খুঁজুন
, ,

সদস্য প্রশাসন মোয়াজ্জেম’র বিরুদ্ধে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে ১১শ কর্মকর্তাকে পোস্টিং বাণিজ্য অর্ধশত কোটি টাকা ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৬:০৬ অপরাহ্ণ
[shared_counts]
সদস্য প্রশাসন মোয়াজ্জেম’র বিরুদ্ধে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে ১১শ কর্মকর্তাকে পোস্টিং বাণিজ্য অর্ধশত কোটি টাকা ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চরম অস্থিরতা চলছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)এ। ঘুষ, দুর্নীতি, নীতিমালা বহির্ভূত বদলি বাণিজ্য, দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলা সব মিলিয়ে সংস্থাটি বর্তমানে চরম ভাবমূর্তি সংকটে। বেশিরভাগ দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে সীমাহীন অস্থিরতা।

সবচেয়ে বিতর্কিত অবস্থানে রয়েছেন এনবিআর নতুন প্রশাসনে সদস্য হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ফ্যাসিবাদের দোসর ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তার মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি গত ৩ জুলাই এই পদে যোগদান করার পর নীতিমালা বহির্ভূত বদলী নিয়োগ চালিয়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তিনি পৃথক বদলী আদেশে এ পর্যন্ত প্রায় ১১শ কর্মকর্তাকে বদলি নিয়োগ করেছেন। প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা এই বদলি খাত থেকে আয় করারও অভিযোগ উঠেছে ঐ সদস্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

এআরও, আরও, এসি, ডিসি, জেসি, কমিশনার পর্যায়ের বেশিরভাগ কর্মকর্তাকেই বদলি করা হয়েছে। মোটা অংকের বিনিময়ে লোভনীয় পোস্টিং আবার চাহিদা মোতাবেক ঘুষ দিতে না পারায় ডাম্পিং পোস্টিং নিয়েও কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এনবিআর’র সার্বিক কর্মকান্ডে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বদলি বাণিজ্য করে অর্ধশত কোটি টাকা গ্রহণের বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট। এহেন ঘুষ কেলেঙ্কারির বিষয়টি জানাজানি হলে সম্প্রতি প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা রায়হান মেহেবুব সহ শাখার সৎ কর্মকর্তারা মোয়াজ্জেমের সাথে দায়িত্ব পালনে অপারগতা জানালে ৩৩ ব্যাচের ঐ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। এ নিয়েও কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

সূত্রমতে এআরও সারোয়ার হোসেন, আবু বকর সিদ্দিক, শাহ মোহাম্মদ আশিকুর রহমান, আজিজ প্রসাদ রুদ্র, মো: আবুল বাশার, সানাউল হক, বাবুল সিংহ, আ: কাদের সানাউল্লাহ, শামীম হোসেন, বনজ কান্তি রায়, আবু হোসেন, শারমিন জাহান, শাহজাহান কবির, কপিল দেব গোস্বামী, প্রভৃতি কর্মকর্তাদের কাছ

থেকে ২০-২৫ লাখ টাকা ঘুষের মাধ্যমে বদলী নীতিমালা লংঘন করে বদলি বাণিজ্য করা হয়েছে। অনুরূপ আরও পদের কর্মকর্তাদের লোভনীয় পদে নিয়োগ দিতে ২৫-৩০ লাখ, এসিদের ৩০-৫০ লাখ, ডিসিদের ৪০-৫০ লাখ, জেসিদের ৫০-৬০ লাখ ও কমিশনার পদে রদবদলে লোভনীয় কর্মস্থলে পোস্টিং দিতে ৩-৫ কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের ঘটনা ঘটেছে।

এনবিআর সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন হচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও বিমানবন্দর থানা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ফাতেমা জামান সাথীর খুবই ঘনিষ্ঠজন পরিচয়ে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বেপরোয়া ক্ষমতাসিন হয়ে পড়েন। ঐ সময়ে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন

কর্মকর্তাদেরও তিনি থোরাই কেয়ার করতেন। ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে অবীধভাবে হাতিয়ে নিয়েছেন শক শত কোটি টাকা। ’বিসিএস (শুল্ক ও আবগারী) দপ্তরের ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম চাকুরীকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অন্যায় সুবিধা দিয়ে সহকর্মীদের নিকট মুনাফিকি করে ঘুষ গ্রহন করেন।

তিনি বাইরে সততার লেবাস দেখান কিন্তু অবৈধ অর্থ লেনদেন হতে বিরত থাকেননি। তার বিরুদ্ধে আমেরিকায় অর্থ পাচার, পাবনায় অবস্থিত ইউনিভার্সেল গ্রুপের কাছে ১১ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহন, ঢাকা কাস্টমস কমিশনার থাকাকালে ব্যাপক দুর্নীতির প্রমান এবং যশোরের কমিশনার থাকাকালে অবৈধ সিগারেট বাণিজ্য হতে শত শত কোটি টাকা অবৈধ

অর্থ উপার্জনের সত্যতা রযেছে।

মোয়াজ্জেমের ছেলে আমেরিকার John Hopskin University তে সেমিস্টার প্রতি ৩৫,০০০ ডলার প্রদান করে পড়ালেখা করে। মোয়াজ্জেম হুন্ডির মাধ্যমে এই টাকা আমেরিকায় প্রদান করেন। ছেলে রাগীব মোয়াজ্জেমের এই লেখাপড়ার খরচ কোন মাধ্যমে বিদেশে প্রেরন করেছেন তার কোনো বৈধ উৎস নেই। আমেরিকার বাল্টিমোরে সম্প্রতি একটি বাড়ী ক্রয় করেছেন ছেলে ও ছেলে বৌ আদিবা গাল্ফারের নামে। বিষয়টি কাস্টমস ডিপার্টমেন্টের সবাই জানে।

উল্লেখ্য গত এপ্রিল মাসে এনবিআর বিলুপ্ত করে “রাজস্ব নীতি” ও “রাজস্ব ব্যবস্থাপনা” নামে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের অধ্যাদেশ জারি হয়। এরপর থেকেই সংস্থার ভেতরে অস্থিরতা দেখা দেয়। অধ্যাদেশ বাতিল ও চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে কর্মকর্তারা “সিবিএ স্টাইলে” ধর্মঘট, কলম বিরতি ও “মার্চ টু এনবিআর” কর্মসূচি পালন করেন। এই আন্দোলনের সময় নির্দিষ্ট কিছু সেবা ছাড়া প্রায় সব কার্যক্রম বন্ধ ছিল। মে ও জুনে বাজেট প্রণয়ন ও রাজস্ব আদায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়েও তারা অচলাবস্থা তৈরি করেন। কেউ কেউ প্রকাশ্যে বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলেন—যা এনবিআরের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

সংস্থার ভাবমূর্তি সংকটে একাধিক ঘটনায় এনবিআরের ভেতরে গভীর অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কর্মকর্তাদের একটি অংশ বলছেন, এই অনিয়মই সংস্থার ভাবমূর্তিকে নিচে নামিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সদস্য বলেন, “এটা অস্বীকারের উপায় নেই, এনবিআর ভাবমূর্তি সংকটে আছে। কিছু কর্মকর্তার কারণে পুরো সংস্থাটিই এখন দুর্নীতির প্রতীক মনে হচ্ছে।” একজন কমিশনার বলেন, “এখানে অধিকাংশ কর্মকর্তাই কোনো না কোনোভাবে আর্থিক অনিয়মে জড়িত। পার্থক্য শুধু কে ধরা পড়ছে আর কে পড়ছে না।” একজন দ্বিতীয় সচিবের ভাষায়, “এখন এনবিআরে কাজ করি এই পরিচয় দেওয়াটাই অনেক সময় লজ্জার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ”তবে এনবিআর বলছে,

অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে দুর্নীতি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি করবর্ষ থেকে ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আয়কর ও ভ্যাট অডিটও অনলাইন প্রক্রিয়ায় হচ্ছে। ভ্যাট রিফান্ড ও আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত নথিপত্রও ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডোর মাধ্যমে অনলাইনে দাখিল করা যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষের আশা, সব কার্যক্রম ডিজিটাল হলে ঘুষ, অনিয়ম ও হয়রানি কমে যাবে এবং ব্যবসায়ীরা স্বস্তি পাবেন।

নিজ আয়কর রিটার্নে অসত্য তথ্য প্রদানকারী এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান দুর্নীতিবাজ সদস্য (শুল্ক ও ভ্যাট প্রশাসন) মোয়াজ্জেম ২জনই স্বৈরাচারের দোসর হওয়ায় হাজারো অভিযোগ উত্থাপন হওয়া সত্বেও চেয়ারম্যান সাহেব বিষয় সমূহ ওভারলুক করে থাকেন

বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কমিশনার জানান।

এনবিআর সদস্য প্রশাসন মোয়াজ্জেমের এহেন ঘুষ বানিজ্যের ফলে প্রশাসনে চলমান অস্থিরতা নিরসনে ভুক্তভোগী কর্মকর্তাগন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন

ফিফা আসিয়ান কাপে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হারের পরও বাংলাদেশ ফুটবল দলের উন্নতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারকা মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী।

‘হারলেও বড় অর্জনের পথেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ, ইনশাআল্লাহ’: হামজা চৌধুরী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৯ পূর্বাহ্ণ
[shared_counts]
‘হারলেও বড় অর্জনের পথেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ, ইনশাআল্লাহ’: হামজা চৌধুরী

অনলাইন ডেস্ক:

মাঠের সব যাত্রার মূল্যায়ন শুধু জয়-পরাজয়ের পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়। ফিফা আসিয়ান কাপে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারলেও জাতীয় দলের সার্বিক উন্নতি ও ইতিবাচক রূপান্তরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। ইংলিশ ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডের এই তারকার মতে, শক্ত প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়ে লাল-সবুজের দল এখন একটি বড় অর্জনের মজবুত ভিত্তি গড়ে তুলছে।

সোমবার ফিফাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হামজা জানান, জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর দেড় বছরের পথচলা ছিল শেখার এবং দলকে গভীরভাবে বোঝার একটি প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে এটি আমার জন্য অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা, আলহামদুলিল্লাহ। কঠিন সময় ও চড়াই-উতরাই পাড়ি দিতে হলেও দল হিসেবে আমরা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি। বাংলাদেশ দল সঠিক পথেই এগোচ্ছে এবং বড় কিছুর ভিত তৈরি হচ্ছে।”

শক্তিশালী দলের বিপক্ষে লড়াই ও ইতিবাচক ইঙ্গিত

চলতি টুর্নামেন্টে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার মতো শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলছে বাংলাদেশ। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের উদাহরণ টেনে হামজা উল্লেখ করেন, “আগের ম্যাচের চেয়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আমরা অনেক গুছিয়ে খেলেছি। মালয়েশিয়া র‍্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে ৪৫ ধাপ এগিয়ে থাকলেও মাঠের খেলায় সেই ব্যবধান বোঝা যায়নি। এটি প্রমাণ করে দল হিসেবে আমাদের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমার মনে হয় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ধাঁধার শেষ দুই-তিনটি টুকরো মেলানোই এখন বাকি। আশা করছি খুব দ্রুতই আমরা সেগুলো সঠিকভাবে গুছিয়ে নিতে পারব।”

সামনে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের বড় চ্যালেঞ্জ

আসন্ন নভেম্বরে দেশের মাটিতে বসতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের আসর ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ’। এই টুর্নামেন্টকে ঘিরেই নিজেদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে দল। হামজা বলেন, “নভেম্বরে ঘরের মাঠে আমাদের একটি বড় টুর্নামেন্ট রয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা সেই আসরের জন্যই দলগতভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং দেশের দর্শকদের ভালো কিছু উপহার দিতে আশাবাদী।”

ইন্দোনেশিয়া সফর ও পরবর্তী কঠিন পরীক্ষা

জাতীয় দলের হয়ে এই সফর হামজার জন্য নতুন অভিজ্ঞতাও বয়ে এনেছে। প্রথমবারের মতো ইন্দোনেশিয়া সফর নিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করে তিনি জানান, এখানকার মানুষ অত্যন্ত অমায়িক এবং পুরো পরিবেশ তিনি উপভোগ করছেন।

তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার চেয়েও এখন হামজার পুরো মনোযোগ মাঠের খেলায়। আগামী বৃহস্পতিবার আসিয়ানের শক্তিশালী দল ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলা তারকাদের নিয়ে গড়া ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিকে একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন হামজা। তাঁর ভাষ্য, “বিপুল স্বাগতিক দর্শকের উপস্থিতিতে ম্যাচটি হবে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তবে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলে নিজেদের যাচাই করে নেওয়া এবং শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

 

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ
[shared_counts]

দৈনিক ভোরের নতুন বার্তা

অবসরের আগমুহূর্তে প্রধান প্রকৌশলী হতে মরিয়া আবুল খায়ের: নেপথ্যে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
[shared_counts]
অবসরের আগমুহূর্তে প্রধান প্রকৌশলী হতে মরিয়া আবুল খায়ের: নেপথ্যে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:

চাকরির মেয়াদ বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। আগামী ১ অক্টোবর থেকেই শুরু হওয়ার কথা অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল)। অথচ এই অন্তিম সময়ে এসে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সর্বোচ্চ পদ ‘প্রধান প্রকৌশলী’ বাগিয়ে নিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন পরবর্তী অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে এবং বিপুল অর্থ ও তদবিরের জোরে তিনি পদটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমানে চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে সরাতে নানা কৌশল নিয়েছেন আবুল খায়ের। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে গণমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীকে বিতর্কিত করে নিজের পথ সুগম করার চেষ্টা করছেন তিনি।

রাজনৈতিক প্রভাব ও ‘মিস্টার ৫%’ তকমা

অভিযোগ রয়েছে, কর্মজীবনের শুরু থেকেই রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এই কর্মকর্তা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক সচিবের সুপারিশ ও দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে গোপালগঞ্জ জোনে দায়িত্ব নেন। সেখানে ক্ষমতাচ্যুত প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে পুরো অধিদপ্তরে প্রভাব বিস্তার করেন তিনি।

২০২০ সালে গোপালগঞ্জে সরকারি অর্থে ‘মুজিব কর্নার’ ও ‘বঙ্গবন্ধু গ্যালারি’ স্থাপন করে তোষামোদের রাজনীতিতেও এগিয়ে ছিলেন। বর্তমানে ঢাকা জোনে দায়িত্ব পালন করা আবুল খায়ের অধিদপ্তরে ‘মিস্টার ৫%’ নামেই পরিচিত। যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন কিংবা বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ হারে কমিশন নেওয়াকে তিনি অলিখিত নিয়মে রূপ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

যেখানে পোস্টিং, সেখানেই অনিয়ম

কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে টেন্ডার সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে:

চট্টগ্রামে শতকোটির হরিলুট: চট্টগ্রাম জোনে দায়িত্ব পালনকালে আগ্রাবাদ সিজিএস কলোনিতে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ৯টি ২০ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্পে (প্রায় ৪০০ কোটি টাকার কাজ) পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

নকশা পরিবর্তন ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের এ ঘটনায় দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে অনিয়মের সত্যতা মেলে।

কুমিল্লায় বিরোধ ও বদলি: কুমিল্লা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থাকাকালে টেন্ডার ও কমিশন বাণিজ্য নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি হলে তোপের মুখে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

গৃহায়নে জালিয়াতি: জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে থাকাকালীন প্লট ও ফ্ল্যাট বরাদ্দ এবং নকশা অনুমোদনে অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

রংপুরে বিলাসবহুল আয়োজন: ক্ষমতার অপব্যবহারের নজির গড়েছেন রংপুর জোনেও। চলতি বছরের ২ জুন তার স্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শহরের একটি বিলাসবহুল হোটেলে স্থানীয় ঠিকাদার ও অধস্তনদের খরচে প্রায় ২০ লাখ টাকার একটি ‘সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’র আয়োজন করা হয়। সেখানকার ঠিকাদাররা তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছিলেন।

সম্পদের পাহাড় কমিশন বাণিজ্য ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আবুল খায়ের রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকার অভিজাত এলাকায় নিজের ও স্বজনদের নামে অন্তত ২৪টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, পূর্বাচল ও মোহাম্মদপুরে মূল্যবান প্লট এবং ময়মনসিংহে বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি ও খামারবাড়ি।

এসব অনিয়মের অভিযোগ এবং প্রধান প্রকৌশলী পদের জন্য তৎপরতার বিষয়ে জানতে মো. আবুল খায়েরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি

‘হারলেও বড় অর্জনের পথেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ, ইনশাআল্লাহ’: হামজা চৌধুরী অবসরের আগমুহূর্তে প্রধান প্রকৌশলী হতে মরিয়া আবুল খায়ের: নেপথ্যে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশলীর প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন, নানা অনিয়মের অভিযোগ স্বজনের বিয়েতে যেতে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবিএকই পরিবারের নিখোঁজ ৫জনের মধ্যে ১নারীর মরদেহ উদ্ধার  দাউদকান্দি জিংলাতলীতে অসহায় বৃদ্ধার ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ দাউদকান্দিতে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি: নগদ ৪ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতি ও ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ আওয়ামী লীগের রাজনীতি কোনো ইনডোর গেম নয়: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আবদুস সবুর গণপূর্তের আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে ডেভেলপার ব্যবসা ও অনিয়মের অভিযোগ দুদকে গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ তামজিদ হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ। বরিশাল গণপূর্তে ‘আওয়ামী দোসর’ ফয়সালের রাজত্ব: অপকর্মের পাহাড় সত্ত্বেও বহাল তবিয়তে! এক হাতে গাছের চারা, অন্য হাতে লাল কার্ড উঁচিয়ে মাদককে ‘না’ বলে শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমের  কাজ না করেই ৫ কোটি টাকার বিল সাবাড়: পাবনা গণপূর্তে প্রকৌশলী রাশেদ কবীরের জালিয়াতি অদৃশ্য নেটওয়ার্ক ও ছায়া পার্টনারশিপ গণপূর্তের প্রকৌশলীদের সিন্ডিকেট বাণিজ্য দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের পুকুরের মাছ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি বিধি ভেঙে ফ্ল্যাট ব্যবসা গণপূর্তের আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দুর্নীতি ও জালিয়াত চক্রের মাধ্যমে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তোলার অভিযোগ গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে গণপূর্তের ইএম জোনে বসতে কোটি টাকার চিঠি কিনলেন আলমগীর খান! চাঁদা না পেয়ে চরের ঘাসে বিষ: অসুস্থ ৩০ মহিষ, মারা গেছে তিনটি মহাসড়কে মাদক পাচার রোধে কড়া নজরদারি: দাউদকান্দিতে ওসি সাজেদুলের নেতৃত্বে একাধিক চালান জব্দ সৌদি তরুণের গুলিতে বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত, তিন তিন বারের নির্বাচিত সাবেক সফল চেয়ারম্যানের ছোট ভাই আমেরিকা প্রবাসি সাহনেওয়াজ সরকার সানুর চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা প্রতিদিনের কাগজের ফেসবুক পেজ হ্যাক ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে আনিসুর রহমান কারাগারে মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতিবাজ দুই কর্মকর্তা কর্মচারীর হাতে জিম্মি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ দেবিদ্বারে মাদরাসার দেয়াল ধসে শিক্ষার্থী নিহত: বিচারের অপেক্ষায় হাফেজ সিফাতের পরিবার