দিদারুল আলম
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে খেলাধুলা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) পাঠানো হয়েছে।
গুরুতর আহতদের মধ্যে কাজল নামের এক যুবককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢামেক-এর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৫ জন নামধারী ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ (এফআইআর) দায়ের করেছেন আহতদের পরিবারের সদস্য
মোসাঃ ফাতেমা বেগম।
হামলার সূত্রপাত ও বিবরণ
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ নভেম্বর মোহাম্মদপুর গ্রামের মাঠে স্থানীয় ছেলেদের মধ্যে খেলাধুলা নিয়ে প্রথমে একটি ঝগড়া হয়।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সেই সময় বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে উভয় পক্ষকে সাময়িকভাবে শান্ত করেন।
তবে, এর জের ধরেই পরদিন ২৭ নভেম্বর বিকাল অনুমানিক ৪টার দিকে, মোহাম্মদপুর চৌমুনীতে মালেক হাজীর বালুর মাঠে ঘটনার সূত্রপাত ঘটে।
অভিযোগকারী পক্ষ সেখানে ব্যাডমিন্টন কোর্ট প্রস্তুত করছিলেন। ঠিক সেই সময় বিবাদী পক্ষের ১৫ জন নামধারী এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জন সহযোগী ধারালো দা, লোহার রড, বাঁশের পাইপ ও লাঠি নিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ঘটনাস্থলে হামলা চালায়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ৮ নং বিবাদী মোসলেম চৌধুরীর হুকুমে হামলাকারীরা সাক্ষীদের ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে।
আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আহত যুবক
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে পাঁচজনের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর
কাজল।
(৫ নং সাক্ষী): তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় লোহার রড দিয়ে বারবার আঘাত করা হয়। আঘাতের ফলে তার নাক-মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ এবং বমি শুরু হয়।
অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয় এবং বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন।
শাওন ভূইয়া (১ নং সাক্ষী): তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো দা দিয়ে মাথায় কোপ মারা হয়, এতে তার মাথার বাম পাশে ৪টি সেলাই লেগেছে।
লোহার রডের আঘাতে তার ডান হাতের দুটি আঙুলের (কনিষ্ঠ ও অনামিকা) হাড় ভেঙেছে।
অন্যান্য গুরুতর আহত: ২ নং সাক্ষী মেহেদী হাসান, ৩ নং সাক্ষী খলিল ভূইয়া, এবং ৪ নং সাক্ষী হাবিবের শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের কোপ ও রডের আঘাতে গুরুতর রক্তাক্ত ও হাড় ভাঙ্গা জখম হয়েছে।
অন্যান্য সাক্ষীগণ বাধা দিতে গেলে তাদেরও মারপিট করে জখম করা হয়।
চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়া
আহতদের প্রথমে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
কর্তব্যরত চিকিৎসক ৬ থেকে ৯ নং সাক্ষীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দিলেও, বাকি পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
অভিযোগকারী মোসাঃ ফাতেমা বেগম জানান, হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ছাড়ার সময় এই বিষয়ে মামলা করলে আহতদের প্রাণে হত্যার হুমকি দেয়।
এই হুমকির কারণে পরিবারটি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
জখমীদের চিকিৎসার কাজে ব্যস্ত থাকায় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে অভিযোগকারী উল্লেখ করেছেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি পূর্ণাঙ্গ মামলা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে