গান আমার প্রাণ আর আমি গানেরই মানুষ
দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সোমনূর মনির কোনাল। সিনেমার গান থেকে শুরু করে একক সংগীত—সবখানেই তার কণ্ঠে সুর ছড়িয়েছেন।
দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সোমনূর মনির কোনাল। সিনেমার গান থেকে শুরু করে একক সংগীত—সবখানেই তার কণ্ঠে সুর ছড়িয়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে তার নতুন গান ‘ময়না’, কয়েক দিনের মধ্যেই গানটি ইউটিউবের ট্রেন্ডিং তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। ‘ময়না’ গান, সাম্প্রতিক সংগীতচর্চা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কোনালের সঙ্গে আলাপ করেছেন
দৈনিক ভোরের নতুন বার্তা
সম্প্রতি কোনালের কণ্ঠে প্রকাশিত ময়না গানটি শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গানটি প্রকাশের পর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রশংসা পাচ্ছেন কোনাল। এরই মধ্যে গানটি ট্রেন্ডিংয়ের শীর্ষে উঠে আসে, যা তার জন্য বড় এক গর্বের মুহূর্ত। তিনি বলেন, ‘আমি দর্শক-শ্রোতাদের কমেন্টগুলো নিয়মিত দেখছি—সবখানে গানটির প্রশংসা পেয়েছি।
আমার মিউজিক ফ্রেটারনিটির অনেকে গানটি শেয়ার করেছেন। এমনকি তাদের মতামত নিয়ে আমি নিজের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও আপলোড করেছি। দর্শক-শ্রোতার এসব প্রতিক্রিয়া আমাকে অনেক উৎসাহ দেয়।’
গান বাছাইয়ের সময় কোনালের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব থাকে গানের কথায়। সেটি ময়না কিংবা যেকোনো গানের বেলায়। তিনি বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারে এমন কোনো গান নেই, যার কথা অশ্লীল বা অশোভনীয় হয়।
ফিল্মের গান গাওয়ার সময়ও আমি লিরিক বার বার যাচাই করি। যদি কোনো লাইন ভালো না লাগে, প্রয়োজন হলে দাঁড়িয়ে থেকে সেটি বদল করি, তার পরই গাই।’
এ নীতি ও সচেতনতা তিনি ২০০৯ সাল থেকে মেনে চলছেন। তার মতে, সুর যতই মনোমুগ্ধকর হোক, যদি গানের কথায় কোনো আপত্তিকর দিক থাকে, তাহলে সে গানে কণ্ঠ দেয়া তার জন্য অসম্ভব।
কোনাল মনে করেন, প্রতিটি গান একটি নতুন যাত্রার মতো। তিনি বলেন, ‘যেভাবে প্রতিটি প্রেম নতুন, ঠিক তেমনি প্রতিটি গানও আমার কাছে নতুন একটি সুযোগ এবং নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করার জায়গা। একেকটি গান একেক রকম আবহের দাবি রাখে।
যেমন “আমার কি হও তুমি” গানে ছিল আবেগ আর অভিমান, আর “ময়না” গানে ছিল পুরোপুরি এনার্জি আর নাচের ছন্দ।’ কোনালের মতে, একজন শিল্পীর সফলতা তখনই আসে যখন সে গানের দাবি অনুযায়ী চরিত্র হয়ে ওঠার চেষ্টা করে।
শ্রোতারা প্রায়ই বলেন, ‘কোনালের কণ্ঠে থাকে একটি সিনেমাটিক আবহ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা আমার জন্মগত কিছু নয়। আমি আমার প্রিয় শিল্পীদের গান শুনে শুনে সেটি আত্মস্থ করার চেষ্টা করেছি।’ তার মতে, সিনেমার গানে সঠিক কণ্ঠ তৈরি করা সম্ভব শুধু কঠোর সাধনা ও সচেতন অনুশীলনের মাধ্যমে।
কোনাল মনে করেন, মঞ্চ হলো একজন শিল্পীর সবচেয়ে পবিত্র জায়গা। ‘স্টেজে দাঁড়িয়ে আমি পুরো হলে দর্শকের এনার্জি অনুভব করি। তাদের ভালোবাসা, গান শুনতে চাওয়ার আবদার সবকিছুই আমাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।’
অন্যদিকে স্টুডিওতে গান রেকর্ডিংয়ের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ‘স্টুডিও হলো একান্ত নিজের মতো করে গান গড়ে তোলার জায়গা। এখানে আমি নিজের মধ্যে ডুবে থাকি।’
টেলিভিশনের সংগীত প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনালের মনে পড়ে তার শুরুর দিনগুলো। ‘আমার শুরুর দিনগুলো কখনো ভুলব না। তখনকার অনেক গুণী মানুষ আজ নেই, কিন্তু তাদের শেখানো প্রতিটি কথা আজও আমার কাছে অমূল্য। তাদের শিক্ষা আজও আমাকে পথ দেখায়।’
দীর্ঘদিন গানে থাকার পর কখনো কি মনে হয়েছে গান থেকে দূরে সরে যেতে হবে? কোনাল বলেন, ‘গান আমার প্রাণ। মাঝে মাঝে মনে হয়, জায়গাটা কি সত্যিই আমার? তবে আমার জবাব একটাই—গানই আমার আর আমি গানেরই মানুষ।’
নতুন গানের ব্যাপারে কোনাল জানান, বর্তমানে একাধিক গান প্রস্তুত রয়েছে। ময়নার জন্য অনেক গান আটকে ছিল, যা ধীরে ধীরে মুক্তি পাবে। এছাড়া নিজস্ব কিছু উদ্যোগ ও গবেষণার কাজও চালিয়ে যাচ্ছি, যা শিগগিরই সামনে আনার পরিকল্পনা আছে।’



