পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর বাসায় বিজয়ী শাহজাহান, মিষ্টিমুখ-কুশল বিনিময়
নির্বাচনি ময়দানের তীব্র লড়াই শেষে নোয়াখালীতে দেখা গেল রাজনৈতিক সহনশীলতা ও সৌজন্যবোধের এক অনন্য চিত্র। নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনে বিজয়ী হওয়ার পর পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মো. ইসহাক খন্দকারের বাসভবনে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপি মনোনীত নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা শহরে ইসহাক খন্দকারের বাসভবনে এই হৃদ্যতাপূর্ণ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দুই নেতা একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান এবং কুশল বিনিময় করেন।
জানা গেছে, নির্বাচনে জয়লাভের পর বিজয়ী প্রার্থী মো. শাহজাহান নিজ উদ্যোগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ইসহাক খন্দকারের বাসভবনে যান। সেখানে তারা কুশল বিনিময় করেন এবং একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান। এ সময় উভয় নেতা নোয়াখালী-৪ আসনের উন্নয়ন ও এলাকার সার্বিক কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের ১৯৮টি কেন্দ্রের ফলে ধানের শীষ প্রতীকের মো. শাহজাহান পেয়েছেন ২ লাখ ১৯ হাজার ১৮২ ভোট। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মো. ইসহাক খন্দকার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৯ ভোট। এ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. শাহজাহান।
সাক্ষাৎকালে মো. শাহজাহান বলেন, নির্বাচন ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, তবে এখন সময় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করার। তিনি রাজনৈতিক ভিন্নতা ভুলে উন্নয়ন ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়ার আহ্বান জানান।
পরাজিত প্রার্থী ইসহাক খন্দকারও ফলাফল মেনে নিয়ে বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, জনগণের রায়ই চূড়ান্ত। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের স্বার্থে গঠনমূলক ভূমিকা রাখবেন তিনি।
এদিকে নেতাকর্মীরা বিষয়টিকে রাজনৈতিক সৌন্দর্য, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরও পারস্পরিক সম্মান ও সৌজন্য বজায় রাখা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হারুনর রশীদ আজাদ বলেন, নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল ভোটের মাঠ পর্যন্তই। ফলাফল ঘোষণার পর সবাই এখন এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করতে চান। বিজয়ী প্রার্থীর এই সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধেরই বহিঃপ্রকাশ।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু বিভেদ নয়। নোয়াখালী-৪ আসনের সার্বিক উন্নয়ন, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিকল্প নেই।




