খুঁজুন
, ,

নিয়মিত অফিস করেন না ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী, খায়রুজ্জামান থমকে আছে গণপূর্তের উন্নয়ন কাজ”

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ২:৪১ অপরাহ্ণ
[shared_counts]
নিয়মিত অফিস করেন না ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী, খায়রুজ্জামান থমকে আছে গণপূর্তের উন্নয়ন কাজ”

 

ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খায়রুজ্জামানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থাকা, দাপ্তরিক কার্যক্রমে বিলম্ব সৃষ্টি এবং উন্নয়নমূলক কাজের তদারকিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার, সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং কার্যালয়ের কিছু কর্মচারীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধান কর্মকর্তার অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয়ে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর উপস্থিতি যাচাই করতে গিয়ে তাঁর দপ্তর তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে দেখা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষ বন্ধ রয়েছে। কক্ষের সামনে দায়িত্বরত এক কর্মচারী জানান, ওই সময় পর্যন্ত নির্বাহী প্রকৌশলী অফিসে আসেননি।

কার্যালয়ের অন্যান্য কক্ষ ঘুরে দেখা গেলে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে পাওয়া গেলেও নির্বাহী প্রকৌশলীর অবস্থান সম্পর্কে তারা নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। কেউ কেউ জানান, তিনি অফিসে আসবেন কি না অথবা কখন আসবেন, সে বিষয়ে তারা অবগত নন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খায়রুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন কল রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, ফরিদপুরে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি নিয়মিত অফিস করেন না। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অনেক সময় নির্ধারিত অফিস সময়ের পরে কার্যালয়ে আসেন অথবা কোনো কোনো দিন অফিসে উপস্থিত থাকেন না। তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে আনুষ্ঠানিক কোনো নথি প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, নির্বাহী প্রকৌশলীর অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তারা জানান, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ফাইল অনুমোদন, কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা, মাপজোক সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই এবং বিল পাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর অনুমোদন প্রয়োজন হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় এসব কার্যক্রমে বিলম্ব হচ্ছে বলে তাদের দাবি।

একজন ঠিকাদার বলেন, “আমরা কাজ সম্পন্ন করার পরও অনেক সময় প্রয়োজনীয় নথিতে স্বাক্ষর বা অনুমোদনের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়। অফিসে এসে যদি প্রধান কর্মকর্তাকে পাওয়া না যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই কাজের গতি কমে যায়। এতে শুধু ঠিকাদার নয়, সরকারের প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

 

আরেকজন ঠিকাদার দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রে জরুরি ফাইল নিষ্পত্তি না হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা প্রভাবিত হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, সরকারি কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হলে প্রশাসনিক অনুমোদন দ্রুত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া ধীরগতির হয়ে পড়লে প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হয়।

কয়েকজন ঠিকাদার আরও অভিযোগ করেন, কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বিল পেতে দেরি হওয়ায় তাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তারা জানান, নির্মাণসামগ্রী, শ্রমিকের মজুরি এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় মেটাতে তাদের নিয়মিত অর্থের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিল অনুমোদনে বিলম্ব হলে পুরো আর্থিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হয়।

অভিযোগকারীরা বলেন, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সময়মতো বিল পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিল আটকে গেলে বা বিলম্বিত হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে লিখিত কোনো তথ্য বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।

গণপূর্ত বিভাগের কয়েকজন অধস্তন কর্মচারীর সঙ্গে কথা বললে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অফিসে উপস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। একজন কর্মচারী বলেন, “তিনি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি কখন অফিসে আসবেন বা যাবেন, সে বিষয়ে মন্তব্য করার এখতিয়ার আমাদের নেই।”

আরেকজন কর্মচারী বলেন, “প্রধান কর্মকর্তার উপস্থিতি সম্পর্কে কোনো বক্তব্য দিলে তা ভুলভাবে ব্যাখ্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আমরা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাই না।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি জেলার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলার বিভিন্ন সরকারি ভবন নির্মাণ, সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই পদধারী কর্মকর্তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়মিত উপস্থিত না থাকলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, গণপূর্ত বিভাগের কার্যক্রম সরাসরি বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত। হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস ভবন, আবাসন প্রকল্প এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজে এ বিভাগের দায়িত্ব রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলীর অনুপস্থিতির কারণে অনেক সময় মাঠপর্যায়ের কাজের যথাযথ তদারকি ব্যাহত হয়। এর ফলে কাজের অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব হয় না।

তবে কাজের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা কোনো প্রকল্পে অনিয়ম হয়েছে—এমন নির্দিষ্ট তথ্য অভিযোগকারীরা প্রকাশ করতে পারেননি। তারা কেবল নিয়মিত তদারকির অভাবের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের কয়েকজন ব্যক্তি মনে করেন, সরকারি দপ্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা হলে প্রশাসনিক সেবা আরও গতিশীল হতে পারে। তাদের মতে, জনগণ ও সেবাগ্রহীতাদের স্বার্থে সরকারি অফিসগুলোতে জবাবদিহিমূলক পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে যে, নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। কয়েকজন ঠিকাদার দাবি করেন, বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও অনেক সময় তাঁকে ফোনে পাওয়া যায় না। তবে এই অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নাগরিক, ঠিকাদার ও সেবাগ্রহীতাদের কার্যকর যোগাযোগ থাকা জরুরি। কোনো কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় যোগাযোগের বাইরে থাকলে বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে বিলম্ব সৃষ্টি হতে পারে।

সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা প্রত্যাশিত। তবে কোনো কর্মকর্তা নির্দিষ্ট দিনে অনুপস্থিত থাকলে তার পেছনে সরকারি দায়িত্ব, দাপ্তরিক সফর, অনুমোদিত ছুটি বা অন্যান্য প্রশাসনিক কারণও থাকতে পারে। নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য পাওয়া না যাওয়ায় তাঁর অনুপস্থিতির কারণ জানা সম্ভব হয়নি।

ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের সাম্প্রতিক কার্যক্রম নিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন স্থানে সরকারি অবকাঠামো উন্নয়ন, ভবন সংস্কার এবং নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চলমান রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীরা বলছেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, যদি অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। অন্যদিকে অভিযোগগুলো অসত্য হলে সেটিও স্পষ্ট হওয়া দরকার, যাতে বিভ্রান্তির অবসান ঘটে।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগ সম্পর্কে তাদের অবস্থান জানা যায়নি।

নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খায়রুজ্জামানের বক্তব্য পাওয়া গেলে বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দিলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের অভিযানে সাড়ে ৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
[shared_counts]
ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের অভিযানে সাড়ে ৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার

 

 

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে সাত কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ৪ নম্বর শশীদল ইউনিয়নের উত্তর তেতাভূমি এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব মাদক জব্দ করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে হরিমঙ্গল থেকে বাগড়া বাজারগামী পাকা সড়কের পাশে উত্তর তেতাভূমি এলাকায় স্থানীয় সালাম মিয়ার বসতঘরের উত্তর পাশের জঙ্গল থেকে একটি কালো রঙের ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। পরে ব্যাগটি তল্লাশি করে ভেতরে পলিথিনে মোড়ানো ৭ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা পাওয়া যায়।

অভিযান চলাকালে স্থানীয় বিএনপি নেতা মাহবুবুল আলমসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি ফারুক হোসেন বলেন, “মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় এই গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

মাদকবিরোধী এই অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা মাহবুবুল আলম বলেন, “মাদক তরুণ সমাজ ও পরিবার ধ্বংসের মূল কারণ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি মাদক নির্মূলে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু পুলিশি অভিযান নয়, পরিবার ও সামাজিক পর্যায় থেকে সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, মাদক পাচার ও কেনাবেচা বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রাখলে এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে।

সৌদি-হুতি পাল্টাপাল্টি হামলার হুমকি: গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো থেকে বেসামরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
[shared_counts]
সৌদি-হুতি পাল্টাপাল্টি হামলার হুমকি: গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো থেকে বেসামরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দুই পক্ষই একে অপরের কৌশলগত ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় অবস্থিত ‘ইয়েমেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানি’র সাবাহা কেন্দ্রীয় জ্বালানি স্থাপনা থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, সেখানে বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনার আগে সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

এর পাল্টা জবাবে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে একাধিক কৌশলগত স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের সামরিক মুখপাত্রের পক্ষ থেকে তিনটি প্রধান স্থাপনার আশপাশ থেকে কর্মী ও বেসামরিক নাগরিকদের দ্রুত সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত স্থাপনাগুলো হলো:

“দাম্মামে অবস্থিত সৌদি আরামকোর প্রধান কার্যালয়

“রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

“রিয়াদে অবস্থিত সৌদি আরামকোর তেল শোধনাগার

এদিকে সৌদি সামরিক জোট জানিয়েছে, সম্প্রতি রিয়াদের উত্তরাঞ্চলে হুতিদের পাঠানো তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

উদ্ভূত নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ধরনের ফ্লাইট কার্যক্রম আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক রুটে বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইন্স তাদের সৌদিগামী ও ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে।

সৌদি আরব এই হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। অন্যদিকে হুতিদের বিরুদ্ধেও সামরিক অভিযান জোরদার রেখেছে রিয়াদ। উভয় পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

মক্কা-মদিনার ওপর হুমকি এলে বাংলাদেশ বসে থাকবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
[shared_counts]
মক্কা-মদিনার ওপর হুমকি এলে বাংলাদেশ বসে থাকবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ১২ অক্টোবর: পবিত্র মক্কা ও মদিনার ওপর কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি এলে বাংলাদেশ বসে থাকবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ অবশ্যই তাদের সুরক্ষায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে।

সোমবার রাজধানীতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস–বিস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: পরিবর্তনশীল বিশ্বে দিক নির্ণয়ের পথরেখা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন ‘মক্কা প্যাক্ট’-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি ও সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা মক্কা প্যাক্টে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিইনি। কোনো চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলা যায় না। ফলে এই মুহূর্তে সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর প্রশ্ন উঠছে না।”

তবে সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, “সেখানে যা ঘটছে, আমরা অবিলম্বে তার অবসান চাই। সৌদি আরবের সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশ পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে। ইতোমধ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সৌদি ক্রাউন প্রিন্সকে সংহতি জানিয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। আমরা তাদের পাশে আছি।”

পবিত্র ভূমির নিরাপত্তার প্রশ্নে বাংলাদেশের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি আরও যোগ করেন, “মক্কা-মদিনা শুধু কূটনীতির বিষয় নয়, সারা বিশ্বের মুসলমানদের মতো আমাদেরও গভীর ধর্মীয় আবেগ এখানে জড়িত। সেই জায়গা থেকে যদি মক্কা-মদিনার ওপর কোনো হুমকি আসে, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ হিসেবে আমরা বসে থাকতে পারি না। অবশ্যই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেব।”

উল্লেখ্য, ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জেরে সম্প্রতি সৌদির রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের অভিযানে সাড়ে ৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার সৌদি-হুতি পাল্টাপাল্টি হামলার হুমকি: গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো থেকে বেসামরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ মক্কা-মদিনার ওপর হুমকি এলে বাংলাদেশ বসে থাকবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তিতাসে বন্দরামপুর আদর্শ একাডেমির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সংবর্ধনা ও বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত দাউদকান্দিতে ফিলিং স্টেশন থেকে পিকআপ চুরি ফেরত দিতে চাঁদা দাবি কালকিনিতে অবৈধভাবে সার মজুত: ১৪০ বস্তা সার জব্দ, ডিলারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ৩৩ বছর পর বিরল ঘটনা একই বছরে দুইবার আসছে মাহে রমজান ইয়েমেন সরকারকে ৪ কার্গো বিমান সমরাস্ত্র পাঠাল পাকিস্তান: হুথিদের চরম হুঁশিয়ারি ‘হারলেও বড় অর্জনের পথেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ, ইনশাআল্লাহ’: হামজা চৌধুরী অবসরের আগমুহূর্তে প্রধান প্রকৌশলী হতে মরিয়া আবুল খায়ের: নেপথ্যে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশলীর প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন, নানা অনিয়মের অভিযোগ স্বজনের বিয়েতে যেতে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবিএকই পরিবারের নিখোঁজ ৫জনের মধ্যে ১নারীর মরদেহ উদ্ধার  দাউদকান্দি জিংলাতলীতে অসহায় বৃদ্ধার ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ দাউদকান্দিতে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি: নগদ ৪ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট আওয়ামী লীগের রাজনীতি কোনো ইনডোর গেম নয়: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আবদুস সবুর দুদকে গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ তামজিদ হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ। বরিশাল গণপূর্তে ‘আওয়ামী দোসর’ ফয়সালের রাজত্ব: অপকর্মের পাহাড় সত্ত্বেও বহাল তবিয়তে! এক হাতে গাছের চারা, অন্য হাতে লাল কার্ড উঁচিয়ে মাদককে ‘না’ বলে শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমের  কাজ না করেই ৫ কোটি টাকার বিল সাবাড়: পাবনা গণপূর্তে প্রকৌশলী রাশেদ কবীরের জালিয়াতি অদৃশ্য নেটওয়ার্ক ও ছায়া পার্টনারশিপ গণপূর্তের প্রকৌশলীদের সিন্ডিকেট বাণিজ্য দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের পুকুরের মাছ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি বিধি ভেঙে ফ্ল্যাট ব্যবসা গণপূর্তের আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দুর্নীতি ও জালিয়াত চক্রের মাধ্যমে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তোলার অভিযোগ গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে গণপূর্তের ইএম জোনে বসতে কোটি টাকার চিঠি কিনলেন আলমগীর খান!