খুঁজুন
রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ২৭ বৈশাখ, ১৪৩৩

শত কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে যশোর গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ
শত কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে যশোর গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সরকারি চাকরির সীমিত বেতন কাঠামোর আড়ালে বিপুল সম্পদের মালিকানা, টেন্ডার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, কমিশন বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে শত কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করে একটি শক্তিশালী ঠিকাদার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও ভুক্তভোগীদের।

 

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরির সীমিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে খুলনার জোড়াকল বাজার এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন জাহিদুল ইসলাম। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার বলয় ব্যবহার করে তিনি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী দুর্নীতি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন বলেও দাবি উঠেছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পে সুপরিকল্পিত টেন্ডার কারসাজি, দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং কমিশনভিত্তিক কাজ বণ্টনের মাধ্যমে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একাডেমিক ভবন, হাসপাতালের ওটি, আইসিইউ, সিসিইউ ভবনের লিফট স্থাপনসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোতে বারবার সর্বনিম্ন দরদাতাদের বাদ দিয়ে সিন্ডিকেটভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

এছাড়া কমিশন বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে ৩ থেকে ৪ মাস পর্যন্ত দরপত্র নিষ্পত্তি ঝুলিয়ে রাখা, অতিরিক্ত দামে কাজ প্রদান এবং প্রকৃত যোগ্য ঠিকাদারদের অভিযোগ উপেক্ষা করারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, একই ধরনের অনিয়ম সড়ক, ড্রেন, পুকুর খননসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক প্রকল্পেও করা হয়েছে।

 

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, কুষ্টিয়ার নতুন সার্কিট হাউস, মডেল মসজিদসহ একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে একই কৌশলে লুটপাট ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি পূর্বে চলমান বড় প্রকল্পধারী কিছু প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় কাজ পাইয়ে দিতে সর্বনিম্ন দরদাতাদের অযোগ্য দেখানোরও অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযোগের তালিকায় আরও রয়েছে, কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের ৪০ বছর পুরনো এক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর সরকারি বাসভবনের কাঠামো পরিবর্তনের নামে নামে-বেনামে দরপত্র আহ্বান করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, একই ভবনে একই অর্থবছরে একাধিকবার ‘মেরামত কাজ’ দেখিয়ে বিল উত্তোলন এবং ডিসি অফিসের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণে একই অর্থবছরে বারবার টেন্ডার ডেকে অর্থ লোপাটের অভিযোগ।

 

সদর হাসপাতাল, জজ কোর্ট, ডিসি অফিসসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলোতে ‘ওভারল্যাপিং প্রকল্প’ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, এসব বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়লেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসনিকভাবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

 

এসব অভিযোগের বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

বিনোদন ভিডিও সংবাদ

তারিখ দিয়ে সংবাদ খুজুন

সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

গণপূর্ত প্রকৌশলী তাবেদুন সিন্ডিকেটের কোটি টাকা লুটপাট (১ম পর্ব)

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
গণপূর্ত প্রকৌশলী তাবেদুন সিন্ডিকেটের কোটি টাকা লুটপাট (১ম পর্ব)

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ফ্যাসিবাদের অন্যতম দোসর, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ঢাকা ডিভিশন-১ এর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী জোয়ারদার তাবেদুন নবীর বিরুদ্ধে মিরপুরে হাজার কোটি টাকার সরকারি জমি হরিলুটের ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ছয় কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে মিরপুর সেকশন-৯ এর প্রায় ২০ একর সরকারি জমি ১৭টি বেসরকারি কোম্পানি ও ভূমিদস্যুর হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি। বদলি হয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর করার ঠিক আগের দিন, এক নজিরবিহীন জালিয়াতির মাধ্যমে পূর্বের সব নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে এই ছাড়পত্র দেন তিনি।

 

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই মহাসড়যন্ত্রের বিষয়টি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হলেও, তাকে সাময়িক বরখাস্ত না করে দেওয়া হয়েছে নামমাত্র ‘তিরস্কারের’ শাস্তি! অদৃশ্য খুঁটির জোরে বহাল তবিয়তে থাকা এই প্রকৌশলীর কাণ্ডে এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে শত শত সাধারণ ফ্ল্যাট ক্রেতার।

 

বদলি হওয়ার আগের দিনের সেই ‘মহা-মিশন’

অনুসন্ধানে জানা যায়, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ঢাকা ডিভিশন-১ এর মিরপুরস্থ হাউজিং এস্টেটের বাউনিয়া মৌজাস্থ ৯ নং সেকশনের স্বপ্ননগর-২ প্রকল্পের উত্তর পার্শ্ব সংলগ্ন জায়গাটি সরকারের গেজেটভুক্ত ও গৃহসংস্থান অধিদপ্তরের (বর্তমানে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ) নিজস্ব সম্পত্তি (এল, এ. কেস নম্বর-০৫/৭২-৭৩ ও ১৩/৫৯-৬০)।

 

আলোচ্য সি. এস. ৩১০১ থেকে ৩১২৮ পর্যন্ত বিভিন্ন দাগের প্রায় ২০.০১ একর জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে আলিনগর, হ্যাভিলি লিমিটেড, এ্যাসিউর, সাগুপ্তা হাউজিং, এন,এম, হাউজিং লিমিটেড, সানভিউ টাওয়ার্স, আরএকে-২ ও সিটি লাইফ প্রোপার্টিজসহ ১৭টি কোম্পানি ও ব্যক্তি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল।

 

সরকারি এই জমি উদ্ধারে দীর্ঘদিন ধরে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ ছিল। কিন্তু জোয়ারদার তাবেদুন নবী বদলি হওয়ার পর, দায়িত্বভার বুঝিয়ে দেওয়ার ঠিক আগের দিন অর্থাৎ গত ২০ আগস্ট ২০২৪ তারিখে এক অভিনব জালিয়াতির আশ্রয় নেন। হাউজিং ডিভিশন-১, ঢাকার স্মারক নং ৩০১৫-এর মাধ্যমে তিনি পূর্বের সকল নিষেধাজ্ঞা ও জারিকৃত পত্র বাতিল করে রাজউক চেয়ারম্যান, মিরপুর সার্কেলের এসি ল্যান্ড, রাজউকের অথরাইজড অফিসার ও পল্লবী-তেজগাঁওয়ের সাব-রেজিস্ট্রারকে নতুন ছাড়পত্র পাঠিয়ে দেন। অভিযোগ রয়েছে, এই ছাড়পত্র দেওয়ার বিনিময়ে ‘মহিউদ্দিন গং’ নামের একটি চক্রের কাছ থেকে নগদ ছয় কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন তাবেদুন নবী।

 

তার এই এক চিঠির ওপর ভর করে ভূমিদস্যুরা দেদারসে সরকারি জমি রেজিস্ট্রেশন ও নকশা পাসের সুযোগ পেয়ে যায়। বর্তমানেও জমিটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই, ১৭টি কোম্পানি সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

 

মিরপুরের ‘অঘোষিত চেয়ারম্যান’ ও তার সিন্ডিকেট

তাবেদুন নবী নিজেকে সবসময় সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুজ্জামান শিখরের আত্মীয় পরিচয় দিতেন। এই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তিনি দীর্ঘ তিন বছর আট মাস ঢাকা ডিভিশন-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং মিরপুরকে নিজের ব্যক্তিগত তালুকে পরিণত করেন।

 

এই দীর্ঘ সময়ে তিনি শেখ সোহেল রানা, ইমামুল, শাহারিয়ার জনি ও রাদিউজ্জামানদের নিয়ে একটি শক্তিশালী ‘লুটপাট সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলেন। মিরপুরের যেকোনো জমির নামজারি, প্লট বরাদ্দ, আবাসিক প্লটকে বাণিজ্যিকে রূপান্তর কিংবা বাণিজ্যিক প্লটকে শিল্প প্লটে রূপান্তরের মতো বড় বড় কাজ নিয়ন্ত্রণ করত এই চক্র। গৃহায়ণের চেয়ারম্যানরা নামমাত্র আসতেন আর যেতেন, কিন্তু মিরপুরের মূল ক্ষমতা ধরে রেখেছিলেন ‘অঘোষিত চেয়ারম্যান’ তাবেদুন নবী।

 

অফিসেই চলত অনৈতিক অবিচার

তাবেদুন নবীর এই সিন্ডিকেটে জড়িয়ে ছিল চরম নৈতিক অবক্ষয়ের গল্প। অভিযোগ রয়েছে, তাবেদুন নবীর ‘তানিয়া রহমান’ (পিতা: খন্দকার আব্দুস সামাদ, মাতা: সুফিয়া সামাদ) নামের এক বান্ধবী ছিলেন। তানিয়া রহমানের স্বামী নিজেই পাহারাদারের ভূমিকা পালন করে তাকে মিরপুর হাউজিং অফিসে নিয়ে আসতেন।

 

অফিস চলাকালীন তানিয়া রহমান ও জোয়ারদার তাবেদুন নবী নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একান্ত সময় কাটাতেন। ওই সময় সাধারণ মানুষ তো বটেই, অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবেশাধিকারও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকত। ফ্যাসিবাদের ভয়ে সে সময় কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি। এই অনৈতিক সম্পর্কের সুবাদে তানিয়া রহমান একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট বাগিয়ে নেন এবং মিরপুরে কোটি কোটি টাকার জমির দালালি ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যান।

 

সবাই যখন সাধু!

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, স্বপ্ননগর-২ প্রকল্পের উত্তর দিকের সীমানা প্রাচীর দেওয়া নিয়ে অবৈধ দখলদারদের সুবিধার্থে সেগুনবাগিচায় তৎকালীন গৃহায়ণ চেয়ারম্যানের সভাকক্ষে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকে গৃহায়ণের আইন কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, ঢাকা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সদস্য (প্ল্যানিং) বিজয় কুমার মন্ডল এবং আওয়ামী পান্ডা শেখ সোহেল রানাসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

 

অভিযোগ রয়েছে, ওই বৈঠকে সবার সম্মিলিত সিদ্ধান্তেই তাবেদুন নবীকে এই কুখ্যাত NOC বা ছাড়পত্র দেওয়ার সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছিল। তাবেদুন নবী একাই ৬ কোটি টাকা পাননি, বরং পুরো সিন্ডিকেটই এই লুটের ভাগ পেয়েছিল। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় এখন বাকিরা ‘সাধু’ সাজার চেষ্টা করছেন।

 

বর্তমান প্রশাসনের অসহায়ত্ব

সরকারি জমি উদ্ধারে বর্তমান প্রশাসন এখন চরম বিপাকে পড়েছে। এ বিষয়ে বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কায়সার ইবনে সাঈখ বলেন,

 

“আমাদের লোকজন ওই সরকারি জমি উদ্ধার করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে দখলদারদের হামলার শিকার ও আহত হয়েছেন। আমরা মামলা করেছি। বিষয়টি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের হেড অফিসকে অবহিত করে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে পরবর্তী নির্দেশনা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। হেড অফিস থেকে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিলে আমরা অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে পারব।”

 

সর্বস্বান্ত সাধারণ ক্রেতারা

তাবেদুন নবীর এই অভিনব জালিয়াতির কারণে এখন বলির পাঁঠা হয়েছেন শত শত সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষ। যারা নিজেদের সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে স্বপ্ননগর-২ প্রকল্পের আশপাশে এসব বেসরকারি কোম্পানির ফ্ল্যাট কিনেছিলেন, তারা এখন চরম অনিশ্চয়তায়। নতুন করে রেজিস্ট্রেশন, নামজারি ও নকশা পাসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসায় গ্রাহকদের টাকা ও ফ্ল্যাট দুটোই এখন আইনি মারপ্যাঁচে আটকে গেছে।

 

একজন সরকারি প্রকৌশলী কীভাবে এমন সমান্তরাল সিন্ডিকেট চালালেন, কীভাবে তিনি হাজার কোটি টাকার মালিক হলেন এবং কার ইশারায় তার কঠোর শাস্তির বদলে নামমাত্র ‘তিরস্কার’ করে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে—তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

(আগামী পর্বে সমাপ্য: দ্বিতীয় পর্বে থাকছে তাবেদুন নবীর নামে-বেনামে থাকা অঢেল সম্পদ, বিদেশে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার ও তার দেশব্যাপী বিস্তৃত দুর্নীতির অদৃশ্য নেটওয়ার্কের চাঞ্চল্যকর তথ্য…)

গণপূর্ত অধিদপ্তরে দুর্নীতির ‘অদৃশ্য সাম্রাজ্য’ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামছুদ্দোহাকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ !

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ণ
গণপূর্ত অধিদপ্তরে দুর্নীতির ‘অদৃশ্য সাম্রাজ্য’ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামছুদ্দোহাকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ !

 

 

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:

গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পওবিপ্র) মো. শামছুদ্দোহাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়ম, টেন্ডার বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ প্রভাব খাটানোর অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় চলছে সংশ্লিষ্ট মহলে। অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাবি, চাকরির শেষ পর্যায়ে এসে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন এবং পিআরএলে যাওয়ার আগে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

 

বিসিএস পাবলিক ওয়ার্কস ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে তিনি এমন এক ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করেছেন, যেখানে তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট, যারা প্রকল্প অনুমোদন, বাজেট বণ্টন, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

 

গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, শামছুদ্দোহার নিয়ন্ত্রণাধীন সিন্ডিকেট নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের সুবিধা দিতে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করেছে। এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র অনুমোদন দিয়ে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সাভার সার্কেলে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি আবাসন প্রকল্পের দরপত্রে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

একইভাবে ময়মনসিংহ জোনে দায়িত্বে থাকাকালে মডেল মসজিদ প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের এপিপি বরাদ্দ ও প্রাক্কলন অনুমোদনে অনিয়ম এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠে আসে। একাধিক সূত্রের দাবি, প্রকল্প অনুমোদনের প্রতিটি ধাপেই কমিশন ছাড়া কোনো ফাইল নড়ত না। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সৎ ও নিরীহ কর্মকর্তারা।

 

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে শামছুদ্দোহা দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। রাজধানীর গুলশান, বনানী, উত্তরা, মিরপুর, বসুন্ধরা ও বারিধারায় তাঁর নামে-বেনামে একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট থাকার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বিশাল এলাকাজুড়ে আলিশান বাড়ি ও রিসোর্ট নির্মাণের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি অভিযোগকারীদের। দুর্নীতির অর্থ বিদেশে পাচার করে সেখানে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল প্রকাশ হয়নি।

অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর দাবি, ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি বিশেষ সুবিধা ভোগ করেছেন।

আনন্দ মোহন কলেজ ও বুয়েট ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মহলে তাঁর শক্ত অবস্থান তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সাবেক প্রধান প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান মুন্সীর আত্মীয় হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছেন বলেও দাবি সংশ্লিষ্টদের।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একের পর এক অভিযোগ রহস্যজনকভাবে ধামাচাপা পড়ে যায়। ফলে অধিদপ্তরে কার্যত একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেন তিনি।

শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগও রয়েছে শামছুদ্দোহার বিরুদ্ধে। যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি, তবুও অধিদপ্তরের ভেতরে এসব অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত বলে জানিয়েছেন একাধিক কর্মকর্তা।

অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, আর মাত্র দুই মাস পর পিআরএলে যাওয়ার কথা থাকায় বর্তমানে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন শামছুদ্দোহা। চাকরির শেষ সময়ে এসে দ্রুত আখের গোছাতেই তিনি মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অতি সম্প্রতি প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব পাওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে তদবির চালালেও শেষ পর্যন্ত সফল হননি বলেও জানা গেছে।

 

গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়ম, টেন্ডার দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, নারী কেলেঙ্কারি এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তারা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে মো. শামছুদ্দোহার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

গণপূর্তে সন্ত্রাসীদের দ্বারা সিন্ডিকেট গড়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদ হোসেন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
গণপূর্তে সন্ত্রাসীদের দ্বারা সিন্ডিকেট গড়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদ হোসেন

 

 

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:

 

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে পৈশাচিক কায়দায় উস্কানী প্রদান ও অর্থযোগান দাতা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিল। আওয়ামী ম্যান” পরিচয়ে বিগত সরকারের শাসনামলে বিশেষ সুবিধা গ্রহণ, নিজস্ব ঠিকাদারদের সমন্বয়ে সিন্ডিকেট গঠন, কাজ না করে ভূয়া বিল ভাউচার করে বিল উত্তোলন, বহিরাগত লোক দিয়ে অফিসে কাজ করানো,

 

অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদ অর্জনসহ নানা অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলী তামজীদ হোসেনের বিরুদ্ধে। দুর্নীতি অভিযোগ থাকলেও আইন কে কেয়ার করে রয়েছেন বহাল তবিয়তে।

 

বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে জানাগেছে, গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের শেষের দিকে নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদ হোসেন চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন।ওই সময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন পৈশাচিক কায়দায় দমনে উস্কানী প্রদান ও অর্থায়ন করার অভিযোগ ছিল তামজীদের বিরুদ্ধে। সরকার পতনের পর জনগণের রোষানলে পড়ে তাঁর চট্টগ্রামে থাকা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

 

অবস্থা বেগতিক দেখে বিপুল অর্থযোগে তদবির করে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম সার্কেল-২ এর অধিনে ই/এম বিভাগ-৫ এ বদলি হয়ে আসেন। তামজীদের ঢাকায় বদলি হওয়ার ক্ষেত্রে গণপূর্ত অধিদপ্তরের

ই/এম সার্কেল-২ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কায়কোবাদ সহযোগিতা করেছেন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে। নানা দুর্নীতির অভিযোগ থাকা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: কায়কোবাদ চট্টগ্রামে দায়িত্বরত থাকাকালীন তামজীদ তাঁর অধীনে কর্মরত ছিলেন।

 

ওই সখ্যতার মাধ্যমে একান্ত অনুগত হয়ে ওঠা শিষ্যকে নিজের সার্কেলের অধীনে এনে সেন্ডকেটটি শক্তিশালী করে গড়ে তোলেন। তামজিদ একা ঢাকায় বদলি হয়ে আসেননি। তাঁর সঙ্গে চট্টগ্রামের একাধিক আস্থাভাজন ঠিকাদারদেরও নিয়ে এসেছেন। গড়ে তুলেছেন নিজস্ব বলয় দুর্নীতি বাজ ঠিকাদার সিন্ডিকেট। বিশেষকরে তাঁর ক্যাডার খ্যাত মিঠুনকে চট্টগ্রাম

 

এবিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্যে গণপূর্ত উপদেষ্টা, সচিব ও প্রধান প্রকৌশলীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ই/এম বিভাগ ৫ এর সংক্ষুব্ধ কর্মচারিগণ। তামজিদ হোসেন আওয়ামী পৃষ্ঠপোষকতায় ২০১৩ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদান করেন। একটি বেসরকারি

 

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছেন। চাকরির শুরু থেকে আওয়ামী রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে সুবিধা বাগিয়ে নিয়েছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভোল পাল্টে সুযোগ সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করছেন।

গণপূর্ত প্রকৌশলী তাবেদুন সিন্ডিকেটের কোটি টাকা লুটপাট (১ম পর্ব) শত কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে যশোর গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম গণপূর্ত অধিদপ্তরে দুর্নীতির ‘অদৃশ্য সাম্রাজ্য’ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামছুদ্দোহাকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ ! গণপূর্তে সন্ত্রাসীদের দ্বারা সিন্ডিকেট গড়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদ হোসেন গণপূর্তের প্রকৌশলী তৈমুর আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়: নেপথ্যে ভাই ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা গণমাধ্যম সপ্তাহে দাউদকান্দিতে বর্ণাঢ্য শুভযাত্রা ও বৃক্ষরোপণ ২০২৬ সালের ঈদুল আযহা কবে? তারিখ, তাৎপর্য এবং প্রস্তুতির পূর্ণাঙ্গ গাইড দ্রুত ওজন কমানোর ১০টি বৈজ্ঞানিক ও কার্যকর উপায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা, খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই ইরানের জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে   ভণ্ড পীরের আস্তানা: শামীম রেজা সীতাকুণ্ডে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে খুন রূপগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ‘খারা মোশাররফ’র নেতৃত্বে হামলা: ১৮ লাখ টাকার সরঞ্জাম লুট দাউদকান্দিতে জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা প্রাণনাশের শঙ্কায় সাংবাদিক শরিফুল হোমনায় তিতাস নদী থেকে নারীর ভাসমান লাশ উদ্ধার দাউদকান্দিতে প্রবাসী কল্যাণ সংগঠনের উদ্যোগে ঈদে গরুর মাংস বিতরণ রিয়াদে প্রবাসী অপহরণ: ‘রনি গ্রুপ’-এর নির্যাতনে সর্বস্বান্ত সানা-উল্লাহ, মামলা দায়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইমারত পরিদর্শক উজ্জ্বল চন্দ্র দেব এর রঙ্গলীলা – পর্ব ১ “ উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) মাসুম বিল্লাহ। বর্তমানে কর্মরত শের-ই-বাংলা নগর ৩নং গণপূর্ত উপবিভাগের এসডিই হিসাবে দাউদকান্দি উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান শাহীন পুনর্বহাল রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে চট্টগ্রামে বেস্ট ফ্লাই ও বঙ্গনিউজের ইফতার আয়োজন ভারত থেকে ৫ হাজার টন ডিজেল আসছে আজ