ছাত্রলীগের অর্থদাতা সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মেহেদী এখনও বহাল তবিয়তে
মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নিয়ে প্রশাসনে প্রবেশ করা সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা এম হাসান মেহেদী— নামটি এখন রাজস্ব দপ্তরে দুর্নীতি, রাজনৈতিক দালালি ও প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়ের সমার্থক হয়ে উঠেছে।
ঘুষের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরও এনবিআরের টনক না নড়া এবং তার বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন—এ এক সুস্পষ্ট বার্তা, যেখানে শুদ্ধাচারের বদলে রাজনৈতিক তদবিরই হচ্ছে টিকে থাকার মূল পাসপোর্ট।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এম হাসান মেহেদী দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগের বিভিন্ন প্রোগ্রামে অর্থ সরবরাহ করেছেন। বিশেষ করে ছাত্র আন্দোলনের বিপরীতে অবস্থান নিতে ছাত্রলীগের ক্যাডারদের হাতে ঘুষের টাকায় অর্থ জুগিয়েছেন তিনি—রাষ্ট্রীয় সেবার টাকায় রাজনৈতিক সহিংসতার পৃষ্ঠপোষকতার এক জঘন্য নজির।
নিজেকে ‘আওয়ামী লীগের লোক’ দাবি করে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রশাসনিক সুবিধা আদায়ের কৌশল ছিল তার অন্যতম অস্ত্র। কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের একজন সহকারী কমিশনার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রায় তিন বছর আগে একজন ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তদন্ত শুরুর আগেই একজন আওয়ামী মন্ত্রীর এপিএস ফোন দিয়ে বলে দেন, ‘এই মামলা যেন সামনে না এগোয়’। এরপর থেকেই মেহেদী নিজেকে ছোঁয়ার বাইরে মনে করে।”
দুর্নীতি কেবল ঘুষ গ্রহণেই সীমাবদ্ধ নয়- তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হয়েছে। খুলনায় প্রায় ৮০ লাখ টাকা দিয়ে জমি ক্রয়, নামে-বেনামে শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের নামে সম্পত্তি নিবন্ধন, নিজের ভাইকে গাড়ি ক্রয় উপহার এসবই ঘুষের টাকায়।
একজন সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারিয়েছে, কিন্তু তার দোসররা এখনও অটল। এম হাসান মেহেদীর ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল হয়, সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়, অথচ এনবিআর নিশ্চুপ। এটা কি প্রশাসনের নৈতিক মৃত্যু নয়? নাকি এখনও প্রাক্তন এমপি-মন্ত্রীর তদবিরে তাকে আড়াল করা হচ্ছে?
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, আজ যদি এম হাসান মেহেদীর মতো দুর্নীতিবাজ ঘুষখোরদের ছাড় দেওয়া হয়, তাহলে রাজস্ব প্রশাসন হরিলুটের প্রতিযোগিতায় পরিণত হবে। তখন প্রশ্ন থাকবে- কে কত বড় সম্পদের পাহাড় গড়তে পারে, আর কে রাজনৈতিক তদবিরে ধরা এড়াতে পারে।
যতদিন এই শকুনের ডানা ছেঁড়া না হবে, ততদিন রাজস্বের আকাশে শুদ্ধাচারের সূর্য উঠবে না।



