খুঁজুন
সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ২১ বৈশাখ, ১৪৩৩

আন্দোলন আর বিভীষিকার মাঝেও কিছু দৃষ্টান্ত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ আগস্ট, ২০২৪, ১০:২৩ অপরাহ্ণ
আন্দোলন আর বিভীষিকার মাঝেও কিছু দৃষ্টান্ত

 

সাঈদুর রহমান রিমন

আন্দোলনকারী ছাত্রদের সঙ্গে প্রতিহিংসা মুক্ত সম্পর্ক বজায় রাখার কারণেই ডিএমপির দক্ষিণখান থানায় একটা ঢিলও পড়েনি। কোনো পুলিশ সদস্য সেখানে আক্রমণের শিকারও হননি। এখন পর্যন্ত সেখানে সাভাবিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে, ছাত্র-জনতাসহ সকল শ্রেণির বাসিন্দাদের সঙ্গে বিদ্যমান আছে চমৎকার সম্পর্ক।ব্যতিক্রম এ দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে দক্ষিণখান থানার সদ্য বিদায়ী ওসি শেখ আমিনুল বাসারের কারণে। সেখানে ১ আগস্ট থেকে যোগদানকারী ওসি আশিকুর রহমানসহ থানার পুলিশ সদস্যরা সবাই সে সুবিধা ভোগ করতে পেরে বেজায় খুশি।

অথচ আন্দোলনকারীদের ওপর দমনপীড়ন না চালানোর অভিযোগ তুলেই দৃষ্টান্ত সৃষ্টিকারী ওসি শেখ বাশারকে প্রত্যাহার করার ঘটনা ঘটে। ডিএমপি কমিশনার গত ৩১ আগস্ট এক নির্দেশে শেখ বাশারকে প্রত্যাহার করে তার স্থলে মো. আশিকুর রহমানকে ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেন।থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যরা জানান, জুলাই মাস জুড়ে চলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে কোনো রকম হিংসাত্মক আচরণের পরিবর্তে সমঝোতার সম্পর্ক বজায় রাখেন ওসি শেখ বাশার। তিনি আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের হামলা, ভাঙচুর, বিশৃংখলা থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হন। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের আক্রমণাত্মক ভূমিকা গ্রহণের ব্যাপারে কৌশলে বিরত রাখেন। সেখানে অযথা ধর পাকড়, হয়রানিও চালানোর নজির নেই।আন্দোলনকারীদের ওপর কঠোর না হওয়ার কারণেই ওসি শেখ বাশারকে ৩১ জুলাই প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু পরবর্তী চারদিনের আন্দোলনেও দক্ষিণখান থানার পুলিশ সদস্যরা একই ভূমিকা অব্যাহত রাখায় সেখানে কোনো ধরনের প্রতিহিংসার ছোঁয়া পড়েনি। ৫ আগস্ট ডিএমপির সকল থানা, ফাঁড়িসহ পুলিশের সকল স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটলেও একটা ঢিল পড়েনি দক্ষিণখান থানায়।সিলেটের পাবক পাল শান্ত নামে একজন কনস্টেবল গুলিতে রক্তাক্ত এক ছাত্রকে যেভাবে বুকে জড়িয়ে হাসপাতালে নিয়ে যান সে দৃশ্য সবার চোখ ভিজিয়েছে। ভালোবাসার সে এক অনন্য নজির।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চূড়ান্ত দিন ৫ আগস্ট এবং পরদিন ৬ আগস্ট পর্যন্ত সময়টা ডিএমপি পুলিশের জন্য ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর। এ সময়টুকুতে কয়েক’শ পুলিশ সদস্যের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়। যখন সবাই ছিল আক্রোশের মুখে পলায়নপর অবস্থায় তখনও একজন সিআইডি কর্মকর্তা তার টিম সদস্যদের নিয়ে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেনতার নিজের বক্তব্যেই জেনে নেওয়া যাক দুঃসাহসিক দুটি ঘটনা। আসসালামু আলাইকুম, আমি পুলিশ পরিদর্শক মো. জাহিদুল ইসলাম গত ৬ আগস্ট রাত সাড়ে ১২টায় আমার পরিচিত একজন সাব ইন্সপেক্টর ফোন করে জানান, মোহাম্মদপুর থানার ছাদে বেশ কিছু পুলিশ আটকা পড়ে আর্তচিৎকার করছে। থানার নিচে দুষ্কৃতকারীরা আগুন দিয়েছে। সংবাদ পেয়ে মোহাম্মদপুর পৌঁছে স্থানীয় লোকদের সহযোগিতা নিয়ে দুষ্কৃতকারীদের হটিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করি। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আসবাবগুলো চরম ঝুঁকি নিয়ে ছুড়ে ফেলি বাইরে। এরপর আটকে থাকা বিপদগ্রস্ত পুলিশ সদস্যদের নামিয়েআনি ছাদ থেকে। এরপর তাদের নিরাপদে চলে যাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করি। যার কারণে অন্য থানার মতো লাশের স্তূপ হয়নি মোহাম্মদপুরে।

এসব কাজ সম্পন্ন করে রাত চারটা বেজে যায়, এরপর এক আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে ঘুমাই। ৭ জুলাই সকালে উঠেই জানতে পারি, যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ১২-১৩ জন পুলিশের লাশ পড়ে আছে, দুই দিনেও লাশগুলো কেউ সরিয়ে নিচ্ছে না। তখন আমি প্রথমে সিআইডি অফিসে যাই, কাউকে না পেয়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইনের গেটে যাই। সেখানে অনেক অনুনয় বিনয়ের পরেঅনুমতি মিলে যে, আমি লাশগুলো আনতে পারলে তারা গ্রহণ করবে। কিন্তু লাশ আনার জন্য কেউ আমার সঙ্গে যেতে পারবে না। তখন দোয়া-কালাম যা জানতাম তা পড়তে পড়তে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে গেলাম। গিয়ে দেখি ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষের অবস্থান সেখানে। সেখানে পড়ে থাকা লাশের পাশে গিয়ে সাধারণ দর্শক হিসেবে লোকজনের সঙ্গে কথা বললাম। তখন পর্যন্ত মানুষের ক্ষোভের চরম বহিঃপ্রকাশ দেখলাম। তখন বুঝলাম, যদি তারা জানতে পারে আমি পুলিশ, তাহলে আমিও মুহূর্তেই মারা পড়বো, এই লাশগুলোর পাশে আরেকটা লাশে পরিণত হব। প্রতিটা মুহূর্ত ছিল আমার জন্য জীবনের শেষ মুহূর্ত, যেটা বলে বোঝানো যাবে না।সাধারণ মানুষ হিসেবেই প্রথমে কয়েকজনের মাঝে কৌশলে জনমত সৃষ্টি করি এবং দুই ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষার পর ৮ জন পুলিশ সদস্যের লাশ সারিবদ্ধ করে রাখার সুযোগ পাই। প্রতিটি লাশ ছিল নির্মমভাবে থেতলে ফেলা, রক্তাক্ত এবং ফুলেফেঁপে বিভৎস আকার ধারণ করা। একপর্যায়ে ট্রাক ভাড়া করে তড়িৎ গতিতে সহকর্মী ভাইদের লাশগুলো ট্রাকে তুলে রাজারবাগ গেটের দিকে রওনা হই।

ট্রাক স্টার্ট দিয়ে রওনা হওয়া পর্যন্ত আমি কে, লাশ কোথায় নেবো, কিংবা লাশের গাড়িতে কে যাবে, কেন যাবে, এসবের কোনো কিছু কাউকে বুঝে ওঠার সুযোগ পর্যন্ত দেইনি। অথচ সেখানেউপস্থিত মানুষজনকে সঙ্গে নিয়েই লাশগুলো একত্রিত করেছি, গাড়িতে উঠিয়েছি। শুধু লাশবাহী ট্রাকটি ছুটতে শুরু করতেই আমি চোখের পলকে ট্রাকের বাম পাশের সিটে উঠে দরজাটা লাগিয়েছি, মুখে চালককে বলেছি ফুল স্পিডে চালাও গাড়ি। তখন খেয়াল করি যে, আমার পুরো দেহটা কাপছে।আমি যখন লাশগুলো নিয়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইন গেটে আসি, তখন দেখতে পাই আরেক আতঙ্কের ঘটনা। দেখতে পাই পুলিশের বেশ কিছু সদস্য সশস্ত্র প্রস্তুতি নিয়ে ক্ষুব্ধ অবস্থায় যাত্রাবাড়ী যাওয়ার জন্য রাজারবাগ এক নম্বর গেটে অবস্থান করছে। আমি যদি যথা সময়ে লাশ নিয়ে না আসতে পারতাম, তাহলে এরা গুলি করতে করতে যাত্রাবাড়ী যেত। ফলে আবার রক্তক্ষয়ী সংঘাত বাধতো, আবার বহু লোকের প্রাণহানি ঘটতে পারতো। এক সময় গুলি শেষ হয়ে গেলে ওই পুলিশ সদস্যরাও হয়তো কেউ আর প্রাণ নিয়ে ফিরে আসতে পারতো না। আল্লাহ আমাকে উছিলা করে হয়তো আমাদের সব ভাইকে রক্ষা করেছেন।আমি জীবনে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেছি, তবে আজকের ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সঙ্গে আগের কোনো ঝুঁকির তুলনা করতে পারছি না

বিনোদন ভিডিও সংবাদ

তারিখ দিয়ে সংবাদ খুজুন

সোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনিরবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

গণপূর্তের প্রকৌশলী তৈমুর আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়: নেপথ্যে ভাই ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ
গণপূর্তের প্রকৌশলী তৈমুর আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়: নেপথ্যে ভাই ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢাকা রাজধানীর গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল–মেকানিক্যাল (ই/এম) সার্কেল–৪–এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. তৈমুর আলমকে ঘিরে একের পর এক দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে থেকে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা, দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো এবং কোটি কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এসব অনিয়মের নেপথ্যে তার আপন ছোট ভাইয়ের সম্পৃক্ততার দাবিও তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

সিন্ডিকেটের কবজায় বড় প্রকল্প

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ই/এম সার্কেল–৪–এর অধীনে পরিচালিত অধিকাংশ বড় প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে পেয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৌশলী তৈমুর আলম তার প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে দরপত্রের শর্তাবলি এমনভাবে সাজাতেন যাতে তার পছন্দের বাইরে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারে। নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে তিনি মোটা অঙ্কের কমিশন নিতেন বলে দপ্তরের ভেতরেই গুঞ্জন রয়েছে।

 

ভাইয়ের প্রভাব ও পারিবারিক সম্পৃক্ততা

তৈমুর আলমের দুর্নীতির বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে তার পরিবারের সদস্যদের নাম। বিশেষ করে তার ছোট ভাই অংকুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, ভাইয়ের প্রশাসনিক পদমর্যাদাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করতেন। অনেক ক্ষেত্রে অংকুরই ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর মধ্যে ‘মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে কাজ করতেন বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

একই স্থানে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান

সরকারি বদলি নীতিকে তোয়াক্কা না করে তৈমুর আলম ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। বছরের পর বছর একই এলাকায় দায়িত্বে থাকায় তিনি একটি দুর্ভেদ্য প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন, যা তাকে অনিয়ম চালিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আদালতে মামলা ও আইনি জটিলতা

তৈমুর আলমের বিরুদ্ধে কেবল প্রশাসনিক অভিযোগই নয়, বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। প্রাপ্ত নথিতে দেখা যায়, ঢাকার একটি আদালতে (সিআর মামলা নং–১১৮/২০২৫) সরকারি তহবিল তছরুপ, প্রকল্প বরাদ্দে অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন পর্যায়ে রয়েছে।

বক্তব্য ও প্রশাসনিক অবস্থান

অভিযোগের বিষয়ে মো. তৈমুর আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং প্রশাসনিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। তাদের মতে, কোনো অভিযোগই এখন পর্যন্ত বিচারিক বা দাপ্তরিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।

অন্যদিকে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের অভিমত

বিশেষজ্ঞদের মতে, গণপূর্তের মতো সংস্থায় এ ধরনের সিন্ডিকেট রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ঘটায়। তারা মনে করেন, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ফেরাতে এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।

দেখ নিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের নাম

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা ও তাদের শাসনকাল নিচে দেওয়া হলো। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং পরবর্তীতে ২০২৬ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের পূর্ণ তালিকা (১৯৭২–বর্তমান)

বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে একাধিক প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের নাম ও তাঁদের দায়িত্ব পালনের সময়কাল ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো।


বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা

ক্র. নংপ্রধানমন্ত্রীর নামদায়িত্ব গ্রহণদায়িত্ব সমাপ্তি
তাজউদ্দীন আহমদ১২ জানুয়ারি ১৯৭২১২ মার্চ ১৯৭২
শেখ মুজিবুর রহমান১২ জানুয়ারি ১৯৭২২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫
মুহাম্মদ মনসুর আলী২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫১৫ আগস্ট ১৯৭৫
আতাউর রহমান খান১০ জুলাই ১৯৮৪২৭ মার্চ ১৯৮৬
মিজানুর রহমান চৌধুরী২৭ মার্চ ১৯৮৬৬ মে ১৯৮৬
মৌদুদ আহমদ৬ মে ১৯৮৬৮ জুলাই ১৯৮৬
কাজী জাফর আহমেদ১৫ মার্চ ১৯৮৯৬ ডিসেম্বর ১৯৯০
খালেদা জিয়া২০ মার্চ ১৯৯১৩০ মার্চ ১৯৯৬
হাবিবুর রহমান*৩০ মার্চ ১৯৯৬২৩ জুন ১৯৯৬
১০শেখ হাসিনা২৩ জুন ১৯৯৬১৫ জুলাই ২০০১
১১লতিফুর রহমান*১৫ জুলাই ২০০১১০ অক্টোবর ২০০১
১২খালেদা জিয়া১০ অক্টোবর ২০০১২৯ অক্টোবর ২০০৬
১৩ফখরুদ্দীন আহমদ*১২ জানুয়ারি ২০০৭৬ জানুয়ারি ২০০৯
১৪শেখ হাসিনা৬ জানুয়ারি ২০০৯বর্তমান

১৫. তারেক রহমান (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – বর্তমান)

বিএনপি চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য

* তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টারা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। যদিও তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না, বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় তাঁদের ভূমিকা ছিল প্রধানমন্ত্রীর সমতুল্য।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রতিটি প্রধানমন্ত্রীর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতা-পরবর্তী পুনর্গঠন থেকে শুরু করে আধুনিক উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় তাঁদের নেতৃত্ব উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর পদ সবসময়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরো পড়ুন:

 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, list of Bangladeshi Government, Bangladesh government name, বালাদেশের সরকারের তালিকা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের সময়কাল

গৃহায়ণে তাবেদুন সিন্ডিকেটের লুটপাট (৩য় পর্ব)

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
গৃহায়ণে তাবেদুন সিন্ডিকেটের লুটপাট (৩য় পর্ব)

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দ্বিতীয় পর্বে উন্মোচিত হয়েছিল মিরপুরকেন্দ্রিক দুর্নীতির বিস্তৃত জাল, যেখানে নির্বাহী প্রকৌশলী জোয়ারদার তাবেদুন নবী গড়ে তুলেছিলেন একটি ‘প্যারালাল প্রশাসন’। তৃতীয় পর্বের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে আরও গভীর ও বিস্তৃত সেই অন্ধকার নেটওয়ার্ক যেখানে শুধু একটি প্রকল্প নয়, বরং একাধিক সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পকে ব্যবহার করা হয়েছে ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে।

 

নথিপত্র বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তাবেদুন নবীর প্রভাব বলয় ছড়িয়ে ছিল রাজধানীর বাইরেও। বিশেষ করে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের অধীনে চলমান কয়েকটি আবাসন প্রকল্পে একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা গেছে। জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে প্লট বরাদ্দ, ঠিকাদারি নিয়োগ, এমনকি নির্মাণ সামগ্রীর মান নির্ধারণ সবকিছুতেই ছিল একটি সুসংগঠিত ‘কমিশন বাণিজ্য’।

 

অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিতে দরপত্র প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রভাবিত করা হতো। টেন্ডার ডকুমেন্ট এমনভাবে সাজানো হতো যাতে ‘পছন্দের’ প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কেউ যোগ্যতা অর্জন করতে না পারে। এর বিনিময়ে কোটি কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার, যারা পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক।

 

এই সিন্ডিকেটের আরেকটি ভয়ংকর দিক হলো ‘ফাইল বাণিজ্য’। একটি ফাইল সচল রাখা, অনুমোদন দেওয়া কিংবা আটকে রাখার জন্য নির্ধারিত ছিল আলাদা আলাদা রেট। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ঘুষ দিতে ব্যর্থ হলে তাদের প্রকল্প ফাইল বছরের পর বছর ঝুলে থাকত, অথচ একই সময়ে ঘুষ প্রদানকারীদের ফাইল অস্বাভাবিক দ্রুততায় অনুমোদন পেত।

 

তদন্তে উঠে এসেছে, তাবেদুন নবীর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা এবং দালাল শ্রেণির মধ্যস্থতাকারী এই পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করতেন। তারা সরাসরি অর্থ লেনদেন না করলেও ‘বিশ্বস্ত চ্যানেল’ হিসেবে কাজ করতেন। নগদ টাকা, মোবাইল ব্যাংকিং এবং বিদেশে অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে হুন্ডি ব্যবস্থার ব্যবহার ছিল নিয়মিত।

 

আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিল কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ আমলা, যারা নেপথ্যে থেকে তাবেদুন নবীকে ‘সুরক্ষা বলয়’ প্রদান করতেন। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো বারবার তদন্তের আগেই চাপা পড়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকাও দীর্ঘ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগ করে প্রতারিত হয়েছেন হাজারো মধ্যবিত্ত পরিবার। কেউ জমির কাগজ পাচ্ছেন না, কেউ আবার নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় বছরের পর বছর ভাড়া বাসায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা রেখে বিনিয়োগ করলেও শেষ পর্যন্ত তারা পড়েছেন এক দুর্নীতির ফাঁদে।

 

তৃতীয় পর্বের অনুসন্ধান বলছে, তাবেদুন সিন্ডিকেটের এই নেটওয়ার্ক এখনও সক্রিয়, এবং প্রভাব বিস্তার করছে নতুন নতুন প্রকল্পে।

 

চলবে…

গণপূর্তের প্রকৌশলী তৈমুর আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়: নেপথ্যে ভাই ও শক্তিশালী সিন্ডিকেট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা গৃহায়ণে তাবেদুন সিন্ডিকেটের লুটপাট (৩য় পর্ব) গণমাধ্যম সপ্তাহে দাউদকান্দিতে বর্ণাঢ্য শুভযাত্রা ও বৃক্ষরোপণ গৃহায়ণে তাবেদুন সিন্ডিকেটের লুটপাট (২য় পর্ব) ২০২৬ সালের ঈদুল আযহা কবে? তারিখ, তাৎপর্য এবং প্রস্তুতির পূর্ণাঙ্গ গাইড দ্রুত ওজন কমানোর ১০টি বৈজ্ঞানিক ও কার্যকর উপায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা, খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা গণপূর্ত প্রকৌশলী তাবেদুন সিন্ডিকেটের কোটি টাকা লুটপাট, ১ম পর্ব পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই ইরানের জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে   ভণ্ড পীরের আস্তানা: শামীম রেজা সীতাকুণ্ডে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে খুন রূপগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ‘খারা মোশাররফ’র নেতৃত্বে হামলা: ১৮ লাখ টাকার সরঞ্জাম লুট দাউদকান্দিতে জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা প্রাণনাশের শঙ্কায় সাংবাদিক শরিফুল হোমনায় তিতাস নদী থেকে নারীর ভাসমান লাশ উদ্ধার দাউদকান্দিতে প্রবাসী কল্যাণ সংগঠনের উদ্যোগে ঈদে গরুর মাংস বিতরণ রিয়াদে প্রবাসী অপহরণ: ‘রনি গ্রুপ’-এর নির্যাতনে সর্বস্বান্ত সানা-উল্লাহ, মামলা দায়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইমারত পরিদর্শক উজ্জ্বল চন্দ্র দেব এর রঙ্গলীলা – পর্ব ১ “ উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) মাসুম বিল্লাহ। বর্তমানে কর্মরত শের-ই-বাংলা নগর ৩নং গণপূর্ত উপবিভাগের এসডিই হিসাবে দাউদকান্দি উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান শাহীন পুনর্বহাল রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে চট্টগ্রামে বেস্ট ফ্লাই ও বঙ্গনিউজের ইফতার আয়োজন ভারত থেকে ৫ হাজার টন ডিজেল আসছে আজ খালেদা জিয়াকে নিয়ে অশালীন বক্তব্য, পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ৫ দৈনিক “প্রতিদিনের কাগজ” ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন: ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের তদন্ত প্রতিবেদনে নিশ্চিত দাউদকান্দিতে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়া করে ১১ লাখ টাকা আত্মসাৎ: প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সম্মানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিল