খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

সদস্য প্রশাসন মোয়াজ্জেম’র বিরুদ্ধে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে ১১শ কর্মকর্তাকে পোস্টিং বাণিজ্য অর্ধশত কোটি টাকা ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৬:০৬ অপরাহ্ণ
সদস্য প্রশাসন মোয়াজ্জেম’র বিরুদ্ধে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে ১১শ কর্মকর্তাকে পোস্টিং বাণিজ্য অর্ধশত কোটি টাকা ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চরম অস্থিরতা চলছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)এ। ঘুষ, দুর্নীতি, নীতিমালা বহির্ভূত বদলি বাণিজ্য, দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলা সব মিলিয়ে সংস্থাটি বর্তমানে চরম ভাবমূর্তি সংকটে। বেশিরভাগ দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে সীমাহীন অস্থিরতা।

সবচেয়ে বিতর্কিত অবস্থানে রয়েছেন এনবিআর নতুন প্রশাসনে সদস্য হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ফ্যাসিবাদের দোসর ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তার মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি গত ৩ জুলাই এই পদে যোগদান করার পর নীতিমালা বহির্ভূত বদলী নিয়োগ চালিয়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তিনি পৃথক বদলী আদেশে এ পর্যন্ত প্রায় ১১শ কর্মকর্তাকে বদলি নিয়োগ করেছেন। প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা এই বদলি খাত থেকে আয় করারও অভিযোগ উঠেছে ঐ সদস্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

এআরও, আরও, এসি, ডিসি, জেসি, কমিশনার পর্যায়ের বেশিরভাগ কর্মকর্তাকেই বদলি করা হয়েছে। মোটা অংকের বিনিময়ে লোভনীয় পোস্টিং আবার চাহিদা মোতাবেক ঘুষ দিতে না পারায় ডাম্পিং পোস্টিং নিয়েও কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এনবিআর’র সার্বিক কর্মকান্ডে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বদলি বাণিজ্য করে অর্ধশত কোটি টাকা গ্রহণের বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট। এহেন ঘুষ কেলেঙ্কারির বিষয়টি জানাজানি হলে সম্প্রতি প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা রায়হান মেহেবুব সহ শাখার সৎ কর্মকর্তারা মোয়াজ্জেমের সাথে দায়িত্ব পালনে অপারগতা জানালে ৩৩ ব্যাচের ঐ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। এ নিয়েও কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

সূত্রমতে এআরও সারোয়ার হোসেন, আবু বকর সিদ্দিক, শাহ মোহাম্মদ আশিকুর রহমান, আজিজ প্রসাদ রুদ্র, মো: আবুল বাশার, সানাউল হক, বাবুল সিংহ, আ: কাদের সানাউল্লাহ, শামীম হোসেন, বনজ কান্তি রায়, আবু হোসেন, শারমিন জাহান, শাহজাহান কবির, কপিল দেব গোস্বামী, প্রভৃতি কর্মকর্তাদের কাছ

থেকে ২০-২৫ লাখ টাকা ঘুষের মাধ্যমে বদলী নীতিমালা লংঘন করে বদলি বাণিজ্য করা হয়েছে। অনুরূপ আরও পদের কর্মকর্তাদের লোভনীয় পদে নিয়োগ দিতে ২৫-৩০ লাখ, এসিদের ৩০-৫০ লাখ, ডিসিদের ৪০-৫০ লাখ, জেসিদের ৫০-৬০ লাখ ও কমিশনার পদে রদবদলে লোভনীয় কর্মস্থলে পোস্টিং দিতে ৩-৫ কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের ঘটনা ঘটেছে।

এনবিআর সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন হচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও বিমানবন্দর থানা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ফাতেমা জামান সাথীর খুবই ঘনিষ্ঠজন পরিচয়ে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বেপরোয়া ক্ষমতাসিন হয়ে পড়েন। ঐ সময়ে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন

কর্মকর্তাদেরও তিনি থোরাই কেয়ার করতেন। ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে অবীধভাবে হাতিয়ে নিয়েছেন শক শত কোটি টাকা। ’বিসিএস (শুল্ক ও আবগারী) দপ্তরের ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম চাকুরীকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অন্যায় সুবিধা দিয়ে সহকর্মীদের নিকট মুনাফিকি করে ঘুষ গ্রহন করেন।

তিনি বাইরে সততার লেবাস দেখান কিন্তু অবৈধ অর্থ লেনদেন হতে বিরত থাকেননি। তার বিরুদ্ধে আমেরিকায় অর্থ পাচার, পাবনায় অবস্থিত ইউনিভার্সেল গ্রুপের কাছে ১১ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহন, ঢাকা কাস্টমস কমিশনার থাকাকালে ব্যাপক দুর্নীতির প্রমান এবং যশোরের কমিশনার থাকাকালে অবৈধ সিগারেট বাণিজ্য হতে শত শত কোটি টাকা অবৈধ

অর্থ উপার্জনের সত্যতা রযেছে।

মোয়াজ্জেমের ছেলে আমেরিকার John Hopskin University তে সেমিস্টার প্রতি ৩৫,০০০ ডলার প্রদান করে পড়ালেখা করে। মোয়াজ্জেম হুন্ডির মাধ্যমে এই টাকা আমেরিকায় প্রদান করেন। ছেলে রাগীব মোয়াজ্জেমের এই লেখাপড়ার খরচ কোন মাধ্যমে বিদেশে প্রেরন করেছেন তার কোনো বৈধ উৎস নেই। আমেরিকার বাল্টিমোরে সম্প্রতি একটি বাড়ী ক্রয় করেছেন ছেলে ও ছেলে বৌ আদিবা গাল্ফারের নামে। বিষয়টি কাস্টমস ডিপার্টমেন্টের সবাই জানে।

উল্লেখ্য গত এপ্রিল মাসে এনবিআর বিলুপ্ত করে “রাজস্ব নীতি” ও “রাজস্ব ব্যবস্থাপনা” নামে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের অধ্যাদেশ জারি হয়। এরপর থেকেই সংস্থার ভেতরে অস্থিরতা দেখা দেয়। অধ্যাদেশ বাতিল ও চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে কর্মকর্তারা “সিবিএ স্টাইলে” ধর্মঘট, কলম বিরতি ও “মার্চ টু এনবিআর” কর্মসূচি পালন করেন। এই আন্দোলনের সময় নির্দিষ্ট কিছু সেবা ছাড়া প্রায় সব কার্যক্রম বন্ধ ছিল। মে ও জুনে বাজেট প্রণয়ন ও রাজস্ব আদায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়েও তারা অচলাবস্থা তৈরি করেন। কেউ কেউ প্রকাশ্যে বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলেন—যা এনবিআরের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

সংস্থার ভাবমূর্তি সংকটে একাধিক ঘটনায় এনবিআরের ভেতরে গভীর অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কর্মকর্তাদের একটি অংশ বলছেন, এই অনিয়মই সংস্থার ভাবমূর্তিকে নিচে নামিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সদস্য বলেন, “এটা অস্বীকারের উপায় নেই, এনবিআর ভাবমূর্তি সংকটে আছে। কিছু কর্মকর্তার কারণে পুরো সংস্থাটিই এখন দুর্নীতির প্রতীক মনে হচ্ছে।” একজন কমিশনার বলেন, “এখানে অধিকাংশ কর্মকর্তাই কোনো না কোনোভাবে আর্থিক অনিয়মে জড়িত। পার্থক্য শুধু কে ধরা পড়ছে আর কে পড়ছে না।” একজন দ্বিতীয় সচিবের ভাষায়, “এখন এনবিআরে কাজ করি এই পরিচয় দেওয়াটাই অনেক সময় লজ্জার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ”তবে এনবিআর বলছে,

অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে দুর্নীতি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি করবর্ষ থেকে ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আয়কর ও ভ্যাট অডিটও অনলাইন প্রক্রিয়ায় হচ্ছে। ভ্যাট রিফান্ড ও আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত নথিপত্রও ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডোর মাধ্যমে অনলাইনে দাখিল করা যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষের আশা, সব কার্যক্রম ডিজিটাল হলে ঘুষ, অনিয়ম ও হয়রানি কমে যাবে এবং ব্যবসায়ীরা স্বস্তি পাবেন।

নিজ আয়কর রিটার্নে অসত্য তথ্য প্রদানকারী এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান দুর্নীতিবাজ সদস্য (শুল্ক ও ভ্যাট প্রশাসন) মোয়াজ্জেম ২জনই স্বৈরাচারের দোসর হওয়ায় হাজারো অভিযোগ উত্থাপন হওয়া সত্বেও চেয়ারম্যান সাহেব বিষয় সমূহ ওভারলুক করে থাকেন

বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কমিশনার জানান।

এনবিআর সদস্য প্রশাসন মোয়াজ্জেমের এহেন ঘুষ বানিজ্যের ফলে প্রশাসনে চলমান অস্থিরতা নিরসনে ভুক্তভোগী কর্মকর্তাগন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন

বিনোদন ভিডিও সংবাদ

তারিখ দিয়ে সংবাদ খুজুন

সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১ 

ভারত থেকে ৫ হাজার টন ডিজেল আসছে আজ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ
ভারত থেকে ৫ হাজার টন ডিজেল আসছে আজ

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশে ৫ হাজার টন ডিজেল আসছে। আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এই জ্বালানি তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

বিপিসির বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে এই ডিজেল পাঠানোর পাম্পিং কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

 

জ্বালানি তেলের মজুত স্বাভাবিক রাখা এবং দেশজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার জরুরিভিত্তিতে এই উদ্যোগ নিয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে এই আমদানির ফলে পরিবহন খরচ ও সময় সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

এর আগে, এই পাইপলাইন দিয়ে আগামী ৪ মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টল ডিজেল আনার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। রবিবার ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুরোধ করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এ ছাড়া চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির চুক্তিও বিদ্যমান রয়েছে। তবে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েনে তা বন্ধ ছিল। এতে মোট ব্যয় হওয়ার কথা প্রায় ১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা; যার একটি অংশ বিপিসি এবং বাকি অর্থ ব্যাংকঋণ থেকে আসার কথা ছিল।

আওয়ামী সরকারের সুবিধাভোগী গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদের দুর্নীতি এখনো বহাল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
আওয়ামী সরকারের সুবিধাভোগী গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদের দুর্নীতি এখনো বহাল

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগে পতিত হাসিনা সরকারের অবৈধ অর্থের অন্যতম উৎস ছিল গণপূর্ত অধিদপ্তর। এই গণপূর্ত অধিদপ্তরের কিছু বিভাগ রয়েছে যেখানে পূর্ত কাজের সংখ্যা বেশি। কাজে সংখ্যা যেহেতু বেশি সেহেতু এইসব বিভাগের নিয়ন্ত্রণ যার হাতে থাকে তার উপরি আয়ও বেশি। আর আয় বেশি বলেই এসব বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হওয়ার জন্য প্রকৌশলীরা বিপুল পরিমাণ টাকা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে ঘুষও দিয়ে থাকেন। তেমনই একটি বিভাগ হলো ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪। এই বিভাগে গণপূর্তের প্রভাবশালী প্রকৌশলীরা ছাড়া সহজে কেউ পদায়ন পায়নি। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীসহ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনেক মন্ত্রী আমলারাও সুবিধা পেয়েছেন এই বিভাগ থেকে। তাই তারা তাদের নিজস্ব আস্থাভাজন লোক ছাড়া অন্য কোনো প্রকৌশলীকে এই বিভাগে পদায়ন করেনি। প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানাও তেমনই একজন আস্থাভাজন লোক। শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালীন তিনি এসব আওয়ামীপন্থীদের আস্থাভাজন হয়ে উঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেজন্যই তাকে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদায়ন করা হয়েছে বলে জানা যায়।

 

জানা যায়, মাসুদ শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-৩ ঢাকায় থাকাকালীন ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে এপিপির কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করেন। এতে শতকারা ৮০ ভাগ কাজই পেয়েছে আওয়ামীপন্থী ঠিকাদারেররা। আর ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করে মোটা অংকের কমিশন নিয়ে তাদের কাজ পেতে সহযোগীতা করেন মাসুদ।

 

গণপূর্ত সংশ্লিষ্ট্রা জানান, ছাত্র জীবন থেকেই মাসুদ ছাত্রলীগ রাজনীতির সাথে জড়িত। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীসহ ১৫ জন কর্মকর্তার নামে ছাত্র ও জনতা গণহত্যা মামলায় আসামী করা হলেও বাদ পরে মাসুদের নাম। অভিযোগ রয়েছে, এই গণহত্যা মামলা মীমাংসা করার জন্য মামলার বাদীর সাথে দেন-দরবার করছেন প্রধান প্রকৌশলীসহ তার অনুসারীরা। মামলা মীমাংসা করার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়ে পরলে এই অর্থের জোগান দেওয়ার দায়িত্ব বর্তায় প্রধান প্রকৌশলীর অনুসারীদের উপর। প্রধান প্রকৌশলীর অন্যতম অনুসারী মো. মাসুদ রানা ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার বাদীকে ম্যানেজ করার জন্য গত ১৪ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে এপিপির কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে এনসিটি পদ্ধতিতে দেওয়ার জন্য দরপত্র আহবান করেন। জানা যায়, প্রধান প্রকৌশলী একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে এপিপি কাজ এলটিএম পদ্ধতির ছাড়া ওন্য কোনো পদ্ধতিতে দেওয়া যাবে না। কিন্তু প্রধান প্রকৌশলীকে বাঁচাতে তারই আদেশে অমান্য করেন মো. মাসুদ। দরপত্রগুলোর ই-জিপি আইডি নম্বর হলো ১০৩৫৯১০, ১০৩৫৯৩৩, ১০৩৫৯৮৯, ১০৩৬১২৯, ১০৩৬১৪৬, ১০৩৬৪১৫, ১০৩৬৯৫৮, ১০৩৭১৩৪। এই সকল কাজগুলো পূর্ত ভবন ও মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট সংশ্লিষ্ট। এরমধ্যে ১০৩৫৯১০ ও ১০৩৬১২৯ আইডি দুটির কাজের ধরন হলো ফার্নিচার সরবারহ করা। কিন্তু ফার্নিচার সরবারহ করার জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের গণপূর্ত কারখানা বিভাগ থাকা সত্ত্বেও গণপূর্ত বিভাগ-৪ থেকে সরবরাহের দরপত্র আহবান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, এই দরপত্র দুটি গণপূর্ত বিভাগ-৪ থেকে আহবান করা হয়েছে দ্রুত অর্থের সঙ্কুলান করার জন্য।

 

গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষ বরাদ্দের দরপত্র ওটিএম পদ্ধতিতে আহবান করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিয়ে নামমাত্র কাজ করে মাসুদ রানা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভাগাভাগি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে এপিপি বরাদ্দের পাঁচটি কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করেছেন। গুঞ্জন রয়েছে এই পাঁচটি কাজ থেকেও মাসুদ রানা মোটা অংকের কমিশন পেয়েছেন।

 

এবিষয়ে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে টেন্ডার অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ণ
গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে টেন্ডার অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, কমিশন গ্রহণ এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ এ নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ইডেন গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

 

গণপূর্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ও নথিপত্র পর্যালোচনায় তার বর্তমান ও পূর্ববর্তী কর্মস্থলে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ এ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এপিপিভুক্ত কাজের প্রায় ৯০ শতাংশ দরপত্র এলটিএম (লিমিটেড টেন্ডারিং মেথড) পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম (ওপেন টেন্ডারিং মেথড) পদ্ধতিতে আহ্বানের অনুমোদন দিয়েছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে আহ্বানকৃত প্রায় ২০টি দরপত্র লাইভ রয়েছে। টেন্ডার ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের পদ্ধতিগত পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

 

একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে তার আগের কর্মস্থল ইডেন গণপূর্ত বিভাগেও। জানা গেছে, সেখানে দায়িত্ব পালনকালে ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এপিপিভুক্ত কাজের প্রায় ৮৫ শতাংশ দরপত্র এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে আহ্বানের অনুমতি দেওয়া হয়।

 

এছাড়া ইডেন গণপূর্ত বিভাগ থেকে বদলির ঠিক পূর্ব মুহূর্তে এপিপি’র আওতায় প্রায় ৯ কোটি টাকার সংস্কার কাজ তড়িঘড়ি অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক ঠিকাদারের কাছ থেকে গড়ে ১০ শতাংশ হারে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

অন্যদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের অভ্যন্তরে অবস্থিত ৮টি ভবনের সংস্কার বাবদ প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ না করেই প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

 

এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইডেন গণপূর্ত বিভাগের অধীনে সচিবালয়ের ৯টি ভবনের সংস্কারের নামে দেড় শতাধিক কাজ দেখিয়ে প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয় প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একই ধরনের কাজ বারবার দেখিয়ে ভুয়া বিল উত্তোলনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে।

 

এদিকে সাম্প্রতিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সচিবালয়ের নবনির্মিত ২০ তলা অফিস ভবনের ১০ম তলার একাধিক কক্ষে দেয়ালে ফাটল এবং পলেস্তরা খসে পড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে সিডিউল অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন না করেই পূর্ণাঙ্গ বিল উত্তোলনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল।

 

রাষ্ট্রীয় অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার এবং সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এসব অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সাত্তারের বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

ভারত থেকে ৫ হাজার টন ডিজেল আসছে আজ আওয়ামী সরকারের সুবিধাভোগী গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদের দুর্নীতি এখনো বহাল গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে টেন্ডার অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ খালেদা জিয়াকে নিয়ে অশালীন বক্তব্য, পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ৫ দৈনিক “প্রতিদিনের কাগজ” ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন: ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের তদন্ত প্রতিবেদনে নিশ্চিত দাউদকান্দিতে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়া করে ১১ লাখ টাকা আত্মসাৎ: প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সম্মানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিল বাবার ধর্ষণে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা দশম শ্রেণির ছাত্রী,  অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক: খোকসা থানার ওসির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, তদন্তের দাবি তিতাসে ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালী নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা: ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি বহিষ্কার তিতাসে সদ্য প্রয়াত কবি আলী আশরাফ খানের স্মরণে দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত  যশোরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৯ বায়োফার্মার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি: লকিয়তুল্লাহ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে ছাত্রদলের সাবেক নেতার বিরুদ্ধে ট্রলারের ইঞ্জিন চুরির অভিযোগ তিতাসে বিএনপি নেতা মাহফুজ সরকারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত  কোন দলাদলি নয় উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের আহ্বান —আখতার হোসেন  ভাঙ্গায় চাঞ্চল্যকর রাজ্জাক হত্যা মামলা তদন্তে পুলিশ সুপারের ঘটনাস্থল পরিদর্শন  অফিস খুলে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টায় জামায়াতের উদ্বেগ ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার ঘোষণা’ তারাবি না পড়লে রোজা হবে কি? এক নজরে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা তিতাস গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়!  বিক্ষোভের ডাক এনসিপির পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর বাসায় বিজয়ী শাহজাহান, মিষ্টিমুখ-কুশল বিনিময় পবিত্র রমজান মাস শুরুর তারিখ ঘোষণা করল ওমান পার্লামেন্টে গেলে ড. ইউনূসের ৬৬৬ কোটি টাকা লুটপাটের বিচার করব: তারেক রহমান দেবিদ্বার জোনাল অফিসে কর্মরত লাইন টেকনিশিয়ান মোঃ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তারুণ্যের প্রতীক সম্পাদক মোহাম্মদ মাসুদ-এর জন্মদিন আজ ইঞ্জিনিয়ার সবুরের হাত ধরে  আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া আনোয়ারের দলবদল নিয়ে গুঞ্জন