই সফর।

​দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রাথমিক অনুসন্ধানে রাশেদ আহসান ও তার পরিবারের নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড়ের তথ্য মিলেছে। এর মধ্যে রয়েছে উত্তরা ও ধানমন্ডিতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, বসুন্ধরা ও পূর্বাচলে একাধিক প্লট, সাভার, গাজীপুর ও কেরানীগঞ্জে শত শত শতাংশ জমি এবং ঢাকা সংলগ্ন এলাকায় বিলাসবহুল ফার্মহাউস। এ ছাড়া দুবাই ও কানাডায় সেকেন্ড হোম, আত্মীয়দের নামে বিপুল অঙ্কের এফডিআর এবং ব্যাংক ভল্টে সোনা ও নগদ অর্থ মজুতের তথ্য এখন দুদকের নজরদারিতে রয়েছে।

গণপূর্তে লটারির নামে ‘সাজানো’ বদলি: স্বচ্ছতার আড়ালে বড় অঙ্কের লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
[shared_counts]
গণপূর্তে লটারির নামে ‘সাজানো’ বদলি: স্বচ্ছতার আড়ালে বড় অঙ্কের লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ

​নিজস্ব প্রতিবেদক:

গণপূর্ত অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলীদের পদায়ন ও বদলিতে সম্প্রতি চালু করা হয়েছে ‘লটারি পদ্ধতি’। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতের যুগান্তকারী পদক্ষেপ দাবি করা হলেও, এর কার্যকারিতা ও সততা নিয়ে উঠেছে গভীর প্রশ্ন। স্বজনপ্রীতি, অস্বচ্ছ ক্যাটাগরি নির্ধারণ এবং বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে লটারিকে ‘ম্যানিপুলেট’ করার গুরুতর অভিযোগ এনেছেন অধিদপ্তরের একাধিক প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

​সাধারণ দৃষ্টিতে লটারি মানেই সম্পূর্ণ ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে এলোমেলোভাবে (Random selection) ফলাফল নির্ধারণ, যেখানে কারও মেধা, ইচ্ছা বা হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকে না। অথচ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ক্ষেত্রে এই বদলির আগে প্রকৌশলীদের বিভিন্ন ‘ক্যাটাগরি’তে বিভক্ত করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, কোন নিয়মে বা কী মানদণ্ডে এই ক্যাটাগরি করা হয়েছে, তার কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা বা গাইডলাইন প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। এমনকি এই তালিকা আগে থেকে প্রকাশ না করায় প্রকৌশলীরা কেউই জানতেন না কার অবস্থান কোথায়।

​প্রশাসন বিশ্লেষকরা বলছেন, জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগের ক্ষেত্রে যেভাবে ফিটলিস্ট তৈরি ও সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়, গণপূর্তের ক্ষেত্রে তেমন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। অত্যন্ত গোপনীয়তায় তৈরি করা এই ক্যাটাগরিতে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ও আক্রোশের প্রতিফলন ঘটেছে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।

​লটারির চূড়ান্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে বেশ কিছু নাটকীয় অসঙ্গতি:

  • ​ঘনিষ্ঠদের সুবিধাজনক পদায়ন: অধিদপ্তরের প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তারা তুলনামূলক ‘আকর্ষণীয়’ ও গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতেই স্থান পেয়েছেন। ঢাকা টু ঢাকা, সংস্থাপন থেকে শেরেবাংলা নগর কিংবা র‍্যাব থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো সুবিধাজনক বদলি যেন পূর্বপরিকল্পিত।
  • ​সিনিয়রদের নির্বাসন: বিসিএস ২৪, ২৭ ও ২৮তম ব্যাচের জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের বড় অংশকেই পাঠানো হয়েছে দূরবর্তী ও প্রান্তিক জেলাগুলোতে। অভিযোগ রয়েছে, সিনিয়রদের দিয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাধা আসতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তাঁদের দূরে সরানো হয়েছে।
  • ​অনভিজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব: মাত্র কয়েক মাস আগে পদোন্নতি পাওয়া কিংবা চলতি দায়িত্বে থাকা একঝাঁক নবীন নির্বাহী প্রকৌশলীকে বসানো হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সব চেয়ারে। এত অল্প সময়ে তাঁদের এমন কী বিশেষ পারদর্শিতা মূল্যায়িত হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন খোদ অধিদপ্তরেই।
  • ​দ্রুত প্রজ্ঞাপন ও মহড়ার অভিযোগ: লটারি শেষ হওয়ার পর অস্বাভাবিক দ্রুততায় বদলির আদেশ জারি করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, লটারির নামে কার্যত মহড়া চালিয়ে আগে থেকেই ফলাফল সাজিয়ে রাখা হয়েছিল এবং বদলির আদেশ আগেই টাইপ করা ছিল।

​এদিকে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোতে উঠেছে ঘুষ বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পছন্দসই বা লোভনীয় ‘A+’ ও ‘A’ ক্যাটাগরিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে। বিশেষ করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সুবিধাজনক ভূমিকা রাখতে পারেন—এমন বিতর্কিত ট্র্যাক রেকর্ডের অনুগত প্রকৌশলীরাই অগ্রাধিকার পেয়েছেন। এমনকি ঢাকায় পদায়ন নিশ্চিত হওয়া কর্মকর্তাদের লটারির আগেই ফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল বলেও গুঞ্জন রয়েছে।

​সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের সদিচ্ছাকে পুঁজি করে স্বচ্ছতার আবরণে এমন লটারি আসলে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করেছে। বর্তমান মন্ত্রীর অজান্তেই একটি দুর্নীতিবাজ চক্র এ ধরনের প্রক্রিয়া চালিয়ে মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে বড় বিতর্কের হাতিয়ার হতে পারে।

​সার্বিক পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ প্রকৌশলী ও সচেতন মহল দাবি তুলেছেন, প্রশ্নবিদ্ধ এই বদলি আদেশ অবিলম্বে স্থগিত করে একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়ার সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের চিহ্নিত না করা পর্যন্ত গণপূর্তের এই ‘লটারি বিতর্ক’ থামার কোনো লক্ষণ নেই।

আমুর আত্মীয় নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহর বিতর্কিত পোস্টিং: দুর্নীতির অভিযোগ সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ দফতরে বহাল লটারি ক্যাটাগরিতে সিলেটে নির্বাহী প্রকৌশলী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অর্ণব, ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা নিখিলের পার্টনার রাশেদ আহসান এবার বাগিয়ে নিচ্ছেন ৪০০ কোটির আজিমপুর প্রকল্প গণপূর্তে লটারির নামে ‘সাজানো’ বদলি: স্বচ্ছতার আড়ালে বড় অঙ্কের লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে মতিঝিলে বিআরটিএর রোড শো তিতাসে অসহায় বৃদ্ধা মজিদা খাতুনকে মারধর করে ঘরছাড়া করলেন আপন ছেলে-বউ! দেবিদ্বারে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও সাংগঠনিক সমাবেশ জমি নিয়ে বিরোধ: মুরাদনগরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ সাবেক ইউপি সদস্যসহ হাসপাতালে ৫ ম্যাবস ইউনিয়ন মোটর্স লিমিটেডের সুজুকি শোরুমে V-Strom- ২৫০ সিসি অ্যাডভেঞ্চার বাইক এর উদ্বোধন। ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের অভিযানে সাড়ে ৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার সৌদি-হুতি পাল্টাপাল্টি হামলার হুমকি: গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো থেকে বেসামরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ মক্কা-মদিনার ওপর হুমকি এলে বাংলাদেশ বসে থাকবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তিতাসে বন্দরামপুর আদর্শ একাডেমির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সংবর্ধনা ও বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত দাউদকান্দিতে ফিলিং স্টেশন থেকে পিকআপ চুরি ফেরত দিতে চাঁদা দাবি কালকিনিতে অবৈধভাবে সার মজুত: ১৪০ বস্তা সার জব্দ, ডিলারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ৩৩ বছর পর বিরল ঘটনা একই বছরে দুইবার আসছে মাহে রমজান ইয়েমেন সরকারকে ৪ কার্গো বিমান সমরাস্ত্র পাঠাল পাকিস্তান: হুথিদের চরম হুঁশিয়ারি ‘হারলেও বড় অর্জনের পথেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ, ইনশাআল্লাহ’: হামজা চৌধুরী অবসরের আগমুহূর্তে প্রধান প্রকৌশলী হতে মরিয়া আবুল খায়ের: নেপথ্যে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশলীর প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন, নানা অনিয়মের অভিযোগ স্বজনের বিয়েতে যেতে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবিএকই পরিবারের নিখোঁজ ৫জনের মধ্যে ১নারীর মরদেহ উদ্ধার  দাউদকান্দি জিংলাতলীতে অসহায় বৃদ্ধার ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ দাউদকান্দিতে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি: নগদ ৪ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট আওয়ামী লীগের রাজনীতি কোনো ইনডোর গেম নয়: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আবদুস সবুর