দৈনিক ভোরের নতুন বার্তা
দৈনিক ভোরের নতুন বার্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সৃষ্টির ধারাবাহিকতায় কিছু মানুষ নিজের মেধা ও শ্রম দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রসেবায় অনন্য অবদান রাখেন। তেমনই একজন মানুষ, দেশের জনপ্রিয় গণমাধ্যম দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ-এর সম্পাদক মোহাম্মদ মাসুদ। আজ (২ ফেব্রুয়ারি) তার শুভ জন্মদিন।
সাংবাদিকতার দীর্ঘ পথচলায় তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন নির্ভীক ও সোজাসাপ্টা কথার অধিকারী কলম সৈনিক হিসেবে।
সাংবাদিকতায় দীর্ঘ পথচলা
১৯৯৬ সালে দৈনিক খবর-এর থানা রিপোর্টার হিসেবে সাংবাদিকতায় মোহাম্মদ মাসুদের হাতেখড়ি।
এরপর একে একে কাজ করেছেন বাংলাবাজার, চিত্রবাংলা, অন্যায়ের প্রতিবাদ, মনোরমা, ছায়াছন্দ, সুগন্ধা, পূর্ণিমা, ছুটি, এবং অপরাধ জগতসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় অসংখ্য সংবাদপত্রে।
সিঙ্গাপুর থেকে প্রকাশিত পত্রিকা ‘প্রবাসী’-তেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। দীর্ঘ সময় তিনি দৈনিক আজকের কাগজ-এর সাথেও যুক্ত ছিলেন।
বর্তমানে তিনি দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ-এর সম্পাদকের গুরুদায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম দৈনিক অন্যদিগন্ত ও দৈনিক কুমিল্লা প্রতিদিন-এর সম্পাদকের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন।
সাংগঠনিক ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা
পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে সংবাদকর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছেন। তিনি বর্তমানে:
ঢাকা সম্পাদক পরিষদ-এর সদস্য সচিব।
বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদ (বিএসপি)-এর প্রচার সম্পাদক।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)-এর ইউনিট চিফ।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)-এর কাউন্সিলর।
কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা-এর সম্মানিত সদস্য।
এছাড়াও তিনি ভারত থেকে সম্প্রচারিত জনপ্রিয় সংবাদভিত্তিক টিভি চ্যানেল ‘আর প্লাস’-এর বাংলাদেশ ব্যুরো চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মোহাম্মদ মাসুদ কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার বাকশিমূল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম মো. শামসুল হক এবং মা আয়েসা বেগম। ৩ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে তিনি পরিবারের জ্যেষ্ঠ সন্তান। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অসংখ্য সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থেকে মানবসেবায় অবদান রেখে চলেছেন।
আজ তার জন্মদিনে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সহকর্মীরা তাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। সাহসী ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে তিনি আগামীর বাংলাদেশ গড়ায় আরও ভূমিকা রাখবেন—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায়
রাজনীতিতে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে দল পরিবর্তনের ঘটনা। ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আওয়ামী লীগ ছেড়ে পুনরায় বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
সাবেক মন্ত্রী ও কুমিল্লা-১ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেনের হাত ধরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে ফিরে আসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিএনপি সরকারের আমলে তিনি প্রথমবার ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তন এলেও বিএনপি সমর্থকদের ভোটব্যাংকের ওপর ভর করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দ্বিতীয়বার এবং ২০২২ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও তৎকালীন কুমিল্লা-১ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুরের আহ্বানে নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করার উদ্দেশ্যে আনোয়ার হোসেন আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
নির্বাচনের পর দাউদকান্দি পৌর সদরের তৎকালীন যারীফ আলী শিশু পার্ক (বর্তমানে শহীদ রিফাত পার্ক) এ আওয়ামী লীগের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তৎকালীন এমপি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুরের হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন আনোয়ার হোসেন।
তবে তার এই যোগদানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের একটি অংশের মধ্যে শুরু থেকেই অসন্তোষ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা দাবি করেন, ওই নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর মনোনয়ন পাওয়ার পর আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার নাঈম হাসানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়েন। বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কমিশনার সুমন খন্দকার ও কমিশনার সালাউদ্দিন সরকারসহ বিএনপির ডাই-হার্ড কর্মীদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় জড়ান তিনি। এর ফলে দাউদকান্দির স্থানীয় আওয়ামী লীগে চরম মাত্রার বিভক্তি সৃষ্টি হয় এবং দলটি তিন থেকে চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে আনোয়ার হোসেন আবারও অবস্থান পরিবর্তন করেন। সম্প্রতি সাবেক মন্ত্রী ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেনের হাত ধরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে ফিরে আসেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ জানুয়ারি শনিবার ইলিয়টগঞ্জ বাজারে আয়োজিত ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নির্বাচনী পথসভায় আনোয়ার হোসেন বক্তব্য রাখেন এবং প্রকাশ্যে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দাউদকান্দির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিতে দলবদল, সুবিধাভোগ এবং এর পেছনের ভূমিকা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বিদেশিদের রিয়েল এস্টেট মালিকানা সংক্রান্ত নতুন বিধিমালা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করেছে সৌদি আরব। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সৌদি রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি জানিয়েছে, ‘নন-সৌদিদের রিয়েল এস্টেট মালিকানা বিধিমালা’ এখন থেকে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে গালফ নিউজ।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় নন-সৌদি নাগরিকদের সম্পত্তি মালিকানার সব আবেদন সরকার নির্ধারিত একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘সৌদি প্রপার্টিজ’ পোর্টালের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। এই প্ল্যাটফর্মে যোগ্যতা যাচাই থেকে শুরু করে চূড়ান্ত নিবন্ধন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে অনলাইনে সম্পন্ন হবে।
এই বিধিমালা সৌদি আরবে বসবাসকারী বিদেশি, অনাবাসী বিদেশি, পাশাপাশি বিদেশি কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে আবেদনকারীর অবস্থান ও পরিচয়ের ভিত্তিতে আবেদন প্রক্রিয়া ভিন্ন হবে এবং নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ ও অনুমোদনের আওতায় তা পরিচালিত হবে।
বৈধ ইকামা (আবাসন অনুমতিপত্র) থাকা বিদেশি বাসিন্দারা সরাসরি সৌদি প্রপার্টিজ পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। সেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্যতা যাচাই হবে এবং অনলাইনে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা যাবে। অন্যদিকে, সৌদি আরবে বসবাস না করা বিদেশিদের ক্ষেত্রে নিজ নিজ দেশের সৌদি দূতাবাস বা মিশনের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া
শুরু করতে হবে। সেখান থেকে একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্র ইস্যু করা হবে, যা ব্যবহার করে তারা সৌদি প্রপার্টিজ প্ল্যাটফর্মে মালিকানা আবেদন চালিয়ে নিতে পারবেন।
যেসব বিদেশি কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান সৌদি আরবে সরাসরি উপস্থিত নয়, তাদের প্রথমে ইনভেস্ট সৌদি পোর্টালের মাধ্যমে বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর একটি ইউনিফায়েড নম্বর (৭০০) সংগ্রহ করতে হবে, এরপর অনলাইনে সম্পত্তি মালিকানার আবেদন করা যাবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই বিধিমালার আওতায় রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে নন-সৌদিদের সম্পত্তি মালিকানার সুযোগ থাকবে, তবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শহরের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। রাজধানী রিয়াদ ও জেদ্দা, পাশাপাশি পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনায় সম্পত্তি মালিকানা আলাদা একটি বিধিমালার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে, যা ভৌগোলিক জোনভিত্তিক হবে। এই নতুন কাঠামো ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ঘোষণা করা হতে পারে।
মক্কা ও মদিনার ক্ষেত্রে মালিকানা শুধুমাত্র সৌদি কোম্পানি এবং মুসলিম ব্যক্তিদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে। সৌদি প্রপার্টিজ পোর্টালই এই বিধিমালা বাস্তবায়নের একমাত্র সরকারি মাধ্যম। এটি জাতীয় রিয়েল এস্টেট টাইটেল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত, ফলে আবেদনকারীরা সহজেই নিয়মনীতি যাচাই, প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও মালিকানা চূড়ান্ত করতে পারবেন। এতে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং সম্পত্তির অধিকার আরও সুরক্ষিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই বিধিমালার লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক ডেভেলপার ও উচ্চমানের বিদেশি কোম্পানিকে আকৃষ্ট করে সৌদি আরবে রিয়েল এস্টেট উন্নয়নের মান বৃদ্ধি করা।
বিধিমালা কার্যকরের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটির মুখপাত্র তাইসির আল মুফারেজ বলেন, নন-সৌদিদের জন্য যেসব নির্দিষ্ট এলাকা ও ভৌগোলিক জোনে সম্পত্তি মালিকানার অনুমতি দেয়া হবে, তা শিগগিরই একটি আলাদা নথির মাধ্যমে ঘোষণা করা হবে। তিনি বিনিয়োগকারী ও সাধারণ জনগণকে গুজব বা অননুমোদিত তথ্যের ওপর নির্ভর না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখনো
পর্যন্ত কোনো আবাসিক বা বাণিজ্যিক প্রকল্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে নন-সৌদি মালিকানার অনুমোদন দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে কেবল সরকারি সূত্র থেকে প্রকাশিত তথ্যকেই গুরুত্ব দিতে অনুরোধ জানান তিনি।
