খুঁজুন
সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ২১ বৈশাখ, ১৪৩৩

ঢাকা দুই সিটি মেয়রের প্রশ্রয়  লোপাট ৩ হাজার ২শ কোটি টাকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৪, ১:২৪ পূর্বাহ্ণ
ঢাকা দুই সিটি মেয়রের প্রশ্রয়  লোপাট ৩ হাজার ২শ কোটি টাকা

 

( মোঃ মাইনুল ইসলাম মহিন. নিজস্ব প্রতিবেদক: )

 

গত চার অর্থবছরে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়রের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে উন্নয়ন, পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে কমিশন বাবদ ৩২০০ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে।

 

এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে তৎকালীন মেয়র-কাউন্সিলর ও রাজনীতিবিদ এবং প্রকৌশলীসহ সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন ।

 

খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা গেছে, দরপত্রে অটোমেশন হলেও প্রতিটি কাজ ভাগবাটোয়ারা হতো মেয়রের নির্দেশে।

 

সমঝোতার ভিত্তিতে দরপত্রে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ পেয়েছে। এর বিনিময়ে তারা কমিশন হিসাবে সর্বনিম্ন ২৫ শতাংশ পর্যন্ত দিয়েছেন।

 

আর পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে কমিশন আদায় হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। বিপুল পরিমাণ এই টাকা গেছে অসাধু রাজনীতিবিদ ও শাসক দল সমর্থিত আমলাদের পকেটে।

 

আর এই সুযোগে নিম্নমানের কাজ এবং মালামাল সরবরাহ করে অঙ্কের মুনাফা নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে নগর পরিকল্পনাবিদ এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি)সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান দৈনিক ভোরের নতুন বার্তা কে বলেন,

 

বিগত সরকারের সময় সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার দরপত্র ভাগাভাগি এবং কমিশন বাণিজ্যের কথা সবাই জানত। তবে এসব নিয়ে কেউ প্রশ্ন করার সাহস পেতেন না।

 

তিনি বলেন, গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অসীম ত্যাগের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি আমরা। বিগত সময়ে অনিয়ম, দুর্নীতির নির্মোহ তদন্ত হতে হবে। তাহলে প্রকৃত কারণগুলো বেরিয়ে আসবে।

 

এতে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা যাবে এবং দুর্নীতির উৎস বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির একাধিক প্রকৌশলী, কর্মকর্তা ও ঠিকাদার জানান, উন্নয়ন কাজের দরপত্রের চেয়ে পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে দুর্নীতি বেশি।

 

বিশেষ করে গাড়ির জ্বালানি, মশার ওষুধ ক্রয়, কচুরিপানা পরিষ্কার, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কাজে লুটপাট বেশি হয়েছে। বছরের পর বছর এই ধারা চললেও তা কেউ ভাঙেনি। অবৈধ টাকার জোরে অসাধু চক্র ধরাকে সরাজ্ঞান করেন।

 

এমনো ঘটনা রয়েছে, একজন সৎ কর্মকর্তার এখানে পোস্টিং হওয়ার পর অসাধু চক্রের প্রলোভনে তিনিও দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।ঢাকা উত্তর সিটির কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও প্রকৌশলীরা জানান, বিগত মেয়রের চার বছরে সংস্থার অনেক ক্ষেত্রে উন্নতি হলেও দরপত্রে ভয়াবহ দুর্নীতি হয়েছে।

 

টাকা ছাড়া কোনো কাজ পাওয়া যায়নি। মেয়রের ঘনিষ্ঠরা এসব বাণিজ্য করেছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের জন্য এটা করতে হচ্ছে এমন কথা বলতে শোনা গেছে। বিনা টাকায় কোনো ঠিকাদার কোনো কাজ পাননি বলে তারা জানিয়েছেন।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ২০২০-২০২১ অর্থবছরে দায়িত্ব গ্রহণকরেন। এরপর ২০২১-২০২২, ২০২২-২০২৩ এবং ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের বাজেটের কাজ বাস্তবায়ন করেছেন।

 

সবশেষ ২০২৪-২০২৫ সালের বাজেটও ঘোষণা করেন। এই সময়ে উন্নয়ন খাতে ৭ হাজার ২৫১ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এখান থেকে লোপাট হয়েছে ১ হাজার ৮২২ কোটি টাকা। আর পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে খরচ হয়েছে ৮৬৫ কোটি টাকা।

 

এখানে দুর্র্নীতিবাজ চক্র হাতিয়ে নিয়েছেন ৩০৯ কোটি টাকা। কমিশন বাণিজ্যে সরকারের সর্বমোট ক্ষতি হয়েছে অন্তত ২ হাজার১৩১ কোটি টাকা। একই অবস্থা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনেও (ডিএনসিসি)। মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম ২০২০-২০২১ অর্থবছরে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

 

এরপর ২০২১-২০২২, ২০২২-২০২৩ এবং ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের বাজেটের বাস্তবায়ন করেছে। সবশেষ ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণাও করেন। গত চার বছরে উন্নয়ন খাতে খরচ করেছে ৩ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা। এখানে লোপাট হয়েছে ৮৭৩ কোটি টাকা।

 

পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে খরচ হয়েছে ৫৭৮ কোটি টাকা। আর এখানে কমিশন বাবদ দুর্নীতিবাজ চক্রহাতিয়ে নিয়েছে ২৩০ কোটি টাকা। তবে ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের ফলে দেশে বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় দুই মেয়র বরখাস্ত হয়েছেন।

 

তারা এখন পলাতক রয়েছেন।সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে মেয়র তাপসের নির্দেশে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাজ দিতেন প্রকৌশলীরা। নামে ই-টেন্ডারিং হলেও বাস্তবে মেয়রের নির্দেশেই সবকিছু হতো।

 

রাজনৈতিক বিবেচনায় কাজ ভাগবাটোয়ারা করলেও মেয়র এসব কাজ থেকে কোনো কমিশন নিতেন না। যিনি কাজ পেতেন তিনি নিজে পেশাদার ব্যবসায়ী না হওয়ায় ১০ ভাগ কমিশন নিয়ে তা অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছেন। ওই কাজগুলো দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা অন্য ঠিকাদারদের সমন্বয় করে দেওয়া বাবদ ২ ভাগ কমিশন নিয়েছেন।

 

আর বাকি ১৩ভাগ কমিশন দিতে হয়েছে উপসহকারী প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সচিব, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, কাউন্সিলর এবং হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

 

তবে ওই সময়ে দায়িত্ব পালন করা প্রধান প্রকৌশলী কমিশন নিতেন না। এছাড়া কাজ পাওয়া এবং বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত বেশির ভাগ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কমিশন নিয়েছেন বলে জানা যায়। মেয়রের নির্দেশে কাজ ভাগাভাগি হওয়ার কারণে দক্ষিণ সিটির অধিকাংশ দরপত্রে কোনো প্রতিযোগিতা হয়নি।

 

সমঝোতার ভিত্তিতে অনেক দরপত্রে ঠিকাদাররা অংশ নিতেন বলে জানা যায়।

একই অবস্থা বিরাজমান ছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনেও।

 

গুটিকয়েক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঘুরেফিরে কাজ পেত সেখানে। বিভিন্ন রাজনৈতিক চাপের কাছে কাবু ছিলেন তৎকালীন মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

 

সংশ্লিষ্টদের খুশি করতে তার নির্দেশে গোপন দর ফাঁস করে কাজ পাইয়ে দেওয়া হতো। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরাও এসব ক্ষেত্রে অসহায়বোধ করতেন।

 

তবে অধিকাংশই এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খুশিমনে কমিশন বাণিজ্য করেছেন। রাজনৈতিক কাজগুলো মূলত মেয়রের নামে চলেছে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের এবং রাজনৈতিক দলের বিভিন্নপর্যায়ের সন্তুষ্টি অর্জনের পেছনে শত শত কোটি টাকার কাজ ভাগবাটোয়ারা হয়েছে ঢাকা উত্তরে।

 

রাজনৈতিক বিবেচনায় কাজ পাওয়া ব্যক্তিরা ঠিকাদারদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ ভাগ কমিশন আদায় করতেন। ক্ষেত্রবিশেষে আরও বেশি।

 

আর বাকি কমিশন কাউন্সিলর থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, প্রকৌশলীরা নিয়েছেন। তবে ঢাকা উত্তর সিটির বেশ কয়েকজন প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা ছিলেন; যারা মেয়রের নির্দেশে কাজ করলেও কোনো কমিশন নিতেন না।

 

কর্তৃপক্ষের অভিমত : এ প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান দৈনিক ভোরের নতুন বার্তাকে বলেন, অডিট আপত্তি বা সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না পেলে পুরাতন ঘটনার তদন্ত করছেন না তারা।

 

তবে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পেলে তখন সেসব বিষয় তদন্ত করে দেখবে বলে জানান। এছাড়া দুর্নীতির ঘটনাগুলো তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উদ্যোগী হওয়া দরকার বলে অভিমত তার।

 

এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করবেন তারা।এ বিষয়ে জানতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা (এসএসএম) পাঠালেও কোনো সাড়া মেলেনি।

বিনোদন ভিডিও সংবাদ

তারিখ দিয়ে সংবাদ খুজুন

সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

গণপূর্তের প্রকৌশলী তৈমুর আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়: নেপথ্যে ভাই ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ
গণপূর্তের প্রকৌশলী তৈমুর আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়: নেপথ্যে ভাই ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢাকা রাজধানীর গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল–মেকানিক্যাল (ই/এম) সার্কেল–৪–এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. তৈমুর আলমকে ঘিরে একের পর এক দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে থেকে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা, দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো এবং কোটি কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এসব অনিয়মের নেপথ্যে তার আপন ছোট ভাইয়ের সম্পৃক্ততার দাবিও তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

সিন্ডিকেটের কবজায় বড় প্রকল্প

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ই/এম সার্কেল–৪–এর অধীনে পরিচালিত অধিকাংশ বড় প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে পেয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৌশলী তৈমুর আলম তার প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে দরপত্রের শর্তাবলি এমনভাবে সাজাতেন যাতে তার পছন্দের বাইরে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারে। নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে তিনি মোটা অঙ্কের কমিশন নিতেন বলে দপ্তরের ভেতরেই গুঞ্জন রয়েছে।

 

ভাইয়ের প্রভাব ও পারিবারিক সম্পৃক্ততা

তৈমুর আলমের দুর্নীতির বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে তার পরিবারের সদস্যদের নাম। বিশেষ করে তার ছোট ভাই অংকুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, ভাইয়ের প্রশাসনিক পদমর্যাদাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করতেন। অনেক ক্ষেত্রে অংকুরই ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর মধ্যে ‘মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে কাজ করতেন বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

একই স্থানে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান

সরকারি বদলি নীতিকে তোয়াক্কা না করে তৈমুর আলম ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। বছরের পর বছর একই এলাকায় দায়িত্বে থাকায় তিনি একটি দুর্ভেদ্য প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন, যা তাকে অনিয়ম চালিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আদালতে মামলা ও আইনি জটিলতা

তৈমুর আলমের বিরুদ্ধে কেবল প্রশাসনিক অভিযোগই নয়, বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। প্রাপ্ত নথিতে দেখা যায়, ঢাকার একটি আদালতে (সিআর মামলা নং–১১৮/২০২৫) সরকারি তহবিল তছরুপ, প্রকল্প বরাদ্দে অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন পর্যায়ে রয়েছে।

বক্তব্য ও প্রশাসনিক অবস্থান

অভিযোগের বিষয়ে মো. তৈমুর আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং প্রশাসনিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। তাদের মতে, কোনো অভিযোগই এখন পর্যন্ত বিচারিক বা দাপ্তরিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।

অন্যদিকে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের অভিমত

বিশেষজ্ঞদের মতে, গণপূর্তের মতো সংস্থায় এ ধরনের সিন্ডিকেট রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ঘটায়। তারা মনে করেন, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ফেরাতে এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।

দেখ নিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের নাম

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা ও তাদের শাসনকাল নিচে দেওয়া হলো। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং পরবর্তীতে ২০২৬ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের পূর্ণ তালিকা (১৯৭২–বর্তমান)

বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে একাধিক প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের নাম ও তাঁদের দায়িত্ব পালনের সময়কাল ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো।


বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা

ক্র. নংপ্রধানমন্ত্রীর নামদায়িত্ব গ্রহণদায়িত্ব সমাপ্তি
তাজউদ্দীন আহমদ১২ জানুয়ারি ১৯৭২১২ মার্চ ১৯৭২
শেখ মুজিবুর রহমান১২ জানুয়ারি ১৯৭২২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫
মুহাম্মদ মনসুর আলী২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫১৫ আগস্ট ১৯৭৫
আতাউর রহমান খান১০ জুলাই ১৯৮৪২৭ মার্চ ১৯৮৬
মিজানুর রহমান চৌধুরী২৭ মার্চ ১৯৮৬৬ মে ১৯৮৬
মৌদুদ আহমদ৬ মে ১৯৮৬৮ জুলাই ১৯৮৬
কাজী জাফর আহমেদ১৫ মার্চ ১৯৮৯৬ ডিসেম্বর ১৯৯০
খালেদা জিয়া২০ মার্চ ১৯৯১৩০ মার্চ ১৯৯৬
হাবিবুর রহমান*৩০ মার্চ ১৯৯৬২৩ জুন ১৯৯৬
১০শেখ হাসিনা২৩ জুন ১৯৯৬১৫ জুলাই ২০০১
১১লতিফুর রহমান*১৫ জুলাই ২০০১১০ অক্টোবর ২০০১
১২খালেদা জিয়া১০ অক্টোবর ২০০১২৯ অক্টোবর ২০০৬
১৩ফখরুদ্দীন আহমদ*১২ জানুয়ারি ২০০৭৬ জানুয়ারি ২০০৯
১৪শেখ হাসিনা৬ জানুয়ারি ২০০৯বর্তমান

১৫. তারেক রহমান (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – বর্তমান)

বিএনপি চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য

* তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টারা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। যদিও তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না, বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় তাঁদের ভূমিকা ছিল প্রধানমন্ত্রীর সমতুল্য।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রতিটি প্রধানমন্ত্রীর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতা-পরবর্তী পুনর্গঠন থেকে শুরু করে আধুনিক উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় তাঁদের নেতৃত্ব উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর পদ সবসময়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরো পড়ুন:

 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, list of Bangladeshi Government, Bangladesh government name, বালাদেশের সরকারের তালিকা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের সময়কাল

গৃহায়ণে তাবেদুন সিন্ডিকেটের লুটপাট (৩য় পর্ব)

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
গৃহায়ণে তাবেদুন সিন্ডিকেটের লুটপাট (৩য় পর্ব)

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দ্বিতীয় পর্বে উন্মোচিত হয়েছিল মিরপুরকেন্দ্রিক দুর্নীতির বিস্তৃত জাল, যেখানে নির্বাহী প্রকৌশলী জোয়ারদার তাবেদুন নবী গড়ে তুলেছিলেন একটি ‘প্যারালাল প্রশাসন’। তৃতীয় পর্বের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে আরও গভীর ও বিস্তৃত সেই অন্ধকার নেটওয়ার্ক যেখানে শুধু একটি প্রকল্প নয়, বরং একাধিক সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পকে ব্যবহার করা হয়েছে ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে।

 

নথিপত্র বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তাবেদুন নবীর প্রভাব বলয় ছড়িয়ে ছিল রাজধানীর বাইরেও। বিশেষ করে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের অধীনে চলমান কয়েকটি আবাসন প্রকল্পে একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা গেছে। জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে প্লট বরাদ্দ, ঠিকাদারি নিয়োগ, এমনকি নির্মাণ সামগ্রীর মান নির্ধারণ সবকিছুতেই ছিল একটি সুসংগঠিত ‘কমিশন বাণিজ্য’।

 

অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিতে দরপত্র প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রভাবিত করা হতো। টেন্ডার ডকুমেন্ট এমনভাবে সাজানো হতো যাতে ‘পছন্দের’ প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কেউ যোগ্যতা অর্জন করতে না পারে। এর বিনিময়ে কোটি কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার, যারা পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক।

 

এই সিন্ডিকেটের আরেকটি ভয়ংকর দিক হলো ‘ফাইল বাণিজ্য’। একটি ফাইল সচল রাখা, অনুমোদন দেওয়া কিংবা আটকে রাখার জন্য নির্ধারিত ছিল আলাদা আলাদা রেট। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ঘুষ দিতে ব্যর্থ হলে তাদের প্রকল্প ফাইল বছরের পর বছর ঝুলে থাকত, অথচ একই সময়ে ঘুষ প্রদানকারীদের ফাইল অস্বাভাবিক দ্রুততায় অনুমোদন পেত।

 

তদন্তে উঠে এসেছে, তাবেদুন নবীর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা এবং দালাল শ্রেণির মধ্যস্থতাকারী এই পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করতেন। তারা সরাসরি অর্থ লেনদেন না করলেও ‘বিশ্বস্ত চ্যানেল’ হিসেবে কাজ করতেন। নগদ টাকা, মোবাইল ব্যাংকিং এবং বিদেশে অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে হুন্ডি ব্যবস্থার ব্যবহার ছিল নিয়মিত।

 

আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিল কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ আমলা, যারা নেপথ্যে থেকে তাবেদুন নবীকে ‘সুরক্ষা বলয়’ প্রদান করতেন। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো বারবার তদন্তের আগেই চাপা পড়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকাও দীর্ঘ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগ করে প্রতারিত হয়েছেন হাজারো মধ্যবিত্ত পরিবার। কেউ জমির কাগজ পাচ্ছেন না, কেউ আবার নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় বছরের পর বছর ভাড়া বাসায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা রেখে বিনিয়োগ করলেও শেষ পর্যন্ত তারা পড়েছেন এক দুর্নীতির ফাঁদে।

 

তৃতীয় পর্বের অনুসন্ধান বলছে, তাবেদুন সিন্ডিকেটের এই নেটওয়ার্ক এখনও সক্রিয়, এবং প্রভাব বিস্তার করছে নতুন নতুন প্রকল্পে।

 

চলবে…

গণপূর্তের প্রকৌশলী তৈমুর আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়: নেপথ্যে ভাই ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা গৃহায়ণে তাবেদুন সিন্ডিকেটের লুটপাট (৩য় পর্ব) গণমাধ্যম সপ্তাহে দাউদকান্দিতে বর্ণাঢ্য শুভযাত্রা ও বৃক্ষরোপণ গৃহায়ণে তাবেদুন সিন্ডিকেটের লুটপাট (২য় পর্ব) ২০২৬ সালের ঈদুল আযহা কবে? তারিখ, তাৎপর্য এবং প্রস্তুতির পূর্ণাঙ্গ গাইড দ্রুত ওজন কমানোর ১০টি বৈজ্ঞানিক ও কার্যকর উপায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা, খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা গণপূর্ত প্রকৌশলী তাবেদুন সিন্ডিকেটের কোটি টাকা লুটপাট, ১ম পর্ব পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই ইরানের জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে   ভণ্ড পীরের আস্তানা: শামীম রেজা সীতাকুণ্ডে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে খুন রূপগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ‘খারা মোশাররফ’র নেতৃত্বে হামলা: ১৮ লাখ টাকার সরঞ্জাম লুট দাউদকান্দিতে জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা প্রাণনাশের শঙ্কায় সাংবাদিক শরিফুল হোমনায় তিতাস নদী থেকে নারীর ভাসমান লাশ উদ্ধার দাউদকান্দিতে প্রবাসী কল্যাণ সংগঠনের উদ্যোগে ঈদে গরুর মাংস বিতরণ রিয়াদে প্রবাসী অপহরণ: ‘রনি গ্রুপ’-এর নির্যাতনে সর্বস্বান্ত সানা-উল্লাহ, মামলা দায়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইমারত পরিদর্শক উজ্জ্বল চন্দ্র দেব এর রঙ্গলীলা – পর্ব ১ “ উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) মাসুম বিল্লাহ। বর্তমানে কর্মরত শের-ই-বাংলা নগর ৩নং গণপূর্ত উপবিভাগের এসডিই হিসাবে দাউদকান্দি উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান শাহীন পুনর্বহাল রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে চট্টগ্রামে বেস্ট ফ্লাই ও বঙ্গনিউজের ইফতার আয়োজন ভারত থেকে ৫ হাজার টন ডিজেল আসছে আজ খালেদা জিয়াকে নিয়ে অশালীন বক্তব্য, পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ৫ দৈনিক “প্রতিদিনের কাগজ” ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন: ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের তদন্ত প্রতিবেদনে নিশ্চিত দাউদকান্দিতে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়া করে ১১ লাখ টাকা আত্মসাৎ: প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সম্মানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিল