খুঁজুন
, ,

ডিজি বদলি, কিন্তু বিতর্কের অবসান কোথায়?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
[shared_counts]
ডিজি বদলি, কিন্তু বিতর্কের অবসান কোথায়?

 

বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বোরি) দেশের সামুদ্রিক গবেষণা, সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও নীল অর্থনীতি বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে গবেষণা, সামুদ্রিক সম্পদের সম্ভাবনা অনুসন্ধান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ন এবং সমুদ্রভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকার কথা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, গত কয়েক বছরে গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক অর্জনের চেয়ে প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, ক্রয় কার্যক্রম, ক্ষমতার প্রভাব এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়েই বেশি আলোচনায় এসেছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

সম্প্রতি বোরির মহাপরিচালক কমোডর মো. মিনারুল হককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকেই মনে করেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিতর্ক ও অস্থিরতার একটি পরিসমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। মহাপরিচালকের বদলির পরও থামেনি অভিযোগ, কমেনি উত্তেজনা; বরং নতুন করে শুরু হয়েছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের লড়াই।

 

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশের অভিযোগ, মহাপরিচালকের বদলি কেবল দৃশ্যমান প্রশাসনিক পরিবর্তন মাত্র। অথচ দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্প বাস্তবায়ন, ক্রয় কার্যক্রম, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে যাদের নাম ঘুরেফিরে এসেছে, তাদের ভূমিকা এখনও কার্যকর রয়েছে। ফলে ব্যক্তি পরিবর্তন হলেও ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটেনি বলেই মনে করছেন তারা।

 

সূত্রমতে, গত কয়েক মাসে বোরিকে ঘিরে প্রকাশিত একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক ভয়ভীতি, সরকারি সম্পদের ব্যবহার, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমিত গোষ্ঠীর প্রভাবের মতো নানা বিষয় উঠে আসে। এসব প্রতিবেদনের পরই বিষয়গুলো মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনায় আসে এবং শেষ পর্যন্ত মহাপরিচালকের বদলির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে।

 

তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের দাবি, আলোচিত ঘটনাগুলোর গভীরে গেলে দেখা যাবে, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, ক্রয় কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় সক্রিয় ছিল। তাদের মতে, সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রউফ তালুকদার এবং সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার জাকারিয়াকে ঘিরে যে প্রভাববলয়ের কথা দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা হয়ে আসছে, সেটি নিয়েই এখন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বোরির দ্বিতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্প, বিভিন্ন ক্রয় কার্যক্রম, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে একই ব্যক্তিদের প্রভাব বারবার দৃশ্যমান হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রকল্পের আর্থিক ও প্রশাসনিক কাঠামো এমনভাবে পরিচালিত হয়েছে যাতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সীমিত কয়েকজনের নিয়ন্ত্রণেই থাকে।

 

অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদিত জনবল কাঠামো থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদ শূন্য রাখা হয়েছে। নতুন নিয়োগ হলে বিদ্যমান প্রভাববলয়ের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়া কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোয়নি বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা। যদিও এ অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন, তবুও বিষয়টি এখন প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

 

বোরির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, মহাপরিচালকের বদলির পর প্রকল্প ও প্রশাসনিক নথিপত্র পুনর্মূল্যায়নের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় একটি অংশের মধ্যে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। কারণ নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করলে গত কয়েক বছরের প্রকল্প ব্যয়, ক্রয় কার্যক্রম, বিল-ভাউচার, যানবাহন ব্যবহার, জ্বালানি খরচ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নতুন করে পর্যালোচনার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

 

এমন প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি কয়েকজন কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ তুলে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একটি সূত্রের দাবি, এসব অভিযোগের অনেকগুলোই এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা মতপার্থক্যকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাদের বিষয়ে সহকর্মীদের একটি অংশ আবার ভিন্ন মত পোষণ করেন। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা, বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ, প্রকাশনা এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। প্রশাসনিক মতবিরোধ বা নীতিগত দ্বন্দ্ব থাকতেই পারে, কিন্তু কোনো স্বাধীন তদন্ত ছাড়া কাউকে দায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে না।

 

এদিকে বোরির অভ্যন্তরে এখন সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে, মহাপরিচালকের বদলির পরও কেন বিতর্ক থামছে না? কেন প্রশাসনিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে অভিযোগের স্রোত তৈরি হলো? এবং কেন একই সময়ে প্রকল্প ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত কিছু নামকে ঘিরে প্রশ্নগুলো আরও জোরালো হয়ে উঠছে?

 

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে ব্যক্তি নয়, পুরো ব্যবস্থাকে তদন্তের আওতায় আনতে হবে। গত কয়েক বছরের প্রকল্প বাস্তবায়ন, টেন্ডার কার্যক্রম, ক্রয় প্রক্রিয়া, নিয়োগ ব্যবস্থা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, যানবাহন ব্যবহার এবং আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন অডিট ছাড়া প্রকৃত চিত্র উদঘাটন করা সম্ভব নয়।

 

অভিযোগ রয়েছে, সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রউফ তালুকদার মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য এমন একটি আবেদনপত্র প্রস্তুত করেছেন, যেখানে বিদায়ী প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তাকে চলমান প্রকল্পে বহাল রাখার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, নতুন প্রশাসনের অধীনে প্রকল্পের নথিপত্র, আর্থিক হিসাব, ক্রয় কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পুনঃমূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হলে গত কয়েক বছরের বহু অজানা তথ্য সামনে চলে আসতে পারে। আর সে কারণেই বর্তমানে কিছু কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ ছড়িয়ে দিয়ে ভিন্নখাতে আলোচনার মোড় ঘোরানোর চেষ্টা চলছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।

 

বোরির ভেতরের একাধিক সূত্রের দাবি, বর্তমানে যেসব গুরুতর অভিযোগ বিভিন্ন মহলে প্রচার করা হচ্ছে, তার অনেকগুলোর সঙ্গেই কোনো প্রামাণ্য তদন্ত প্রতিবেদন, নিরীক্ষা প্রতিবেদন কিংবা আদালতের সিদ্ধান্ত যুক্ত নেই। বরং দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত টেন্ডার কার্যক্রম, প্রকল্প ব্যয়, যানবাহন ব্যবহার, জ্বালানি খরচ, বিল-ভাউচার অনুমোদন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে যেসব প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, সেগুলো আড়াল করতেই নতুন করে ‘দোষী খোঁজার অভিযান’ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, “যাদের বিরুদ্ধে প্রকৃত অনুসন্ধান হওয়া প্রয়োজন, তারাই এখন অন্যদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে নিজেদের দায়মুক্তির পথ তৈরি করতে চাইছে।”

 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফিফা আসিয়ান কাপে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হারের পরও বাংলাদেশ ফুটবল দলের উন্নতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারকা মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী।

‘হারলেও বড় অর্জনের পথেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ, ইনশাআল্লাহ’: হামজা চৌধুরী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৯ পূর্বাহ্ণ
[shared_counts]
‘হারলেও বড় অর্জনের পথেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ, ইনশাআল্লাহ’: হামজা চৌধুরী

অনলাইন ডেস্ক:

মাঠের সব যাত্রার মূল্যায়ন শুধু জয়-পরাজয়ের পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়। ফিফা আসিয়ান কাপে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারলেও জাতীয় দলের সার্বিক উন্নতি ও ইতিবাচক রূপান্তরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। ইংলিশ ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডের এই তারকার মতে, শক্ত প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়ে লাল-সবুজের দল এখন একটি বড় অর্জনের মজবুত ভিত্তি গড়ে তুলছে।

সোমবার ফিফাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হামজা জানান, জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর দেড় বছরের পথচলা ছিল শেখার এবং দলকে গভীরভাবে বোঝার একটি প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে এটি আমার জন্য অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা, আলহামদুলিল্লাহ। কঠিন সময় ও চড়াই-উতরাই পাড়ি দিতে হলেও দল হিসেবে আমরা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি। বাংলাদেশ দল সঠিক পথেই এগোচ্ছে এবং বড় কিছুর ভিত তৈরি হচ্ছে।”

শক্তিশালী দলের বিপক্ষে লড়াই ও ইতিবাচক ইঙ্গিত

চলতি টুর্নামেন্টে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার মতো শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলছে বাংলাদেশ। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের উদাহরণ টেনে হামজা উল্লেখ করেন, “আগের ম্যাচের চেয়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আমরা অনেক গুছিয়ে খেলেছি। মালয়েশিয়া র‍্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে ৪৫ ধাপ এগিয়ে থাকলেও মাঠের খেলায় সেই ব্যবধান বোঝা যায়নি। এটি প্রমাণ করে দল হিসেবে আমাদের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমার মনে হয় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ধাঁধার শেষ দুই-তিনটি টুকরো মেলানোই এখন বাকি। আশা করছি খুব দ্রুতই আমরা সেগুলো সঠিকভাবে গুছিয়ে নিতে পারব।”

সামনে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের বড় চ্যালেঞ্জ

আসন্ন নভেম্বরে দেশের মাটিতে বসতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের আসর ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ’। এই টুর্নামেন্টকে ঘিরেই নিজেদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে দল। হামজা বলেন, “নভেম্বরে ঘরের মাঠে আমাদের একটি বড় টুর্নামেন্ট রয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা সেই আসরের জন্যই দলগতভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং দেশের দর্শকদের ভালো কিছু উপহার দিতে আশাবাদী।”

ইন্দোনেশিয়া সফর ও পরবর্তী কঠিন পরীক্ষা

জাতীয় দলের হয়ে এই সফর হামজার জন্য নতুন অভিজ্ঞতাও বয়ে এনেছে। প্রথমবারের মতো ইন্দোনেশিয়া সফর নিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করে তিনি জানান, এখানকার মানুষ অত্যন্ত অমায়িক এবং পুরো পরিবেশ তিনি উপভোগ করছেন।

তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার চেয়েও এখন হামজার পুরো মনোযোগ মাঠের খেলায়। আগামী বৃহস্পতিবার আসিয়ানের শক্তিশালী দল ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলা তারকাদের নিয়ে গড়া ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিকে একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন হামজা। তাঁর ভাষ্য, “বিপুল স্বাগতিক দর্শকের উপস্থিতিতে ম্যাচটি হবে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তবে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলে নিজেদের যাচাই করে নেওয়া এবং শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

 

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ
[shared_counts]

দৈনিক ভোরের নতুন বার্তা

অবসরের আগমুহূর্তে প্রধান প্রকৌশলী হতে মরিয়া আবুল খায়ের: নেপথ্যে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
[shared_counts]
অবসরের আগমুহূর্তে প্রধান প্রকৌশলী হতে মরিয়া আবুল খায়ের: নেপথ্যে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:

চাকরির মেয়াদ বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। আগামী ১ অক্টোবর থেকেই শুরু হওয়ার কথা অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল)। অথচ এই অন্তিম সময়ে এসে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সর্বোচ্চ পদ ‘প্রধান প্রকৌশলী’ বাগিয়ে নিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন পরবর্তী অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে এবং বিপুল অর্থ ও তদবিরের জোরে তিনি পদটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমানে চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে সরাতে নানা কৌশল নিয়েছেন আবুল খায়ের। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে গণমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীকে বিতর্কিত করে নিজের পথ সুগম করার চেষ্টা করছেন তিনি।

রাজনৈতিক প্রভাব ও ‘মিস্টার ৫%’ তকমা

অভিযোগ রয়েছে, কর্মজীবনের শুরু থেকেই রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এই কর্মকর্তা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক সচিবের সুপারিশ ও দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে গোপালগঞ্জ জোনে দায়িত্ব নেন। সেখানে ক্ষমতাচ্যুত প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে পুরো অধিদপ্তরে প্রভাব বিস্তার করেন তিনি।

২০২০ সালে গোপালগঞ্জে সরকারি অর্থে ‘মুজিব কর্নার’ ও ‘বঙ্গবন্ধু গ্যালারি’ স্থাপন করে তোষামোদের রাজনীতিতেও এগিয়ে ছিলেন। বর্তমানে ঢাকা জোনে দায়িত্ব পালন করা আবুল খায়ের অধিদপ্তরে ‘মিস্টার ৫%’ নামেই পরিচিত। যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন কিংবা বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ হারে কমিশন নেওয়াকে তিনি অলিখিত নিয়মে রূপ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

যেখানে পোস্টিং, সেখানেই অনিয়ম

কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে টেন্ডার সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে:

চট্টগ্রামে শতকোটির হরিলুট: চট্টগ্রাম জোনে দায়িত্ব পালনকালে আগ্রাবাদ সিজিএস কলোনিতে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ৯টি ২০ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্পে (প্রায় ৪০০ কোটি টাকার কাজ) পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

নকশা পরিবর্তন ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের এ ঘটনায় দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে অনিয়মের সত্যতা মেলে।

কুমিল্লায় বিরোধ ও বদলি: কুমিল্লা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থাকাকালে টেন্ডার ও কমিশন বাণিজ্য নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি হলে তোপের মুখে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

গৃহায়নে জালিয়াতি: জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে থাকাকালীন প্লট ও ফ্ল্যাট বরাদ্দ এবং নকশা অনুমোদনে অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

রংপুরে বিলাসবহুল আয়োজন: ক্ষমতার অপব্যবহারের নজির গড়েছেন রংপুর জোনেও। চলতি বছরের ২ জুন তার স্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শহরের একটি বিলাসবহুল হোটেলে স্থানীয় ঠিকাদার ও অধস্তনদের খরচে প্রায় ২০ লাখ টাকার একটি ‘সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’র আয়োজন করা হয়। সেখানকার ঠিকাদাররা তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছিলেন।

সম্পদের পাহাড় কমিশন বাণিজ্য ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আবুল খায়ের রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকার অভিজাত এলাকায় নিজের ও স্বজনদের নামে অন্তত ২৪টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, পূর্বাচল ও মোহাম্মদপুরে মূল্যবান প্লট এবং ময়মনসিংহে বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি ও খামারবাড়ি।

এসব অনিয়মের অভিযোগ এবং প্রধান প্রকৌশলী পদের জন্য তৎপরতার বিষয়ে জানতে মো. আবুল খায়েরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি

‘হারলেও বড় অর্জনের পথেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ, ইনশাআল্লাহ’: হামজা চৌধুরী অবসরের আগমুহূর্তে প্রধান প্রকৌশলী হতে মরিয়া আবুল খায়ের: নেপথ্যে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশলীর প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন, নানা অনিয়মের অভিযোগ স্বজনের বিয়েতে যেতে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবিএকই পরিবারের নিখোঁজ ৫জনের মধ্যে ১নারীর মরদেহ উদ্ধার  দাউদকান্দি জিংলাতলীতে অসহায় বৃদ্ধার ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ দাউদকান্দিতে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি: নগদ ৪ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতি ও ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ আওয়ামী লীগের রাজনীতি কোনো ইনডোর গেম নয়: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আবদুস সবুর গণপূর্তের আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে ডেভেলপার ব্যবসা ও অনিয়মের অভিযোগ দুদকে গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ তামজিদ হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ। বরিশাল গণপূর্তে ‘আওয়ামী দোসর’ ফয়সালের রাজত্ব: অপকর্মের পাহাড় সত্ত্বেও বহাল তবিয়তে! এক হাতে গাছের চারা, অন্য হাতে লাল কার্ড উঁচিয়ে মাদককে ‘না’ বলে শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমের  কাজ না করেই ৫ কোটি টাকার বিল সাবাড়: পাবনা গণপূর্তে প্রকৌশলী রাশেদ কবীরের জালিয়াতি অদৃশ্য নেটওয়ার্ক ও ছায়া পার্টনারশিপ গণপূর্তের প্রকৌশলীদের সিন্ডিকেট বাণিজ্য দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের পুকুরের মাছ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি বিধি ভেঙে ফ্ল্যাট ব্যবসা গণপূর্তের আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দুর্নীতি ও জালিয়াত চক্রের মাধ্যমে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তোলার অভিযোগ গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে গণপূর্তের ইএম জোনে বসতে কোটি টাকার চিঠি কিনলেন আলমগীর খান! চাঁদা না পেয়ে চরের ঘাসে বিষ: অসুস্থ ৩০ মহিষ, মারা গেছে তিনটি মহাসড়কে মাদক পাচার রোধে কড়া নজরদারি: দাউদকান্দিতে ওসি সাজেদুলের নেতৃত্বে একাধিক চালান জব্দ সৌদি তরুণের গুলিতে বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত, তিন তিন বারের নির্বাচিত সাবেক সফল চেয়ারম্যানের ছোট ভাই আমেরিকা প্রবাসি সাহনেওয়াজ সরকার সানুর চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা প্রতিদিনের কাগজের ফেসবুক পেজ হ্যাক ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে আনিসুর রহমান কারাগারে মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতিবাজ দুই কর্মকর্তা কর্মচারীর হাতে জিম্মি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ দেবিদ্বারে মাদরাসার দেয়াল ধসে শিক্ষার্থী নিহত: বিচারের অপেক্ষায় হাফেজ সিফাতের পরিবার