খুঁজুন
সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ২১ বৈশাখ, ১৪৩৩

উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) মাসুম বিল্লাহ। বর্তমানে কর্মরত শের-ই-বাংলা নগর ৩নং গণপূর্ত উপবিভাগের এসডিই হিসাবে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) মাসুম বিল্লাহ। বর্তমানে কর্মরত শের-ই-বাংলা নগর ৩নং গণপূর্ত উপবিভাগের এসডিই হিসাবে

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:

চাক্রিকে হাতিয়ার বানিয়ে পদ ও পদবী ব্যবহার করে বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসাসহ ঘুষ দুর্নীতি আর পার্সেন্টেজ বাণিজ্যে তিনি ক্রমেই হয়ে উঠছেন অপ্রতিরোধ্য। বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধা সাটিফিকেটে, বদৌলতে স্বৈরাচার লীগ সরকারের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী নেতা আমির হোসেন আমুর আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে চাকরিতে ঢুকে লোভনীয় পোষ্টিং পদোন্নতি নিয়ে বর্তমানে নামে-বেনামে কমপক্ষে ২০ কোটি টাকার সহায়-সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।

তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের। তার অনিয়ম-দুর্নীতির আরও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেখতে আমাদের মাতৃভূমির সাথে থাকুন।

অভিযোগে জানা যায়, প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহ ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগর ইউনিয়নের কাঠিরপাড়া গ্রামের স্থায়ী নিবাসী। তার পিতা ইউনুস আলী ছিলেন ইউনিয়ন আ’লীগের সদস্য।

মাসুম বিল্লাহ বুয়েটে পড়ার সময়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। সেই সুবাদে ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির হাত ধরে দুর্নীতির বরপুত্র দক্ষিণাঞ্চলে ফ্যাসিবাদের জনক সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর আশীর্বাদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় (যদিও একাধিক অভিযোগ মাসুম বিল্লার বাবার একজন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা) গণপূর্তের সহকারী প্রকৌশলী পদে চাকরি বাগিয়ে নেন।

পরবর্তীতে ওই আ’লীগ নেতার আশীর্বাদে একের পর এক লোভনীয় পোষ্টিংসহ পেয়ে যান পদোন্নতি। ওই সময়ে রাজাপুরের কাঠিরপাড়া গ্রামে তাদের একটি ভাঙ্গা টিনের ঘর ছিল। কিন্তু গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলী হওয়ার পরে হাতে পেয়ে যান আরব্যরজনীর আলাদ্দিনের চেরাগ। লীগের বদৌলতে আমুর আশীর্বাদে চাকরিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ওই চেরাগ ঘষে ঘষে চাকরির সল্প সময়ে হয়ে উঠেন কোটিপতি।

স্টাফ অফিসার (সহকারী প্রকৌশলী) থাকাকালে আ’লীগের পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে করতেন মোটা অংকের নগদ কমিশন বাণিজ্য। এসডিই হিসাবে পদোন্নতি নিয়ে বিভিন্ন ভুয়া বিল ভাউচার, প্রকল্পে অনিয়ম ঘুষ দুর্নীতি করে কয়েক কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন তিনি।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ছাত্রলীগ ক্যাডার হিসাবে প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহ বিশেষ বিসিএসে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের চাকরিতে ঢুকেন। ২০১৬ সালে তিনি নগর গণপূর্ত বিভাগের স্টাফ অফিসার। সেখানে টেন্ডার সম্পর্কিত যাবতীয় কাজগুলো দেখ্শাুনা করতেন তিনি।

সে সুবাদে গোপালগঞ্জের মাফিয়া ঠিকাদার ছত্রলীগের আরেক ক্যাডার দীন ইসলামের এস এ এন্টারপ্রাইজসহ আ’লীগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দিয়ে তিনি নগদ ১% ক্ষেত্র বিশেষ ২% হিসাবে তিনটি অর্থবছরে প্রায় ২ কোটি টাকা কমিশন বাণিজ্য করেছেন।

পরবর্তীতে আওয়ামী প্রভাব কাজে লাগিয়ে, অবৈধ অর্থের জোড়ে পদোন্নতি নিয়ে এসডিই হিসাবে মিরপুর উপবিভাগ-২ এর দায়িত্ব নিয়ে সেখানে পাইকপাড়া এপার্টমেন্টসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে এ্যাডভান্স বিল প্রদানের পাশাপাশি বিবিধ জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা লোপাট করেন ঊদ্ধতনদের যোগসাজশে।

সেখানে প্রায় ৪ বছর থাকার পরে আমুর সুপারিশে ঢাকা থেকে ঢাকায় শের-ই-বাংলা নগর ৩নং উপবিভাগে পোষ্টিং বাগিয়ে নিয়ে পরোক্ষ ঠিকাদারীসহ ঘুষ বাণিজ্যে আরো অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেন তিনি।

২৮ মার্চ ২০২৪ইং থেকে শুরু করে জুলাই বিপ্লবের পরে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও অবৈধ অর্থের জোড়ে প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহ স্ব-মহিমায় বহালতবিয়তে আছেন একই চেয়ারে।

এ নিয়ে শোষিত বঞ্চিত কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের মধ্যে বিরাজ করছে চাঁপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা। এই ক্ষোভ ও উত্তেজনার সূত্র ধরে বঞ্চিত প্রতারিতদের রোষাণলে পড়ে এই পূর্ত কর্মকর্তা যে কোন সময়ে লাঞ্চিত বা রক্তাক্ত হলে এর দায়ভার বর্তমান গণপূর্ত প্রশাসনকে-ই নিতে হবে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বৈষম্য বিরোধী প্রকৌশলী।

অপরদিকে, মাসুম বিল্লাহ কাস্টমস্ কর্মকর্তা বড় ভাই সফিউল বসর মিলে গ্রামের ভাঙ্গা টিনের ঘর ভেঙে একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বাবা মা স্ত্রী বড় ভাইসহ বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে রাজাপুর উপজেলায় প্রায় ১০০ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন এই প্রকৌশলী। রাজধানী ঢাকা উত্তরা বনশ্রী সাভারসহ বিভিন্ন জায়গায় করেছেন একাধিক ফ্লাট, নামে-বেনামে বিভিন্ন সম্পত্তি ক্রয় করেছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকে তার বিরুদ্ধে ইতেপূর্বে জমা হয়েছে একাধিক অভিযোগ। সম্প্রতি দুদক তার ভূয়া মুক্তিযুদ্ধের সনদ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মাসুম বিল্লাহ, তার বড় ভাই শফিউল বসর ও তার স্ত্রী নাইমা আক্তার সুমার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাঠিরপাড়া গ্রামের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা আমাদের প্রতিনিধিকে বলেন, বিগত আ’লীগ আমলে এরা অবৈধভাবে প্রচুর অর্থ আয় করেছেন। স্থানীয় আ’লীগের ইউনিয়ন উপজেলা ও সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক অর্থ খরচ করতেন। তাদের বাসায় সব সময় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও স্বর্ণ মজুদ থাকতো।

২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর তাদের নগদ অর্থের সন্ধান পেয়ে ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন তাদের বাড়ি থেকে আনুমানিক ১৫-২০ কোটি টাকা ও কয়েকশো ভরি স্বর্ণ লুট হয়। কিন্তু থানার এজাহারে মাসুম বিল্লাহ ও সফিউল বসর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করেছিলেন ১৩ ভরি সোনার গহনা,

নগদ ৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ও চারটি মোবাইল ফোন। কারণ এতো বিশাল পরিমান অর্থ ও স্বর্ণের বৈধ হিসাব তাদের কাছে ছিল না। অবৈধ অর্থ সম্পদ নিয়ে ধরা পড়ার ভয়ে তারা মিথ্যার আশ্রয় নেন। আরো বেশ কয়েকজন বলেন, ৫ ই আগস্ট শেখ হাসিনার পতন হলে অনেক আ’লীগ নেতারা পালিয়ে যাওয়ার আগে তাদের বাড়িতেও বিপুল পরিমাণ অর্থ রেখে গিয়েছিলেন।

এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আসলেও অর্থ ও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তা অদৃশ্য করে দিতেন। তার বাবা ইউনুস আলী ছিলেন একেবারেই হতদরিদ্র। সামান্য একটু কৃষি জমি ছাড়া এদের তেমন কোন সম্পদ ছিল না। অথচ আ’লীগ ক্ষমতায় আসার পরে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সেজে ছেলেদের সরকারি চাকরি পাইয়ে দিয়ে এখন নামে-বেনামে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্তের বেশ কয়েকজন প্রকৌশলী ও খুলনা কাস্টমসের ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহ ও কাস্টমস্ কর্মকর্তা শফিউল বসর আমির হোসেন আমুর আত্মীয় হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতেন। সেই প্রভাবের তাদের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খুলতো না।

বিনোদন ভিডিও সংবাদ

তারিখ দিয়ে সংবাদ খুজুন

সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

গণপূর্তের প্রকৌশলী তৈমুর আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়: নেপথ্যে ভাই ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ
গণপূর্তের প্রকৌশলী তৈমুর আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়: নেপথ্যে ভাই ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢাকা রাজধানীর গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল–মেকানিক্যাল (ই/এম) সার্কেল–৪–এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. তৈমুর আলমকে ঘিরে একের পর এক দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে থেকে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা, দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো এবং কোটি কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এসব অনিয়মের নেপথ্যে তার আপন ছোট ভাইয়ের সম্পৃক্ততার দাবিও তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

সিন্ডিকেটের কবজায় বড় প্রকল্প

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ই/এম সার্কেল–৪–এর অধীনে পরিচালিত অধিকাংশ বড় প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে পেয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৌশলী তৈমুর আলম তার প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে দরপত্রের শর্তাবলি এমনভাবে সাজাতেন যাতে তার পছন্দের বাইরে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারে। নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে তিনি মোটা অঙ্কের কমিশন নিতেন বলে দপ্তরের ভেতরেই গুঞ্জন রয়েছে।

 

ভাইয়ের প্রভাব ও পারিবারিক সম্পৃক্ততা

তৈমুর আলমের দুর্নীতির বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে তার পরিবারের সদস্যদের নাম। বিশেষ করে তার ছোট ভাই অংকুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, ভাইয়ের প্রশাসনিক পদমর্যাদাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করতেন। অনেক ক্ষেত্রে অংকুরই ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর মধ্যে ‘মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে কাজ করতেন বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

একই স্থানে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান

সরকারি বদলি নীতিকে তোয়াক্কা না করে তৈমুর আলম ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। বছরের পর বছর একই এলাকায় দায়িত্বে থাকায় তিনি একটি দুর্ভেদ্য প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন, যা তাকে অনিয়ম চালিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আদালতে মামলা ও আইনি জটিলতা

তৈমুর আলমের বিরুদ্ধে কেবল প্রশাসনিক অভিযোগই নয়, বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। প্রাপ্ত নথিতে দেখা যায়, ঢাকার একটি আদালতে (সিআর মামলা নং–১১৮/২০২৫) সরকারি তহবিল তছরুপ, প্রকল্প বরাদ্দে অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন পর্যায়ে রয়েছে।

বক্তব্য ও প্রশাসনিক অবস্থান

অভিযোগের বিষয়ে মো. তৈমুর আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং প্রশাসনিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। তাদের মতে, কোনো অভিযোগই এখন পর্যন্ত বিচারিক বা দাপ্তরিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।

অন্যদিকে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের অভিমত

বিশেষজ্ঞদের মতে, গণপূর্তের মতো সংস্থায় এ ধরনের সিন্ডিকেট রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ঘটায়। তারা মনে করেন, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ফেরাতে এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।

দেখ নিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের নাম

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা ও তাদের শাসনকাল নিচে দেওয়া হলো। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং পরবর্তীতে ২০২৬ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের পূর্ণ তালিকা (১৯৭২–বর্তমান)

বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে একাধিক প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের নাম ও তাঁদের দায়িত্ব পালনের সময়কাল ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো।


বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা

ক্র. নংপ্রধানমন্ত্রীর নামদায়িত্ব গ্রহণদায়িত্ব সমাপ্তি
তাজউদ্দীন আহমদ১২ জানুয়ারি ১৯৭২১২ মার্চ ১৯৭২
শেখ মুজিবুর রহমান১২ জানুয়ারি ১৯৭২২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫
মুহাম্মদ মনসুর আলী২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫১৫ আগস্ট ১৯৭৫
আতাউর রহমান খান১০ জুলাই ১৯৮৪২৭ মার্চ ১৯৮৬
মিজানুর রহমান চৌধুরী২৭ মার্চ ১৯৮৬৬ মে ১৯৮৬
মৌদুদ আহমদ৬ মে ১৯৮৬৮ জুলাই ১৯৮৬
কাজী জাফর আহমেদ১৫ মার্চ ১৯৮৯৬ ডিসেম্বর ১৯৯০
খালেদা জিয়া২০ মার্চ ১৯৯১৩০ মার্চ ১৯৯৬
হাবিবুর রহমান*৩০ মার্চ ১৯৯৬২৩ জুন ১৯৯৬
১০শেখ হাসিনা২৩ জুন ১৯৯৬১৫ জুলাই ২০০১
১১লতিফুর রহমান*১৫ জুলাই ২০০১১০ অক্টোবর ২০০১
১২খালেদা জিয়া১০ অক্টোবর ২০০১২৯ অক্টোবর ২০০৬
১৩ফখরুদ্দীন আহমদ*১২ জানুয়ারি ২০০৭৬ জানুয়ারি ২০০৯
১৪শেখ হাসিনা৬ জানুয়ারি ২০০৯বর্তমান

১৫. তারেক রহমান (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – বর্তমান)

বিএনপি চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য

* তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টারা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। যদিও তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না, বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় তাঁদের ভূমিকা ছিল প্রধানমন্ত্রীর সমতুল্য।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রতিটি প্রধানমন্ত্রীর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতা-পরবর্তী পুনর্গঠন থেকে শুরু করে আধুনিক উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় তাঁদের নেতৃত্ব উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর পদ সবসময়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরো পড়ুন:

 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, list of Bangladeshi Government, Bangladesh government name, বালাদেশের সরকারের তালিকা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের সময়কাল

গৃহায়ণে তাবেদুন সিন্ডিকেটের লুটপাট (৩য় পর্ব)

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
গৃহায়ণে তাবেদুন সিন্ডিকেটের লুটপাট (৩য় পর্ব)

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দ্বিতীয় পর্বে উন্মোচিত হয়েছিল মিরপুরকেন্দ্রিক দুর্নীতির বিস্তৃত জাল, যেখানে নির্বাহী প্রকৌশলী জোয়ারদার তাবেদুন নবী গড়ে তুলেছিলেন একটি ‘প্যারালাল প্রশাসন’। তৃতীয় পর্বের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে আরও গভীর ও বিস্তৃত সেই অন্ধকার নেটওয়ার্ক যেখানে শুধু একটি প্রকল্প নয়, বরং একাধিক সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পকে ব্যবহার করা হয়েছে ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে।

 

নথিপত্র বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তাবেদুন নবীর প্রভাব বলয় ছড়িয়ে ছিল রাজধানীর বাইরেও। বিশেষ করে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের অধীনে চলমান কয়েকটি আবাসন প্রকল্পে একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা গেছে। জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে প্লট বরাদ্দ, ঠিকাদারি নিয়োগ, এমনকি নির্মাণ সামগ্রীর মান নির্ধারণ সবকিছুতেই ছিল একটি সুসংগঠিত ‘কমিশন বাণিজ্য’।

 

অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিতে দরপত্র প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রভাবিত করা হতো। টেন্ডার ডকুমেন্ট এমনভাবে সাজানো হতো যাতে ‘পছন্দের’ প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কেউ যোগ্যতা অর্জন করতে না পারে। এর বিনিময়ে কোটি কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার, যারা পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক।

 

এই সিন্ডিকেটের আরেকটি ভয়ংকর দিক হলো ‘ফাইল বাণিজ্য’। একটি ফাইল সচল রাখা, অনুমোদন দেওয়া কিংবা আটকে রাখার জন্য নির্ধারিত ছিল আলাদা আলাদা রেট। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ঘুষ দিতে ব্যর্থ হলে তাদের প্রকল্প ফাইল বছরের পর বছর ঝুলে থাকত, অথচ একই সময়ে ঘুষ প্রদানকারীদের ফাইল অস্বাভাবিক দ্রুততায় অনুমোদন পেত।

 

তদন্তে উঠে এসেছে, তাবেদুন নবীর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা এবং দালাল শ্রেণির মধ্যস্থতাকারী এই পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করতেন। তারা সরাসরি অর্থ লেনদেন না করলেও ‘বিশ্বস্ত চ্যানেল’ হিসেবে কাজ করতেন। নগদ টাকা, মোবাইল ব্যাংকিং এবং বিদেশে অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে হুন্ডি ব্যবস্থার ব্যবহার ছিল নিয়মিত।

 

আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিল কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ আমলা, যারা নেপথ্যে থেকে তাবেদুন নবীকে ‘সুরক্ষা বলয়’ প্রদান করতেন। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো বারবার তদন্তের আগেই চাপা পড়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকাও দীর্ঘ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগ করে প্রতারিত হয়েছেন হাজারো মধ্যবিত্ত পরিবার। কেউ জমির কাগজ পাচ্ছেন না, কেউ আবার নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় বছরের পর বছর ভাড়া বাসায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা রেখে বিনিয়োগ করলেও শেষ পর্যন্ত তারা পড়েছেন এক দুর্নীতির ফাঁদে।

 

তৃতীয় পর্বের অনুসন্ধান বলছে, তাবেদুন সিন্ডিকেটের এই নেটওয়ার্ক এখনও সক্রিয়, এবং প্রভাব বিস্তার করছে নতুন নতুন প্রকল্পে।

 

চলবে…

গণপূর্তের প্রকৌশলী তৈমুর আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়: নেপথ্যে ভাই ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা গৃহায়ণে তাবেদুন সিন্ডিকেটের লুটপাট (৩য় পর্ব) গণমাধ্যম সপ্তাহে দাউদকান্দিতে বর্ণাঢ্য শুভযাত্রা ও বৃক্ষরোপণ গৃহায়ণে তাবেদুন সিন্ডিকেটের লুটপাট (২য় পর্ব) ২০২৬ সালের ঈদুল আযহা কবে? তারিখ, তাৎপর্য এবং প্রস্তুতির পূর্ণাঙ্গ গাইড দ্রুত ওজন কমানোর ১০টি বৈজ্ঞানিক ও কার্যকর উপায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা, খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা গণপূর্ত প্রকৌশলী তাবেদুন সিন্ডিকেটের কোটি টাকা লুটপাট, ১ম পর্ব পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই ইরানের জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে   ভণ্ড পীরের আস্তানা: শামীম রেজা সীতাকুণ্ডে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে খুন রূপগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ‘খারা মোশাররফ’র নেতৃত্বে হামলা: ১৮ লাখ টাকার সরঞ্জাম লুট দাউদকান্দিতে জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা প্রাণনাশের শঙ্কায় সাংবাদিক শরিফুল হোমনায় তিতাস নদী থেকে নারীর ভাসমান লাশ উদ্ধার দাউদকান্দিতে প্রবাসী কল্যাণ সংগঠনের উদ্যোগে ঈদে গরুর মাংস বিতরণ রিয়াদে প্রবাসী অপহরণ: ‘রনি গ্রুপ’-এর নির্যাতনে সর্বস্বান্ত সানা-উল্লাহ, মামলা দায়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইমারত পরিদর্শক উজ্জ্বল চন্দ্র দেব এর রঙ্গলীলা – পর্ব ১ “ উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) মাসুম বিল্লাহ। বর্তমানে কর্মরত শের-ই-বাংলা নগর ৩নং গণপূর্ত উপবিভাগের এসডিই হিসাবে দাউদকান্দি উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান শাহীন পুনর্বহাল রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে চট্টগ্রামে বেস্ট ফ্লাই ও বঙ্গনিউজের ইফতার আয়োজন ভারত থেকে ৫ হাজার টন ডিজেল আসছে আজ খালেদা জিয়াকে নিয়ে অশালীন বক্তব্য, পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ৫ দৈনিক “প্রতিদিনের কাগজ” ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন: ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের তদন্ত প্রতিবেদনে নিশ্চিত দাউদকান্দিতে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়া করে ১১ লাখ টাকা আত্মসাৎ: প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সম্মানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিল