নিজস্ব প্রতিবেদক:
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, কমিশন গ্রহণ এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ এ নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ইডেন গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
গণপূর্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ও নথিপত্র পর্যালোচনায় তার বর্তমান ও পূর্ববর্তী কর্মস্থলে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ এ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এপিপিভুক্ত কাজের প্রায় ৯০ শতাংশ দরপত্র এলটিএম (লিমিটেড টেন্ডারিং মেথড) পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম (ওপেন টেন্ডারিং মেথড) পদ্ধতিতে আহ্বানের অনুমোদন দিয়েছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে আহ্বানকৃত প্রায় ২০টি দরপত্র লাইভ রয়েছে। টেন্ডার ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের পদ্ধতিগত পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে তার আগের কর্মস্থল ইডেন গণপূর্ত বিভাগেও। জানা গেছে, সেখানে দায়িত্ব পালনকালে ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এপিপিভুক্ত কাজের প্রায় ৮৫ শতাংশ দরপত্র এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে আহ্বানের অনুমতি দেওয়া হয়।
এছাড়া ইডেন গণপূর্ত বিভাগ থেকে বদলির ঠিক পূর্ব মুহূর্তে এপিপি’র আওতায় প্রায় ৯ কোটি টাকার সংস্কার কাজ তড়িঘড়ি অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক ঠিকাদারের কাছ থেকে গড়ে ১০ শতাংশ হারে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের অভ্যন্তরে অবস্থিত ৮টি ভবনের সংস্কার বাবদ প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ না করেই প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইডেন গণপূর্ত বিভাগের অধীনে সচিবালয়ের ৯টি ভবনের সংস্কারের নামে দেড় শতাধিক কাজ দেখিয়ে প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয় প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একই ধরনের কাজ বারবার দেখিয়ে ভুয়া বিল উত্তোলনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সচিবালয়ের নবনির্মিত ২০ তলা অফিস ভবনের ১০ম তলার একাধিক কক্ষে দেয়ালে ফাটল এবং পলেস্তরা খসে পড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে সিডিউল অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন না করেই পূর্ণাঙ্গ বিল উত্তোলনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল।
রাষ্ট্রীয় অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার এবং সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এসব অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সাত্তারের বক্তব্য পাওয়া যায় নি।