খুঁজুন
বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩

মামলায় আপস না হওয়ায় কি রায়পুরায় জোড়া খুন?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
মামলায় আপস না হওয়ায় কি রায়পুরায় জোড়া খুন?

 

আশিকুর রহমান :

 

নরসিংদীর রায়পুরায় প্রতিপক্ষের হাতে একই পরিবারের দুজনকে হত্যা দায়ের করা মামলায় আপস না করায় কি জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে? এমন প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। আর এমনটাই মনে করেন এলাকাবাসী। প্রতিপক্ষের হাতে হত্যা শিকার কামাল ও মাসুদ হত্যার বাদী মানিক মিয়া (৫৫) ও তার ভাগনি কল্পনা বেগম (২৫)।

গত বছরের ৭ ডিসেম্বর (শনিবার) ভোরে উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের নজরপুর গ্রামে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই রায়পুরা পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হারুন অর রশিদ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে রয়েছেন। অপরদিকে আরেক আসামী উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাছেদ মেম্বার রয়েছেন আত্মগোপনে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল মানিক মেম্বারকে হারিয়ে স্ত্রী ও স্বজনরা পাগলপ্রায়। ঘরের ভেতরে উপস্থিত সবার চোখে পানি। নিহত মানিকের স্ত্রীর কান্না ও বিলাপে ভারী হয়ে উঠছিল পরিবেশ। মেঝেতে বসা জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভোগা ছেলে ফুপিয়ে কাঁদছেন। মামলার বাদী ও মানিক মিয়ার স্ত্রী জাহানারা বলেন, আমার স্বামী জীবনে কোনো অন্যায় কাজ করে নাই। এমন শোক আমি কেমনে বইবো।

কলিজা ছিঁড়ে সংসারের একমাত্র উপার্জন ব্যক্তিটা যে চইলা গেছে। আমার স্বামীরে অনেক বুঝাইলাম পায়ে হাতে ধরে বললাম। তুমি কোর্টে স্বাক্ষী দিতে যেও না। কত কষ্ট করে আমাদের সংসার চলে, যদি কিছু একটা হয়ে যায় তাহলে আমাদের সংসার কে দেখবে? তুমি কোন ভাবে আর কোর্টে যাবে না। এও বলছি, তোমার যদি কিছু হয়ে যায় আমরা আর বাঁচমু না।

আমার সন্তানরাও তারে বুঝাইছে। ছেলে বলছে তুমি পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি। কোর্টে গিয়ে স্বাক্ষী দিও না। সবার কথা খালি চুপ কইরা শুনল। একটা বারও মনে করল না, আমি যদি না বাঁচি তাহলে আমার সংসার দেখবো কেডা। বলতে বলতে জাহানারা বার বার মোর্চা যাচ্ছিলেন।

নিহত কল্পনা বেগমের শাশুড়ি হেলেনা বেগম বলেন, মেথিকান্দা এলাকার হারুন অর রশিদ, বাছেদ মেম্বার ও নান্নু হাজীর নামে হত্যা, হুমকি, অস্ত্র, বিস্ফোরক, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ সহ রায়পুরা থানা ও নরসিংদীর আদালতে প্রায় ১২টি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে রায়পুরার আলোচিত কামাল ও মাসুদ হত্যা মামলা দুটি আদালতে স্বাক্ষী পর্যায়ে রয়েছে।

‘মামলা আপসের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তারা মানিক মেম্বারকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে এবং গুলি ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এসময় আমার ছেলের বউ কল্পনা বেগমকেও গুলি করে তারা হত্যা করে। তিনি আরও বলেন, মানিক মেম্বার চান্দেরকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। সে মাসুদ ও কামাল হত্যা মামলার বাদী ছিলেন।

অনুসন্ধান ও থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২০০৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারী রাত আনুমানিক ৮টার দিকে রায়পুরা উপজেলার শ্রীরামপুর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে মানিক মিয়া (মেম্বার), হযরত আলী, কামাল ও মাসুদ মিয়া পঁচাবোয়ালিয়া এলাকায় পৌঁছালে লিয়াকত আলী ওরফে লইক্কা মিস্ত্রির ছেলে হারুন অর রশিদ,

নুর মোহাম্মদ, দুলাল সহ আরও ১৫/২০ জন তাদের পথরোধ করে কামাল মিয়াকে কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এঘটনার ২ মাস পার না হতেই উক্ত আসামীরা একই বছরের ২৬ এপ্রিল দুপুর আড়াইটায় শ্রীরামপুর মধ্যেপাড়া গ্রামের আঃ হালিম প্রিন্সিপালের বাড়ির সামনে মানিক ডাক্তারের বাড়ির ভিতর ঢুকে কামাল মিয়াকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে।

উক্ত দুটি হত্যাকান্ডে তৎকালীন সময়ে নিহত মানিক মিয়া বাদী হয়ে রায়পুরা থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। রায়পুরা থানা মামলা নং ০৪/২০০৪ তাং- ৮/২/২০০৪ ও ২২/২০০৪ তাং- ২৬/৪/২০০৪। পরে থানা পুলিশ দীর্ঘ তদন্তের করে উপরোক্ত আসামিরা ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকায় প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। উক্ত মামলায় আসামীরা দীর্ঘদিন জেল খেটে জামিনে বের হোন।

পরে আদালত আসামীদের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী তলব করলে বাদী সহ বেশ কয়েকজন স্বাক্ষী আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেন। এতে করে আসামীরা বাদীর উপর বেপরোয়া ও হিংসাত্মক হয়ে উঠেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী একেএম মনির হোসেন বলেন, নিহত মানিক নরসিংদী আদালতে চলমান ২টি হত্যা মামলার বাদী ছিলেন।

দুটি মামলাই অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১ ও ২ এ পৃথক পৃথক মামলায় সাক্ষী অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ আদালতে মাসুদ হত্যা মামলা গত ৮ ডিসেম্বর (রবিবার) বাদী সাক্ষ্যের দিন ধার্য্য ছিল। আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বাদীকে হত্যা গুরুত্বর অপরাধ। মাসুদ হত্যা মামলার বাদীকে হত্যার ঘটনা নেক্করজনক ঘটনা।

এটা ন্যায় বিচারের পরিপন্থী। কোনো হত্যা সংগঠিত হলে ভিকটিমের পরিবার বা সদস্য বিচার প্রার্থনায় আদালতে দারস্থ হয়। ন্যায় বিচারের স্বার্থে বাদীকে সকল প্রকার সহযোগিতা করবে রাস্ট্র।

তার বাদী যদি বিবাদীর হাতে খুন হন তাহলে ন্যায় বিচারে বাধাগ্রস্ত হবে বলে আমি মনে করি। নিহত মানিক মিয়ার ছেলে কাওসার জানান, ২০ বছর আগে লইক্কা মিস্ত্রির বাড়ির লোকজন আমার দুই চাচাকে গুলি ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

এই নৃশংস হত্যাকান্ডের মূল নায়ক হারুন, বাছেদ মেম্বার ও দুলাল। আর এ হত্যা মামলার বাদী ছিলেন আমার বাবা। আমার চাচা হত্যা মামলার আপোষ করতে আমার বাবা ও আমাদের পরিবারকে অনবরত চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন তারা।

কিন্তু আমার বাবা ছিলেন আপোষহীন একজন মানুষ। সত্য ও ন্যায়ের পথে ছিলেন তিনি অবিচল। তাদের হুমকি-ধমকি তোয়াক্কা না করে তিনি আদালতে স্বাক্ষী দিয়েছিলেন। তাই আজ তার এই পরিনতি। তিনি আরও বলেন, একটা খুনকে আড়াল করতে আজ তারা আরও দুটি খুন করেছে।

এভাবে চলতে থাকলে খুনের রাজত্ব কায়েম হবে সর্বত্রে। তাই আমি একজন পিতৃহারা সন্তান হিসেবে প্রশাসনের নিকট প্রার্থনা করছি দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত মানিক মেম্বার একজন সহজ সরল ও উদার স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কখনও মাথা নত করেনি। তার ভাই মাসুদ ও কামালকে হত্যা করে লইক্কা মিস্ত্রি বাড়ির লোকজন। এ ঘটনার পর লইক্কার বাড়ির লোকজন বেশ কয়েকবার আপোষ করতে চেয়েছিল। কিন্তু মানিক এতে সাড়া দেননি।

সাড়া না দেওয়ার কারণে এর আগেও লইক্কার বাড়ির লোকজন বেশ কয়েকবার মানিক ও তার পরিবারের উপর হামলা চালিয়ে ছিল। এর জের ধরে গত শনিবার ৭ ডিসেম্বরের লইক্কা বাড়ির হামলায় মানিক মেম্বার ও তার ভাগনি কল্পনা বেগম নিহত এবং ১০ জন আহত হয়। মানিক চান্দেরকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান সদস্য এবং কল্পনা বেগম একই গ্রামের আবু ছালেকের স্ত্রী।

পূর্ববিরোধের জেরে ভোরে লইক্কা মিস্ত্রির ছেলে হারুন-অর-রশিদ ও বাছেদ মেম্বারের নেতৃত্বে কয়েকশ লোক আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে মানিক মেম্বারের উপর আতর্কিত এ হামলা চালায়। এসময় উভয় পক্ষই মারামারিতে জড়িয় পড়েন।

হামলা থেকে বাঁচতে এসময় মানিক মেম্বার পাশ্ববর্তী বশির উদ্দিনের বাড়ির ঘরে ভিতর আশ্রয় নিলে সেখান থেকে তারা তাকে ঘর থেকে টেনে বাইরে এনে গুলি করে এবং কুপিয়ে দেহ থেকে তার পা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা এলাকাবাসী। এসময় প্রাণ হারান মানিকের ভাগনি কল্পনা বেগম নামে আরেক নারী।

সত্তোর বয়সী বৃদ্ধা মহিলা জানান, ফজরের নামাজ শেষ করে উঠানের দিকে গেলে দেখি হারুনের লোকেরা বন্দুক, রামদা, চাপাতি, টেঁটা হাতে কয়েকশ লোক নিয়ে মানিক মেম্বারের বাড়ির দিকে যাইতাচ্ছে। গ্রামের অনেক মানুষ তখন ঘুমিয়ে ছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা এ হামলা করে।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ বলেন, রায়পুরার নজরপুরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতা জের ধরে জোড়া খুনের ঘটনার অভিযোগে এজাহারভুক্ত ২নং আসামী হারুন-অর-রশিদকে গত ৫ জানুয়ারী থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিনোদন ভিডিও সংবাদ

তারিখ দিয়ে সংবাদ খুজুন

সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

দুর্নীতির নগর রাজত্ব পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার অধীনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত রাজউক 

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
দুর্নীতির নগর রাজত্ব পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার অধীনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত রাজউক 

 

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:

রাজউক—যে প্রতিষ্ঠানটির নাম দেশের নাগরিকদের কাছে ছিল একসময় স্বপ্নের আরেক নাম, আজ তা পরিণত হয়েছে দুর্নীতির মহাসিন্ডিকেটে রূপান্তরিত এক ভয়াবহ প্রশাসনিক ‘ডার্ক জোন’-এ। আর এই অন্ধকার সিস্টেমের কেন্দ্রে অবস্থান করছেন এক ব্যক্তি—পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া—যিনি আজ শুধুই একজন সরকারি কর্মকর্তা নন, বরং রাজউকের গায়ে শেকড় গেড়ে বসা এক দুর্নীতিচক্রের নির্লজ্জ সম্রাট।

 

তিনি যেন নিজেই প্রতিষ্ঠানের উপরে প্রতিষ্ঠিত এক প্রভু—যার নিয়ন্ত্রণে চলছে গোপন আর্থিক সাম্রাজ্য, যেখানে ব্যতিক্রম নয়—ঘুষের অঙ্ক, ক্ষমতার দম্ভ, অদৃশ্য চুক্তি এবং এক ভয়ংকর আমলাতান্ত্রিক তস্করগোষ্ঠীর স্বাধীন অভিযান।

 

সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার অধীনে রাজউকের মহাখালী জোন আজ কার্যত রূপ নিয়েছে ‘কর্তৃত্ববাদী দুর্নীতির হেডকোয়ার্টার’-এ। এখানে নির্মাণ পরিদর্শকরা আর নির্মাণ আইন প্রয়োগকারী নন—তারা এখন ঘুষ বাণিজ্যের টেকসই ‘ম্যানেজার’। প্রতিটি ফাইল আটকে রাখার পেছনে রয়েছে অর্থবাণিজ্যের হীনচক্র, যা পরিচালকের সরাসরি জ্ঞাতসারে সংঘটিত হচ্ছে বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। রাজউকের মূলনীতি ও আইনি কাঠামো এখানে শুধুই খোলস—তার আড়ালে গড়ে উঠেছে এক বিস্তৃত প্রশাসনিক ব্ল্যাকমার্কেট।

 

এই সিন্ডিকেটের অন্যতম কুশীলব ছিলেন মো. সোলাইমান হোসেন, যিনি ৩০ জানুয়ারি ২০২৫ সালে একজন সংবাদকর্মীর উপর প্রকাশ্যে হামলা চালিয়েছেন, শুধু এজন্য নয় যে তিনি সাংবাদিককে অপছন্দ করেন—বরং এটা ছিল পুরো চক্রটির বার্তা, “আমরা অপরাধী, কিন্তু ধরার কেউ নেই!” হামলার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছে, কিন্তু পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া এটিকে “তেমন কিছু না” বলে সরাসরি ধামাচাপা দিতে উদ্যত হয়েছেন। যদিও শেষপর্যন্ত তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। প্রশ্ন হচ্ছে—এমন স্পষ্ট অপরাধের বিচারহীনতা কি কেবল ঊর্ধ্বতনদের দুর্বলতা, নাকি তা পরিচালকের প্রশাসনিক মদতের প্রতিফলন?

 

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ শুধু পেশাগত নয়, ব্যক্তিগত পর্যায়েও ভয়াবহভাবে বিতর্কিত। অভিজাত ক্লাব, লাউঞ্জ আর বারগুলোতে তার নিয়মিত আসা-যাওয়া, মদ্যপান, নারীসঙ্গ—এসব নিয়ে প্রশাসনিক মহলে কানাঘুষা বহুদিনের। রাষ্ট্রীয় একজন কর্মকর্তার জীবনে যখন নৈতিকতার এমন দেউলিয়াত্ব আসে, তখন সেটি ব্যক্তিগত সীমা অতিক্রম করে রাষ্ট্রীয় নৈতিকতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তিনি যেন একজন আধুনিক-কালের দুর্নীতিগ্রস্ত কেলিগুলা, যিনি একাধারে ভোগবিলাস, ক্ষমতা ও ঘৃণ্য প্রশাসনিক দম্ভের প্রতীক।

 

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, তার সময়েই রাজউকের ইতিহাসে সবচেয়ে অযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো—মাত্র এসএসসি পাস আব্দুর রহিমকে প্রধান ইমারত পরিদর্শক হিসেবে! এমন এক পদ যেখানে প্রকৌশল, আইনি ও প্রশাসনিক দক্ষতা অপরিহার্য, সেখানে শুধুমাত্র ‘ঘুষ ক্ষমতা’ দিয়ে একজন শিক্ষাগতভাবে অযোগ্য ব্যক্তি কীভাবে আসীন হন? এ কি কেবল তদবির, না সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার ‘ম্যানেজমেন্ট থিওরি’-র ফল? এই নিয়োগ রাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যঙ্গ করে, এবং জনগণের আস্থাকে পদদলিত করে।

 

সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া আজ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফোন কেটে দেন, মেসেজের উত্তর দেন না, কিংবা রীতিমতো ব্যঙ্গাত্মক আচরণ করেন। অথচ একজন পরিচালকের উচিত ছিল জবাবদিহিমূলক আচরণ। বরং তার আচরণে ফুটে ওঠে একধরনের ঔদ্ধত্য, যা শুধুমাত্র দুর্নীতিগ্রস্ত ‘সুরক্ষিত চক্রের’ মধ্যেই দেখা যায়।

 

সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া এখন রাজউকের ভেতরে রাষ্ট্রের বাইরে একটা ছোট ‘রিপাবলিক’ তৈরি করেছেন—যেখানে তার নিজের আইন, নিজের বিচার, নিজের শাসন। এই সাম্রাজ্যে প্রবেশ করতে হলে লাগে শুধু দুটি জিনিস—অন্ধ আনুগত্য আর মোটা ঘুষে

চলবে…..

রাজউক পরিদর্শক সোহাগ মিয়ার দালালি সাম্রাজ্য: শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৯:০৯ অপরাহ্ণ
রাজউক পরিদর্শক সোহাগ মিয়ার দালালি সাম্রাজ্য: শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ।

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক |

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৪/২ (মহাখালী)-এর ইমারত পরিদর্শক মো. সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধে উঠেছে অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ। রাজনৈতিক পরিচয় আর প্রভাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন শত কোটি টাকা।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, সোহাগ মিয়া একসময় ছাত্রলীগের পরিচয়ে দাপট দেখালেও পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজের রূপ বদলেছেন। বর্তমানে তিনি সরকারের উচ্চপদস্থ উপদেষ্টাদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে রাজউকে নিজের একক আধিপত্য বজায় রাখছেন। তার এই দাপটের সামনে জোন-৪/২-এর সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।

 

মহাখালী ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অসংখ্য নকশাবহির্ভূত ভবন গড়ে তোলার পেছনে সোহাগ মিয়ার প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো অবৈধ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হলেও, অদৃশ্য কারণে তা মাঝপথেই থমকে যায়।

 

অভিযোগ আছে, মোটা অঙ্কের উৎকোচ এবং মুচলেকার বিনিময়ে এসব অবৈধ স্থাপনাকে বৈধতা দেওয়া হয়। স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট হারে ‘পার্সেন্টেজ’ বা কমিশন ছাড়া এই জোনে কোনো ফাইল নড়ে না।

 

নির্মাণাধীন ভবনের অনুমোদন নিতে আসা সাধারণ গ্রাহকদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। সোহাগ মিয়া ও তার দালালি সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় করছে। অনেক ক্ষেত্রে “উপরে টাকা পাঠাতে হয়” এমন অজুহাতে প্রকাশ্যে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। তার দাবি করা অর্থ না দিলে ভবনে ত্রুটি খুঁজে বের করে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

 

রাজউকের অভ্যন্তরে সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ থাকলেও কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না। তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই বদলি বা বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দেওয়া হয়।

 

ফলে প্রশাসনের নাকের ডগায় বসেই তিনি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।

এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের উৎস এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে রাজউকের উচ্চপর্যায় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

[বিস্তারিত আসছে পরবর্তী সংখ্যায়…]

এস.এ ও বৈশাখী টিভির সংবাদ ভিত্তিহীন, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ কর্তৃপক্ষের তীব্র প্রতিবাদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩:০৩ পূর্বাহ্ণ
এস.এ ও বৈশাখী টিভির সংবাদ ভিত্তিহীন, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ কর্তৃপক্ষের তীব্র প্রতিবাদ

ডেস্ক রিপোর্ট:

গত ১১ মে ২০২৬ তারিখে এস. এ টিভি এবং বৈশাখী টিভির অনলাইন সংস্করণে “দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর মালিকানা নিয়ে ধোঁয়াশা, আসল মালিক কে?” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ। প্রকাশিত সংবাদটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মানহানিকর হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোঃ খায়রুল আলম রফিক জানান, জনপ্রিয় এই পত্রিকা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোনো প্রকার যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে।

প্রতিবাদে উল্লেখ করা হয়, এ বিষয়ে দুই মাস আগে ভাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের নেতা মোঃ শহীদুল ইসলাম উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। বিষয়টি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় আইনত এটি একটি ‘সাব-জুডিস’ বিষয়। বিচারাধীন মামলার বিষয়ে এ ধরনের একপাক্ষিক সংবাদ প্রকাশ করা আইনগত ও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

কর্তৃপক্ষ মনে করে, একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের উচিত ছিল সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করা। কিন্তু উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভ্রান্তি ছড়াতে একপাক্ষিক তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, যা পাঠকমহলে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা মাত্র।

প্রতিবাদে আরও বলা হয়, প্রতারক মির্জা সোবেদ আলী রাজা গত দুই বছর ধরে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যেই ময়মনসিংহের বিজ্ঞ আদালতে দুটি মানহানি মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং- ৩৪৯/২৬ এবং মামলা নং- ১০, তারিখ: ১৬/০৩/২০২৬)।

প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানিয়ে কর্তৃপক্ষ।

 

দুর্নীতির নগর রাজত্ব পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার অধীনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত রাজউক  রাজউক পরিদর্শক সোহাগ মিয়ার দালালি সাম্রাজ্য: শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ। এস.এ ও বৈশাখী টিভির সংবাদ ভিত্তিহীন, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ কর্তৃপক্ষের তীব্র প্রতিবাদ গণপূর্তে ৫০ কোটির নিয়োগ বাণিজ্য ও টেন্ডার সিন্ডিকেট নিয়ে তোলপাড়। মানবসেবায় নিবেদিত এক আলোকবর্তিকা আরফানুল আলম প্রধান গণপূর্ত প্রকৌশলী তাবেদুন সিন্ডিকেটের কোটি টাকা লুটপাট (১ম পর্ব) শত কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে যশোর গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম গণপূর্ত অধিদপ্তরে দুর্নীতির ‘অদৃশ্য সাম্রাজ্য’ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামছুদ্দোহাকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ ! গণপূর্তে সন্ত্রাসীদের দ্বারা সিন্ডিকেট গড়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদ হোসেন গণপূর্তের প্রকৌশলী তৈমুর আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়: নেপথ্যে ভাই ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা গণমাধ্যম সপ্তাহে দাউদকান্দিতে বর্ণাঢ্য শুভযাত্রা ও বৃক্ষরোপণ ২০২৬ সালের ঈদুল আযহা কবে? তারিখ, তাৎপর্য এবং প্রস্তুতির পূর্ণাঙ্গ গাইড দ্রুত ওজন কমানোর ১০টি বৈজ্ঞানিক ও কার্যকর উপায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা, খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই ইরানের জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে   ভণ্ড পীরের আস্তানা: শামীম রেজা সীতাকুণ্ডে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে খুন রূপগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ‘খারা মোশাররফ’র নেতৃত্বে হামলা: ১৮ লাখ টাকার সরঞ্জাম লুট দাউদকান্দিতে জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা প্রাণনাশের শঙ্কায় সাংবাদিক শরিফুল হোমনায় তিতাস নদী থেকে নারীর ভাসমান লাশ উদ্ধার দাউদকান্দিতে প্রবাসী কল্যাণ সংগঠনের উদ্যোগে ঈদে গরুর মাংস বিতরণ রিয়াদে প্রবাসী অপহরণ: ‘রনি গ্রুপ’-এর নির্যাতনে সর্বস্বান্ত সানা-উল্লাহ, মামলা দায়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইমারত পরিদর্শক উজ্জ্বল চন্দ্র দেব এর রঙ্গলীলা – পর্ব ১ “ উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) মাসুম বিল্লাহ। বর্তমানে কর্মরত শের-ই-বাংলা নগর ৩নং গণপূর্ত উপবিভাগের এসডিই হিসাবে