কচুয়ায় মুক্তিযোদ্ধার জমি বিক্রিতে বাধা ও দখলের অভিযোগ আ’লীগ নেতার স্ত্রীর বিরুদ্ধে
এস.এম রাসেল_সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার।
চাঁদপুরের কচুয়ার পাথৈর ইউনিয়নের আটোমোর গ্রামে জমি বিক্রিতে বাধা ও দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা বাতেন সরকারের দ্বিতীয় স্ত্রী সায়েরা বেগমের (পুন্নি) দিকে। ভুক্তভোগী মাহমুদা রহমান, যিনি এক মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী, এ অভিযোগ করেছেন।
জমি বিক্রিতে বাধা ও স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার অভিযোগ
মাহমুদা রহমান জানান, তার স্বামী মুক্তিযোদ্ধা সাদেকুর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২২ সালে কুলসুম নামে এক নারীর কাছে জমি বিক্রির জন্য অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করেন। কিন্তু সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা বাতেন সরকারের স্ত্রী পুন্নি তাকে জমি বিক্রি করতে বিভিন্নভাবে বাধা দেন।
পরে, ২০২২ সালের মে মাসে সাচার থানায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে তাকে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে সই করিয়ে নেওয়া হয়। এতে লেখা হয় যে, তিনি জমি বিক্রি করেছেন এবং টাকাও নিয়েছেন। অথচ তিনি কোনো টাকা গ্রহণ করেননি বলে দাবি করেন।
হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ:
মাহমুদা রহমানের ছেলে গালিব জানান, জমি বিক্রি নিয়ে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। এমনকি জমি দখলেরও চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে জানানো হলেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্তের বক্তব্যঃ
অভিযুক্ত সায়েরা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করলেও জমি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়াঃ
কচুয়া থানার এসআই আনোয়ার জানান, জমি বিক্রিতে বাধার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ হেলাল চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী ১৫ জানুয়ারি বিষয়টি নিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
ভুক্তভোগীর আবেদনঃ
মাহমুদা রহমান বলেন, “আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী। স্বৈরাচারের আমলে বিচার পাইনি। আশা করি, নতুন বাংলাদেশে ন্যায়বিচার পাব এবং ভয়মুক্ত জীবনযাপন করতে পারব।”
মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের জমি বিক্রি ও দখলের এই অভিযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ এ ধরনের হয়রানির সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।




