নরসিংদীতে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম
আশিকুর রহমান, নরসিংদী :
নরসিংদীর শিবপুরে বাদল মোল্লা নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (৮ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে উপজেলার মধ্যকারারচর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
আহত বাদল মোল্লা শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামের সুলতান উদ্দিন আহমেদের ছেলে। তিনি থার্মেক্স গ্রুপের ঝুট ব্যবসায়ী।
স্বজন সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মত কাজ শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন বাদল মোল্লা। আগে থেকে উৎপেতে থাকা শাহজালাল আহমেদ ওরফে সানি ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন যুবক তার পথ রোধ করে হামলা চালায়।
এসময় তারা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে বাদল মোল্লাকে। তার ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্ত্যবরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস) সুজন চন্দ্র সরকার। আহত বাদল মোল্লা বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে থার্মেক্স গ্রুপের ঝুট ব্যবসা করি। কয়েকদিন ধরে একই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও পুলিশ হাতে মাদক সহ আটক এবং একাধিক মামলার আসামী শাহজালাল আহমেদ ওরফে সানি আমার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নিতে কিছুদিন পূর্বে আমার বাড়ি-ঘর ও পরিবার-পরিজনের উপর হামলা চালিয়ে ছিল।
এ বিষয়ে নরসিংদী মডেল থানা ও আদালতে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর জের ধরে সোমবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে সানি সহ আরও ৫ থেকে ৭ মিলে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চাই। আহত বাদল মোল্লার ভাই মামুন মোল্লা বলেন, নরসিংদী শহরের ডিসি রোড়ে খানাপিনা রেস্টুরেন্টের সামনে গত ২৬ মার্চ সানি সহ আরও ৭ থেকে ৮ জন মিলে আমার উপর হামলা করে।
এতে আমি গুরুত্বর আহত হই। পরে নরসিংদী মডেল থানায় একটি হত্যা প্রচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়। আহত বাদল মোল্লার স্ত্রী বলেন, আমার স্বামীর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নিতে মাদক ব্যবসায়ী সানি এ হামলা করে। এর আগেও থার্মেক্সের সামনে সানি আমার স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে জনসম্মুখে গুলি করে। এতে তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পান। এ বিষয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারপরও থেমে নেই।
তার অত্যাচার। একের পর এক আমাদের উপর হামলা ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে আমি আমার সন্তানদেরকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সুপারের নিকট জোর দাবি করছি।




