খুঁজুন
, ,

পিডি ও ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের পকেটে চিলমারী বন্দরের ৩৩৫ কোটি!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
[shared_counts]
পিডি ও ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের পকেটে চিলমারী বন্দরের ৩৩৫ কোটি!

 

 

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) বাস্তবায়নাধীন প্রায় ৩৩৫ কোটি টাকার চিলমারী নদীবন্দর স্থাপন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পটির দায়িত্বে থাকা প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ মোল্লাসহ কয়েকজন ঠিকাদার, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলে সরকারি অর্থ লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির প্রাথমিক ডিপিপি ছিল প্রায় ২৩৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। পরে সংশোধিত ডিপিপির মাধ্যমে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩৩৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকায়। অভিযোগ রয়েছে, ব্যয় বৃদ্ধির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রকল্পে বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি ও আওয়ামী লীগপন্থী ঠিকাদারদের সমন্বয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রকল্পটির বিভিন্ন কাজ নিয়ন্ত্রণ করত। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে ছিলেন প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ মোল্লা। এছাড়া সাবেক প্রতিমন্ত্রীর এপিএস বাশার, ডি.জি. বাংলা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আরশাদ পারভেজ এবং ডিপন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সজল চন্দ্র দত্তের নামও অভিযোগে উঠে এসেছে।

সাইট ডেভেলপমেন্টে ‘ভূতুড়ে বিল’?

অভিযোগ রয়েছে, সাইট ডেভেলপমেন্টের নামে কোটি কোটি টাকার বিল উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে প্রয়োজনীয় বালু ভরাট করা হয়নি। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি দাবি করেন, কাজ সম্পন্ন না করেই ভুয়া বিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

ভবন নির্মাণে নকশা লঙ্ঘনের অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের আওতায় নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনায় অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করা হয়নি। বিশেষ করে পাইলিংয়ের কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এতে ভবনগুলোর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পাইলিং কাজে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ

নথি অনুযায়ী, প্রতি ইউনিট পাইলিংয়ের জন্য ৫০০ মিমি ব্যাস, ৪০.৫০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৬ মিমি রডের ১০টি বার ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে ৩০০ মিমি ব্যাস, প্রায় ২৩ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৭টি বার ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প পরিচালকের নির্দেশনায় পৃথক ড্রয়িং ব্যবহার করে কম উপকরণ দিয়ে কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়। ফলে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বিল পরিশোধ নিয়ে নতুন প্রশ্ন

অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে যে, কাগজপত্রে কাজের ঠিকাদার হিসেবে একটি যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানের নাম থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে অন্য প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে পেমেন্ট সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও বিল পরিশোধ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এছাড়া কাজ না করেই নির্দিষ্ট কিছু আইটেমের বিল উত্তোলন এবং সেই অর্থ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, এ সংক্রান্ত কিছু নথি ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য তাদের কাছে রয়েছে।

ভূমি অধিগ্রহণেও অনিয়মের অভিযোগ

সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের ক্ষেত্রেও নানা ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতি হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

কর্মকর্তাদের দাবি: প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল প্রকল্প

বিআইডাব্লিউটিএর একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ঠিকাদার এতটাই প্রভাব বিস্তার করেছিলেন যে, তাদের সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো কর্মকর্তা কার্যত মতামত দেওয়ার সুযোগ পেতেন না।

বক্তব্য পাওয়া যায়নি

অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ মোল্লার সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তদন্তের দাবি

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং প্রকল্পের আর্থিক অনিয়ম, টেন্ডার প্রক্রিয়া, বিল পরিশোধ, ভূমি অধিগ্রহণ ও নির্মাণকাজের মান পরীক্ষা করতে একটি স্বাধীন ও উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন হলে প্রকল্পে সংঘটিত সম্ভাব্য অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।

নিয়মিত অফিস করেন না ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী, খায়রুজ্জামান থমকে আছে গণপূর্তের উন্নয়ন কাজ”

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ২:৪১ অপরাহ্ণ
[shared_counts]
নিয়মিত অফিস করেন না ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী, খায়রুজ্জামান থমকে আছে গণপূর্তের উন্নয়ন কাজ”

 

ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খায়রুজ্জামানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থাকা, দাপ্তরিক কার্যক্রমে বিলম্ব সৃষ্টি এবং উন্নয়নমূলক কাজের তদারকিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার, সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং কার্যালয়ের কিছু কর্মচারীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধান কর্মকর্তার অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয়ে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর উপস্থিতি যাচাই করতে গিয়ে তাঁর দপ্তর তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে দেখা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষ বন্ধ রয়েছে। কক্ষের সামনে দায়িত্বরত এক কর্মচারী জানান, ওই সময় পর্যন্ত নির্বাহী প্রকৌশলী অফিসে আসেননি।

কার্যালয়ের অন্যান্য কক্ষ ঘুরে দেখা গেলে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে পাওয়া গেলেও নির্বাহী প্রকৌশলীর অবস্থান সম্পর্কে তারা নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। কেউ কেউ জানান, তিনি অফিসে আসবেন কি না অথবা কখন আসবেন, সে বিষয়ে তারা অবগত নন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খায়রুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন কল রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, ফরিদপুরে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি নিয়মিত অফিস করেন না। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অনেক সময় নির্ধারিত অফিস সময়ের পরে কার্যালয়ে আসেন অথবা কোনো কোনো দিন অফিসে উপস্থিত থাকেন না। তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে আনুষ্ঠানিক কোনো নথি প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, নির্বাহী প্রকৌশলীর অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তারা জানান, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ফাইল অনুমোদন, কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা, মাপজোক সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই এবং বিল পাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর অনুমোদন প্রয়োজন হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় এসব কার্যক্রমে বিলম্ব হচ্ছে বলে তাদের দাবি।

একজন ঠিকাদার বলেন, “আমরা কাজ সম্পন্ন করার পরও অনেক সময় প্রয়োজনীয় নথিতে স্বাক্ষর বা অনুমোদনের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়। অফিসে এসে যদি প্রধান কর্মকর্তাকে পাওয়া না যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই কাজের গতি কমে যায়। এতে শুধু ঠিকাদার নয়, সরকারের প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

 

আরেকজন ঠিকাদার দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রে জরুরি ফাইল নিষ্পত্তি না হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা প্রভাবিত হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, সরকারি কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হলে প্রশাসনিক অনুমোদন দ্রুত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া ধীরগতির হয়ে পড়লে প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হয়।

কয়েকজন ঠিকাদার আরও অভিযোগ করেন, কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বিল পেতে দেরি হওয়ায় তাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তারা জানান, নির্মাণসামগ্রী, শ্রমিকের মজুরি এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় মেটাতে তাদের নিয়মিত অর্থের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিল অনুমোদনে বিলম্ব হলে পুরো আর্থিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হয়।

অভিযোগকারীরা বলেন, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সময়মতো বিল পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিল আটকে গেলে বা বিলম্বিত হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে লিখিত কোনো তথ্য বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।

গণপূর্ত বিভাগের কয়েকজন অধস্তন কর্মচারীর সঙ্গে কথা বললে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অফিসে উপস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। একজন কর্মচারী বলেন, “তিনি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি কখন অফিসে আসবেন বা যাবেন, সে বিষয়ে মন্তব্য করার এখতিয়ার আমাদের নেই।”

আরেকজন কর্মচারী বলেন, “প্রধান কর্মকর্তার উপস্থিতি সম্পর্কে কোনো বক্তব্য দিলে তা ভুলভাবে ব্যাখ্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আমরা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাই না।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি জেলার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলার বিভিন্ন সরকারি ভবন নির্মাণ, সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই পদধারী কর্মকর্তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়মিত উপস্থিত না থাকলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, গণপূর্ত বিভাগের কার্যক্রম সরাসরি বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত। হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস ভবন, আবাসন প্রকল্প এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজে এ বিভাগের দায়িত্ব রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলীর অনুপস্থিতির কারণে অনেক সময় মাঠপর্যায়ের কাজের যথাযথ তদারকি ব্যাহত হয়। এর ফলে কাজের অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব হয় না।

তবে কাজের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা কোনো প্রকল্পে অনিয়ম হয়েছে—এমন নির্দিষ্ট তথ্য অভিযোগকারীরা প্রকাশ করতে পারেননি। তারা কেবল নিয়মিত তদারকির অভাবের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের কয়েকজন ব্যক্তি মনে করেন, সরকারি দপ্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা হলে প্রশাসনিক সেবা আরও গতিশীল হতে পারে। তাদের মতে, জনগণ ও সেবাগ্রহীতাদের স্বার্থে সরকারি অফিসগুলোতে জবাবদিহিমূলক পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে যে, নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। কয়েকজন ঠিকাদার দাবি করেন, বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও অনেক সময় তাঁকে ফোনে পাওয়া যায় না। তবে এই অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নাগরিক, ঠিকাদার ও সেবাগ্রহীতাদের কার্যকর যোগাযোগ থাকা জরুরি। কোনো কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় যোগাযোগের বাইরে থাকলে বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে বিলম্ব সৃষ্টি হতে পারে।

সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা প্রত্যাশিত। তবে কোনো কর্মকর্তা নির্দিষ্ট দিনে অনুপস্থিত থাকলে তার পেছনে সরকারি দায়িত্ব, দাপ্তরিক সফর, অনুমোদিত ছুটি বা অন্যান্য প্রশাসনিক কারণও থাকতে পারে। নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য পাওয়া না যাওয়ায় তাঁর অনুপস্থিতির কারণ জানা সম্ভব হয়নি।

ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের সাম্প্রতিক কার্যক্রম নিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন স্থানে সরকারি অবকাঠামো উন্নয়ন, ভবন সংস্কার এবং নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চলমান রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীরা বলছেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, যদি অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। অন্যদিকে অভিযোগগুলো অসত্য হলে সেটিও স্পষ্ট হওয়া দরকার, যাতে বিভ্রান্তির অবসান ঘটে।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগ সম্পর্কে তাদের অবস্থান জানা যায়নি।

নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খায়রুজ্জামানের বক্তব্য পাওয়া গেলে বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দিলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

কুমিল্লা উপসহকারী প্রকৌশলী একরামুল হকের ৫০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
[shared_counts]
কুমিল্লা উপসহকারী প্রকৌশলী একরামুল হকের ৫০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কুমিল্লা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী একরামুল হকের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। মাসিক প্রায় ৪৯ হাজার টাকা বেতন পাওয়া এই সরকারি কর্মকর্তার নিজের ও স্ত্রী শাম্মী আক্তারের নামে অন্তত ৫০ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পেয়েছে অনুসন্ধানকারীরা।

অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। অনুসন্ধানে রাজধানীতে প্লট, কুষ্টিয়ায় বহুতল ভবন, ফ্ল্যাট, কৃষিজমি এবং বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থের তথ্য উঠে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, একরামুল হকের বাড়ি কুষ্টিয়ায় হলেও তিনি আয়কর নথি জমা দিয়েছেন যশোরে। অন্যদিকে তার স্ত্রী শাম্মী আক্তারের আয়কর নথি কুষ্টিয়ায় জমা দেওয়া হয়েছে। আয়কর নথি বিশ্লেষণে ঘোষিত আয়ের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, অন্তত ৫০ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য আয়কর নথিতে গোপন রাখা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে একরামুল হক দাবি করেন, অধিকাংশ সম্পদের মালিক তার ভাই। যদিও কেন সেই সম্পদ তার নামে রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

অন্যদিকে, শাম্মী আক্তারের পেশা আয়কর নথিতে “ব্যবসায়ী” হিসেবে উল্লেখ করা হলেও স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি গৃহিণী। সম্পদের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে একরামুল হক বলেন, “আমি বাসায় গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করব। বসুন্ধরায় ৩০ কোটি টাকার প্লট : অনুসন্ধানে একরামুল দম্পতির সবচেয়ে আলোচিত সম্পদের মধ্যে রয়েছে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ডুমনি মৌজায় প্রায় ১০ শতাংশ জমির একটি প্লট।

সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, প্লটটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। গত জানুয়ারিতে শাম্মী আক্তার ওই জমির নামজারির আবেদন করেছেন বলেও জানা গেছে।

তবে একরামুল হক ও তার স্ত্রী দাবি করেছেন, বসুন্ধরায় তাদের কোনো সম্পত্তি নেই।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে একরামুল বলেন, “আমাদের এমন কোনো সম্পত্তি নেই, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। কুষ্টিয়ায় বহুতল ভবন ও বিপুল জমি : নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কুষ্টিয়া সদর এলাকায় নিজের ও স্ত্রীর নামে একাধিক জমি কিনেছেন একরামুল হক। চৌড়াহাস এলাকায় প্রায় পাঁচ শতাংশ জমির ওপর একটি ছয়তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা।

এ ছাড়া কুষ্টিয়া সদরের বিভিন্ন এলাকায় তার নামে আরও কয়েকটি জমি ও একটি ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রে এসব সম্পদের আনুমানিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে জানা গেছে।

স্ত্রীর নামেও কোটি টাকার সম্পদ : শাম্মী আক্তারের নামেও কুষ্টিয়া সদর এলাকায় একাধিক জমির তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, এসব জমির বর্তমান বাজারমূল্য কোটি টাকার বেশি।

পান বরজ, বাগান ও তামাক ক্ষেত : কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায়ও বিপুল জমির মালিকানা রয়েছে একরামুল হকের। সেখানে পান বরজ, বাগান ও তামাক ক্ষেত গড়ে তোলার তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, এসব জমির বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা।

 

এ ছাড়া পোড়াদহ হাজরাহাটী এলাকায় তার একটি দোতলা বাড়ি ও চারটি দোকানও রয়েছে বলে জানা গেছে। ব্যাংক হিসাবেও বিপুল অর্থ : স্থাবর সম্পদের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবেও বিপুল অর্থের তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে একরামুল হক ও তার স্ত্রীর নামে বিভিন্ন ব্যাংকে লাখ লাখ টাকা জমার তথ্য মিলেছে। সূত্র জানায়, বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের হিসাবে মোট কয়েক কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দুদকের তদন্ত শুরু : দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, আয়কর নথিতে ঘোষিত আয়ের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের অসামঞ্জস্য পাওয়ায় একরামুল হক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। বিশেষ করে স্বল্প বেতনের একজন সরকারি কর্মচারীর নামে বিপুল সম্পদ অর্জনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী একরামুল হকের

ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

 

চট্টগ্রামে সিএনজি প্রতিস্থাপনে ৬০কোটি ঘুষ বাণিজ্য করা বিআরটিএর ডিডি সুব্রত দেবনাথ বহাল তবিয়তে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
[shared_counts]
চট্টগ্রামে সিএনজি প্রতিস্থাপনে ৬০কোটি ঘুষ বাণিজ্য করা বিআরটিএর ডিডি সুব্রত দেবনাথ বহাল তবিয়তে

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর ঢাকা মেট্রো-৩ (উত্তরা দিয়াবাড়ী) কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সুব্রত দেবনাথের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের দুর্নীতি, অর্থ পাচার এবং গুরুতর প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া একটি লিখিত অভিযোগপত্র এবং ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে এই চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির চিত্র সামনে এসেছে।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিআরটিএ-এর এই কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এবং সেই অর্থ ভারতে পাচার করেছেন।

 

চট্টগ্রাম সিএনজি প্রতিস্থাপনে ৬০ কোটি টাকার বাণিজ্য

 

অনুসন্ধান ও অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, সুব্রত দেবনাথ যখন চট্টগ্রাম বিআরটিএ-তে সহকারী পরিচালক (এডি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তখন ২ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা প্রতিস্থাপনের নামে এক বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। চট্টগ্রামের ‘বিসমিল্লাহ মটরস’, ‘মেসার্স রাজামিয়া অ্যান্ড সন্স’, ‘জাফর অ্যান্ড কোং’, ‘শাহজালাল মটরস’, ‘এসবি কর্পোরেশন’, ‘ইমাম ডেইন্টিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’, ‘তাইফ মটরস’, ‘শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজ’ এবং নোয়াখালীর ‘আরকে অটোমোবাইল’ ও ‘তাসনিম ট্রেডার্স’সহ নির্দিষ্ট কিছু শোরুম মালিকদের সাথে আঁতাত করেন তিনি।

 

গ্রাহকদের সরাসরি সেবা না দিয়ে এই শোরুমগুলোর মাধ্যমে আসতে বাধ্য করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিস্থাপনযোগ্য প্রতিটি গাড়ি থেকে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৬০ কোটি টাকা ঘুষ বাবদ হাতিয়ে নেন সুব্রত দেবনাথ। পরবর্তীতে সিএনজি মালিকদের তীব্র গণ-আন্দোলন ও প্রতিবাদের মুখে তাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা মেট্রো সার্কেল-২-এ বদলি করা হয়।

 

ঢাকা মেট্রো সার্কেল-২-এ এসেও সুব্রত দেবনাথের ঘুষ ও অনিয়ম বন্ধ হয়নি। সেখানেও একই ধরনের বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়লে তাকে শাস্তিস্বরূপ রাজশাহীতে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। তবে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য ও তার চাচাতো ভাই পঙ্কজ দেবনাথের রাজনৈতিক প্রভাবে তিনি সেই বদলি আদেশ বাতিল করতে সক্ষম হন।

 

এমনকি বিগত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন বিআরটিএ চেয়ারম্যান গৌতম পালের সাথে মিলে আন্দোলন দমনে সুব্রত দেবনাথ সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে ঢাকা থেকে সরিয়ে ময়মনসিংহে বদলি করে। তবে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, সুব্রত দেবনাথ ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর বাংলাদেশী এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। গুঞ্জন রয়েছে, ভারতীয় হাই-কমিশনের বিশেষ তদবিরের জোরেই তিনি ময়মনসিংহ থেকে মাত্র কয়েকদিনের মাথায় পুনরায় ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পদ তথা ঢাকা মেট্রো-৩ (উত্তরা দিয়াবাড়ী)-এর উপ-পরিচালক হিসেবে চেয়ার ভাগিয়ে নেন। বর্তমানে তিনি নিয়মিত স্বামীবাগের ইসকন কার্যালয়ে যাতায়াত করেন বলেও জানা গেছে।

 

ভারতে বিপুল সম্পত্তি ও ঢাকায় ফ্ল্যাট-প্লট

 

দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ দেশে না রেখে অবৈধ উপায়ে ভারতে পাচার করেছেন সুব্রত দেবনাথ। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে:

 

ভারতে সম্পদ: ভারতের বিভিন্ন স্থানে সুব্রত দেবনাথের নামে ও বেনামে একাধিক আলিশান বাড়ি, গাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

 

ঢাকায় সম্পদ: রাজধানীর অভিজাত এলাকা পশ্চিম রামপুরায় তার একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লটের সন্ধান পাওয়া গেছে।

 

বর্তমানে উত্তরা দিয়াবাড়ী কার্যালয়ে যোগদানের পর সুব্রত দেবনাথের প্রত্যক্ষ প্রশ্রয়ে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সাধারণ গ্রাহকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং অতিরিক্ত অর্থ (ঘুষ) না দিলে কোনো ফাইল ছাড় করা হচ্ছে না। এছাড়া, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের স্পষ্ট প্রজ্ঞাপন ও নির্দেশনা অমান্য করে সরকারি নথিতে পূর্ববর্তী (বিগত সরকারের আমলের) নাম ও নিয়ম ব্যবহারের প্রমাণও মিলেছে তার বিরুদ্ধে।

 

ভুক্তভোগীদের দাবি:

 

একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন লাগামহীন দুর্নীতি, রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ড এবং অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। সাধারণ গ্রাহক ও ভুক্তভোগীরা এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার দ্রুত অপসারণসহ দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

উল্লেখিত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্যে  ঢাকা মেট্রো-৩ (উত্তরা দিয়াবাড়ী) কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সুব্রত দেবনাথের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ  খুদে বার্তা পাঠিয়েও উত্তর মেলেনি ।

নিয়মিত অফিস করেন না ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী, খায়রুজ্জামান থমকে আছে গণপূর্তের উন্নয়ন কাজ” কুমিল্লা উপসহকারী প্রকৌশলী একরামুল হকের ৫০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ চট্টগ্রামে সিএনজি প্রতিস্থাপনে ৬০কোটি ঘুষ বাণিজ্য করা বিআরটিএর ডিডি সুব্রত দেবনাথ বহাল তবিয়তে মাগুরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবু বক্কার সিদ্দিকীর পেটে উন্নয়ন প্রকল্পের ৫০ কোটি টাকা আজিমপুর গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিমের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ: সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য দাউদকান্দিতে তালাবদ্ধ বাড়ির গেট কেটে চুরি  স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ অর্থ লুট সাংবাদিক মনির হোসেন এর ওপর হামলা ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে দাউদকান্দিতে সংবাদ সম্মেলন দুর্নীতির অপ্রতিরোধ্য রথ চালাচ্ছেন রাজউক ইমারত পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ পিডি ও ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের পকেটে চিলমারী বন্দরের ৩৩৫ কোটি! ফাইল আটকে কমিশন বাণিজ্য গণপূর্তের প্রকৌশলী শরিফুলের খুঁটির জোর কোথায়? ডিজি বদলি, কিন্তু বিতর্কের অবসান কোথায়? চাঁদপুর গণপূর্তে একচ্ছত্র আধিপত্য স্বৈরাচারের সহযোগী কোটিপতি প্রকৌশলী আলী নূর এখনো বেপরোয়া বিল আটকে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ এলজিইডি প্রকৌশলী ইমরানের বিরুদ্ধে! ১৪৮৫ জনকে নিয়োগ দেবে সমাজসেবা অধিদপ্তর প্রশাসনের খামখেয়ালি আর ইজারাদারদের দৌরাত্ম্যে গৌরীপুর ছাড়লো কাঠবাজার দাউদকান্দিতে লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন দাউদকান্দিতে দোকান বন্ধ করে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা চট্ট্রগ্রাম বিআরটিএর সানাউল হকের রমরমা ঘুষ বাণিজ্যে। চুল পড়া বন্ধ করার উপায় – ঘরোয়া টিপস, কারণ ও কার্যকর সমাধান ২০২৬ গ্যাসের সবচেয়ে ভালো ওষুধের নাম ও রোগের কাজ জেনে নিন বাংলাদেশে মোবাইলের দাম ২০২৬ – জনপ্রিয় ৫০টি স্মার্টফোনের আপডেটেড মূল্য তালিকা টেন্ডারবাণিজ্যের গডফাদার: গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আলমগীর খানের শতকোটি টাকার সাম্রাজ্য; আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেটের মাস্টারমাইন্ড তিনি প্রকৌশলী আবু তালেবের বিরুদ্ধে ভুয়া পরিচয় ও ১৬ প্রকল্পে দুর্নীতির পাহাড় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিনিয়র স্কেল ছাড়াই পদোন্নতি গণপূর্তে কোটি টাকার বাণিজ্য