খুঁজুন
বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩

দেবিদ্বার সরকারি হাসপাতালে ঔষধ ও এমএসআর সামগ্রী ক্রয়ের ক্ষেত্রে ত্রি-রত্নের জালিয়াতি প্রকাশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৯:১৭ অপরাহ্ণ
দেবিদ্বার সরকারি হাসপাতালে ঔষধ ও এমএসআর সামগ্রী ক্রয়ের ক্ষেত্রে ত্রি-রত্নের জালিয়াতি প্রকাশ

 

কুমিল্লা প্রতিনিধি :

 

৫০ সয্যা বিশিষ্ট কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমএসআর সামগ্রী ক্রয়ে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে যেয়ে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্ল্ড সার্জিক্যাল’ কর্তৃক সরবরাহকৃত ছয় গ্রæপের ১২ টি কার্যাদেশের বিভিন্ন ঔষধ ও মালামালের স্তুপ। গত ১৯ দিন ধরে এসব মালামাল হাসপাতাল ফ্লুরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।

 

এ হাসপাতালটিতে প্রতিদিন সেবা নিতে আসা রোগির সংখ্যার দিক থেকে ‘কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল’ ও ‘সদর হাসপাতালের’ পরের স্থান। ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও মাঝে মাঝে ভর্তি রোগির পরিমান থাকে শতাধিক। হাসপাতালটি উপজেলা সদর এবং ‘কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহা-সড়কের পাশে হওয়ায় ‘জরুরী বিভাগ’ ছাড়াও বহির্বিভাগে প্রতিদিন রোগির পরিমান দাড়ায় সহস্রাধিক। হাসপাতালে সেবা নিতে আসা অধিকাংশ রোগি স্বল্প আয়ের এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অংশদারিত্ব বেশী।

যেগুলো চাহিদার তুলনায় কয়েকগুন বেশী। রোগিদের নিত্য প্রয়োজনীয় ঔষধ ও বিভিন্ন সামগ্রীর চেয়ে অপ্রয়োজনীয় ঔষধ ও বিভিন্ন সামগ্রীর পরিমান ছিল বেশী এবং নিম্নমানের।

গত ২১ ও ২২ জানুয়ারী সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরবরাহকৃত ঔষধ ও মালামাল সার্ভে কমিটির সদস্য ডাঃ মো. নাজমুল হাসান সাঈদ (জুনিয়র কনসাল্টেন্ট), ডাঃ মো. কবির হোসেন (আর এমও) এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি ডাঃ শফিকুল ইসলাম এসব মালামাল পর্যবেক্ষণ করে অনুমোদন দেয়ার চেষ্টা করেন।

এসময় উপস্থিত সাংবাদিক, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও স্থানীয়রা নিম্নমানের, অপ্রয়োজনীয় এবং পরিমানের চেয়ে অতিরিক্ত হওয়ায় সার্ভে কমিটিকে ইজিবির নিয়ম বহির্ভূত কোন ঔষধ ও মালামাল গ্রহন না করার অনুরোধ জানান।

এসব সরবরাহকৃত মালামাল সংরক্ষনেরও কোন গুদাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই। গত ২০২০ সালে মালামাল সংরক্ষণে পুরাতন ভবনের পুরুষ ওয়ার্ড পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে ওই ওয়ার্ডকে মালামাল রাখার গুদাম করা হয়েছে।

সরবরাহকৃত ঔষধের মেয়াদ কার্যাদেশে ২ বছরের থাকলেও কিছু ঔষধ প্রায় ৬/৭ মাস অতিবাহিত হয়েগেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেকের গুদামে ১৫২ পিস বালিশ রয়েছে, চাহিদাপত্রে ৩ শত বালিশের ওয়ার্ক অর্ডার থাকলেও এ চাহিদার ২০% অতিরিক্ত করলে ৩ শত ৬০ পিস সরবরাহ করার কথা, সেখানে বালিশ আনা হয়েছে ২ শত ৭৫ টাকা দরে ৫ শত ৭০ পিস

, অপরদিকে টেন্ডার আইডির ক্রমিক নং ১৬তে ট্যাবলেট সেফুরেক্সিম ৫০০ গ্রাম + ক্লাভনিক এসিড ১২৫ গ্রাম দরপত্রে চাওয়া হয়ে ছিলো ৬৫০ পিস, ট্যাবলেটের দাম ৬০ টাকা কিন্তু কার্যাদেশ দুটিতে সর্বমোট ৭ হাজার ৩ শতটি ট্যাবলেটের চাহিদাপত্র দেয়া হয়েছে, ৬৫০ পিস ট্যাবলেটের শর্তানুযায়ী সর্বোচ্চ শতকরা ২০% বাড়ানো গেলেও, এই পরিমান চাহিদা দেয়া কোন প্রকারেই সম্ভব নয়।

এখানে শুধুমাত্র একটি আইটেমই নয়, সকল গ্রুপের সকল আইটেমেই এই জালিয়াতি করা হয়েছে যার সব কিছুতেই চরমভাবে অনিয়ম করেছেন। এই ঔষধটি (ট্যাব. সেফুরেক্সিম ৫০০ গ্রাম + ক্লাভনিক এসিড ১২৫ গ্রাম) পঞ্চম প্রজন্মের এন্টিবায়োটিক, একজন রুগীর জন্য ১২-১৪ টি ট্যাবলেট প্রয়োজন, মাত্র ৫ শত ৩০ জন রুগীর সেবা প্রদানে কার্যাদেশ মূল্য প্রায় ৪ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা খরচ করে প্রায় ৩ লক্ষাধিক রোগিকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের সেবায় কার্যাদেশে একটি প্যারাসিটামল টেবলেট সরবরাহ করা হয়নি। তাছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সকল প্রকার এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করণ নিরুৎসাহিত করে দিবস পালন করে থাকে, সেখানে একই অধিদপ্তরের কর্মরত কর্মকতা হয়েও এই দ্বৈত্ব নীতি গ্রহণ করায় সংশ্লিষ্টরা কোন জবাব দিতে পারেননি।

 

এ ছাড়াও ষ্টিলের আলমিরাগুলোর থিকনেস ও ওজন খুবই দূর্বল, রোগির বেড ফোমগুলো মুষ্টিবদ্ধ করলে জমাট বেঁধে যায়, টিপ পড়লে ছিদ্র হয়ে যায়, ফোম কভার ছাড়াই যেগুলোর মূল্য ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩ শত টাকা, গজ, বেন্ডেজ, কটন প্রয়োজনের তুলনায় কয়েকগুন বেশী সরবরাহ করা হয়েছে। তা ছাড়া চুক্তি মোতাবেক

সকল গ্রুপের মালামাল সমূহ ১৪ দিনের মধ্যে সরবরাহের বধ্যাবাধকতা ছিলো, যার বিষয়ে বর্তমান দায়ীত্বরত কর্মকর্তাদের কোন সদত্তোর পাওয়া যায়নি।

এখানেই শেষ নয় ই-জিপিতে দরপত্র আহব্বান করেও সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা উক্ত সহোযোগী প্রতিষ্ঠানকে সার্বিক সহযোগীতায় নিয়ম বহিভর্‚তভাবে প্রতিটি এমএসআর গ্রুপের জন্য দুুইটি করে কার্যাদেশ প্রদান করে যান। ই-জিপি সিডিউল প্রতিটি গ্রুপ লট বা লট

মালামালের সংখ্যা বা পরিমান নির্দিষ্ট ছিলো, যা ই-জিপি শর্তাবলী মোতাবেক আইটিটি ধারা ৫৩.১ এ প্রতিটি আইটেম শতকরা ২০% কমাতে বা বাড়ানোর এখতিয়ার সিমাবদ্ধ ছিলো।

কিন্তু তিনি প্রতিটি কার্যাদেশেই তার আর্শিবাদ পুষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড সার্জিক্যালকে (বাড়ী নং ২৭, রোড নং ০৮, বøক-ই, রামপুরা, বনশ্রী, ঢাকা ১২১৯) নিয়ম বহির্ভূত ভাবে ই-জিপিতে আইডি নং ১০২৭৫১৯ ঔষধ (নন ইডিসিএল) ৫১ টি আইটেমের স্থলে এক কার্যাদেশেই ৩৩ টি আইটেম এবং অপরটিতে ২০ টি আইটেমের ঔষধের চাহিদা চাওয়া হয়েছিলো।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে দেবীদ্বার সরকারি হাসপাতালে ঔষধ ও এমএসআর সমগ্রী ক্রয়ের জন্য গত বছরর ই-জিপিতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড সার্জিক্যাল’র ‘ঔষধ নন-ইডিসিএল’, ‘এমএসআর যন্ত্রপাতি সামগ্রী’, ‘গজ-ব্যান্ডেজ-তুলা সামগ্রী’, ‘লিলেন সামগ্রী’, ‘ক্যামিকেল রি-এজেন্ট সামগ্রী’ ও ‘আসবাবপত্র’সহ ছয় গ্রুপের ছয়টি আইডিতে প্রায় ২

কোটি ২০ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকার দরপত্র আহব্বান করা হয়েছে। মূল বাজেটে এ ঔষধ সামগ্রীর মধ্যে সরকার নির্ধারিত ৭০% ঔষধ সামগ্রী ক্রয় এবং ৩০% সংশ্ষ্টি ঠিকাদার তার ইচ্ছা স্বাধীন সরবরাহ করবেন। দরপত্র দাখিলের (এবং কার্যাদেশ দেয়ার) সর্বশেষ সময়সীমা ও ছিল গত বছরের ২৪ নভেম্বর।

কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে ৪ ডিসেম্বর। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে চাহিদা প্রদানকৃত ঔষধসহ বিভিন্ন সামগ্রীর স্যাম্পল(নমুনা) জমা দেয়া এবং এসকল স্যাম্পলগুলো মূল্যায়ন কমিটির কর্তৃক বাছাইকৃত সামগ্রীর গায়ে স্বাক্ষর থাকার কথা। যা অডিটকালীন সময় পর্যন্ত সংরক

বিনোদন ভিডিও সংবাদ

তারিখ দিয়ে সংবাদ খুজুন

সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

দুর্নীতির নগর রাজত্ব পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার অধীনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত রাজউক 

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
দুর্নীতির নগর রাজত্ব পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার অধীনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত রাজউক 

 

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:

রাজউক—যে প্রতিষ্ঠানটির নাম দেশের নাগরিকদের কাছে ছিল একসময় স্বপ্নের আরেক নাম, আজ তা পরিণত হয়েছে দুর্নীতির মহাসিন্ডিকেটে রূপান্তরিত এক ভয়াবহ প্রশাসনিক ‘ডার্ক জোন’-এ। আর এই অন্ধকার সিস্টেমের কেন্দ্রে অবস্থান করছেন এক ব্যক্তি—পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া—যিনি আজ শুধুই একজন সরকারি কর্মকর্তা নন, বরং রাজউকের গায়ে শেকড় গেড়ে বসা এক দুর্নীতিচক্রের নির্লজ্জ সম্রাট।

 

তিনি যেন নিজেই প্রতিষ্ঠানের উপরে প্রতিষ্ঠিত এক প্রভু—যার নিয়ন্ত্রণে চলছে গোপন আর্থিক সাম্রাজ্য, যেখানে ব্যতিক্রম নয়—ঘুষের অঙ্ক, ক্ষমতার দম্ভ, অদৃশ্য চুক্তি এবং এক ভয়ংকর আমলাতান্ত্রিক তস্করগোষ্ঠীর স্বাধীন অভিযান।

 

সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার অধীনে রাজউকের মহাখালী জোন আজ কার্যত রূপ নিয়েছে ‘কর্তৃত্ববাদী দুর্নীতির হেডকোয়ার্টার’-এ। এখানে নির্মাণ পরিদর্শকরা আর নির্মাণ আইন প্রয়োগকারী নন—তারা এখন ঘুষ বাণিজ্যের টেকসই ‘ম্যানেজার’। প্রতিটি ফাইল আটকে রাখার পেছনে রয়েছে অর্থবাণিজ্যের হীনচক্র, যা পরিচালকের সরাসরি জ্ঞাতসারে সংঘটিত হচ্ছে বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। রাজউকের মূলনীতি ও আইনি কাঠামো এখানে শুধুই খোলস—তার আড়ালে গড়ে উঠেছে এক বিস্তৃত প্রশাসনিক ব্ল্যাকমার্কেট।

 

এই সিন্ডিকেটের অন্যতম কুশীলব ছিলেন মো. সোলাইমান হোসেন, যিনি ৩০ জানুয়ারি ২০২৫ সালে একজন সংবাদকর্মীর উপর প্রকাশ্যে হামলা চালিয়েছেন, শুধু এজন্য নয় যে তিনি সাংবাদিককে অপছন্দ করেন—বরং এটা ছিল পুরো চক্রটির বার্তা, “আমরা অপরাধী, কিন্তু ধরার কেউ নেই!” হামলার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছে, কিন্তু পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া এটিকে “তেমন কিছু না” বলে সরাসরি ধামাচাপা দিতে উদ্যত হয়েছেন। যদিও শেষপর্যন্ত তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। প্রশ্ন হচ্ছে—এমন স্পষ্ট অপরাধের বিচারহীনতা কি কেবল ঊর্ধ্বতনদের দুর্বলতা, নাকি তা পরিচালকের প্রশাসনিক মদতের প্রতিফলন?

 

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ শুধু পেশাগত নয়, ব্যক্তিগত পর্যায়েও ভয়াবহভাবে বিতর্কিত। অভিজাত ক্লাব, লাউঞ্জ আর বারগুলোতে তার নিয়মিত আসা-যাওয়া, মদ্যপান, নারীসঙ্গ—এসব নিয়ে প্রশাসনিক মহলে কানাঘুষা বহুদিনের। রাষ্ট্রীয় একজন কর্মকর্তার জীবনে যখন নৈতিকতার এমন দেউলিয়াত্ব আসে, তখন সেটি ব্যক্তিগত সীমা অতিক্রম করে রাষ্ট্রীয় নৈতিকতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তিনি যেন একজন আধুনিক-কালের দুর্নীতিগ্রস্ত কেলিগুলা, যিনি একাধারে ভোগবিলাস, ক্ষমতা ও ঘৃণ্য প্রশাসনিক দম্ভের প্রতীক।

 

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, তার সময়েই রাজউকের ইতিহাসে সবচেয়ে অযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো—মাত্র এসএসসি পাস আব্দুর রহিমকে প্রধান ইমারত পরিদর্শক হিসেবে! এমন এক পদ যেখানে প্রকৌশল, আইনি ও প্রশাসনিক দক্ষতা অপরিহার্য, সেখানে শুধুমাত্র ‘ঘুষ ক্ষমতা’ দিয়ে একজন শিক্ষাগতভাবে অযোগ্য ব্যক্তি কীভাবে আসীন হন? এ কি কেবল তদবির, না সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার ‘ম্যানেজমেন্ট থিওরি’-র ফল? এই নিয়োগ রাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যঙ্গ করে, এবং জনগণের আস্থাকে পদদলিত করে।

 

সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া আজ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফোন কেটে দেন, মেসেজের উত্তর দেন না, কিংবা রীতিমতো ব্যঙ্গাত্মক আচরণ করেন। অথচ একজন পরিচালকের উচিত ছিল জবাবদিহিমূলক আচরণ। বরং তার আচরণে ফুটে ওঠে একধরনের ঔদ্ধত্য, যা শুধুমাত্র দুর্নীতিগ্রস্ত ‘সুরক্ষিত চক্রের’ মধ্যেই দেখা যায়।

 

সালেহ্ আহমদ জাকারিয়া এখন রাজউকের ভেতরে রাষ্ট্রের বাইরে একটা ছোট ‘রিপাবলিক’ তৈরি করেছেন—যেখানে তার নিজের আইন, নিজের বিচার, নিজের শাসন। এই সাম্রাজ্যে প্রবেশ করতে হলে লাগে শুধু দুটি জিনিস—অন্ধ আনুগত্য আর মোটা ঘুষে

চলবে…..

রাজউক পরিদর্শক সোহাগ মিয়ার দালালি সাম্রাজ্য: শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৯:০৯ অপরাহ্ণ
রাজউক পরিদর্শক সোহাগ মিয়ার দালালি সাম্রাজ্য: শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ।

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক |

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৪/২ (মহাখালী)-এর ইমারত পরিদর্শক মো. সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধে উঠেছে অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ। রাজনৈতিক পরিচয় আর প্রভাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন শত কোটি টাকা।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, সোহাগ মিয়া একসময় ছাত্রলীগের পরিচয়ে দাপট দেখালেও পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজের রূপ বদলেছেন। বর্তমানে তিনি সরকারের উচ্চপদস্থ উপদেষ্টাদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে রাজউকে নিজের একক আধিপত্য বজায় রাখছেন। তার এই দাপটের সামনে জোন-৪/২-এর সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।

 

মহাখালী ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অসংখ্য নকশাবহির্ভূত ভবন গড়ে তোলার পেছনে সোহাগ মিয়ার প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো অবৈধ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হলেও, অদৃশ্য কারণে তা মাঝপথেই থমকে যায়।

 

অভিযোগ আছে, মোটা অঙ্কের উৎকোচ এবং মুচলেকার বিনিময়ে এসব অবৈধ স্থাপনাকে বৈধতা দেওয়া হয়। স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট হারে ‘পার্সেন্টেজ’ বা কমিশন ছাড়া এই জোনে কোনো ফাইল নড়ে না।

 

নির্মাণাধীন ভবনের অনুমোদন নিতে আসা সাধারণ গ্রাহকদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। সোহাগ মিয়া ও তার দালালি সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় করছে। অনেক ক্ষেত্রে “উপরে টাকা পাঠাতে হয়” এমন অজুহাতে প্রকাশ্যে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। তার দাবি করা অর্থ না দিলে ভবনে ত্রুটি খুঁজে বের করে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

 

রাজউকের অভ্যন্তরে সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ থাকলেও কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না। তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই বদলি বা বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দেওয়া হয়।

 

ফলে প্রশাসনের নাকের ডগায় বসেই তিনি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।

এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের উৎস এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে রাজউকের উচ্চপর্যায় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

[বিস্তারিত আসছে পরবর্তী সংখ্যায়…]

এস.এ ও বৈশাখী টিভির সংবাদ ভিত্তিহীন, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ কর্তৃপক্ষের তীব্র প্রতিবাদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩:০৩ পূর্বাহ্ণ
এস.এ ও বৈশাখী টিভির সংবাদ ভিত্তিহীন, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ কর্তৃপক্ষের তীব্র প্রতিবাদ

ডেস্ক রিপোর্ট:

গত ১১ মে ২০২৬ তারিখে এস. এ টিভি এবং বৈশাখী টিভির অনলাইন সংস্করণে “দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর মালিকানা নিয়ে ধোঁয়াশা, আসল মালিক কে?” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ। প্রকাশিত সংবাদটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মানহানিকর হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোঃ খায়রুল আলম রফিক জানান, জনপ্রিয় এই পত্রিকা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোনো প্রকার যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে।

প্রতিবাদে উল্লেখ করা হয়, এ বিষয়ে দুই মাস আগে ভাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের নেতা মোঃ শহীদুল ইসলাম উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। বিষয়টি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় আইনত এটি একটি ‘সাব-জুডিস’ বিষয়। বিচারাধীন মামলার বিষয়ে এ ধরনের একপাক্ষিক সংবাদ প্রকাশ করা আইনগত ও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

কর্তৃপক্ষ মনে করে, একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের উচিত ছিল সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করা। কিন্তু উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভ্রান্তি ছড়াতে একপাক্ষিক তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, যা পাঠকমহলে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা মাত্র।

প্রতিবাদে আরও বলা হয়, প্রতারক মির্জা সোবেদ আলী রাজা গত দুই বছর ধরে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যেই ময়মনসিংহের বিজ্ঞ আদালতে দুটি মানহানি মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং- ৩৪৯/২৬ এবং মামলা নং- ১০, তারিখ: ১৬/০৩/২০২৬)।

প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানিয়ে কর্তৃপক্ষ।

 

দুর্নীতির নগর রাজত্ব পরিচালক সালেহ্ আহমদ জাকারিয়ার অধীনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত রাজউক  রাজউক পরিদর্শক সোহাগ মিয়ার দালালি সাম্রাজ্য: শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ। এস.এ ও বৈশাখী টিভির সংবাদ ভিত্তিহীন, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ কর্তৃপক্ষের তীব্র প্রতিবাদ গণপূর্তে ৫০ কোটির নিয়োগ বাণিজ্য ও টেন্ডার সিন্ডিকেট নিয়ে তোলপাড়। মানবসেবায় নিবেদিত এক আলোকবর্তিকা আরফানুল আলম প্রধান গণপূর্ত প্রকৌশলী তাবেদুন সিন্ডিকেটের কোটি টাকা লুটপাট (১ম পর্ব) শত কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে যশোর গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম গণপূর্ত অধিদপ্তরে দুর্নীতির ‘অদৃশ্য সাম্রাজ্য’ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামছুদ্দোহাকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ ! গণপূর্তে সন্ত্রাসীদের দ্বারা সিন্ডিকেট গড়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদ হোসেন গণপূর্তের প্রকৌশলী তৈমুর আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়: নেপথ্যে ভাই ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা গণমাধ্যম সপ্তাহে দাউদকান্দিতে বর্ণাঢ্য শুভযাত্রা ও বৃক্ষরোপণ ২০২৬ সালের ঈদুল আযহা কবে? তারিখ, তাৎপর্য এবং প্রস্তুতির পূর্ণাঙ্গ গাইড দ্রুত ওজন কমানোর ১০টি বৈজ্ঞানিক ও কার্যকর উপায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা, খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই ইরানের জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে   ভণ্ড পীরের আস্তানা: শামীম রেজা সীতাকুণ্ডে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে খুন রূপগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ‘খারা মোশাররফ’র নেতৃত্বে হামলা: ১৮ লাখ টাকার সরঞ্জাম লুট দাউদকান্দিতে জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা প্রাণনাশের শঙ্কায় সাংবাদিক শরিফুল হোমনায় তিতাস নদী থেকে নারীর ভাসমান লাশ উদ্ধার দাউদকান্দিতে প্রবাসী কল্যাণ সংগঠনের উদ্যোগে ঈদে গরুর মাংস বিতরণ রিয়াদে প্রবাসী অপহরণ: ‘রনি গ্রুপ’-এর নির্যাতনে সর্বস্বান্ত সানা-উল্লাহ, মামলা দায়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইমারত পরিদর্শক উজ্জ্বল চন্দ্র দেব এর রঙ্গলীলা – পর্ব ১ “ উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) মাসুম বিল্লাহ। বর্তমানে কর্মরত শের-ই-বাংলা নগর ৩নং গণপূর্ত উপবিভাগের এসডিই হিসাবে