নিজস্ব প্রতিবেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
দাউদকান্দি-সাচার-কচুয়া সড়কের শ্রীচাইল মোহাম্মদপুর এলাকায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত ১৮ এপ্রিল রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এতে সড়কে দীর্ঘ যানজট ও যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে সেই সুযোগে বাস চালকের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৮ এপ্রিল রাতে উক্ত সড়কের শ্রীচাইল মোহাম্মদপুর নামক স্থানে ‘সুরমা’ পরিবহনের দুটি বাস মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দুর্ঘটনায় বাসের সম্মুখভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বড় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
তবে ঘটনার পরপরই সড়কের দুই পাশে যানবাহন আটকা পড়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
দুর্ঘটনা পরবর্তী বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মো. কাউসার আহমেদ নামের এক ব্যক্তি নিজেকে ‘দৈনিক ভোরের নতুন বার্তা’র প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
তিনি দুর্ঘটনার ভয় দেখিয়ে এবং আইনি জটিলতার কথা বলে বাস চালকের কাছ থেকে জোরপূর্বক ৭ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী বাস চালক জানান, পরিচয়পত্র দেখিয়ে এবং পত্রিকার ভয় দেখিয়ে কাউসার আহমেদ তার কাছ থেকে এই টাকা হাতিয়ে নেন।
এই ঘটনায় স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক ও জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
দুর্ঘটনা কবলিত বাস দুটি সরিয়ে নেওয়ার পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তবে নামধারী সাংবাদিক পরিচয়ে এই চাঁদাবাজির বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এ ধরনের অপসাংবাদিকতা ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রথম পর্বে উঠে এসেছিল মিরপুর সেকশন-৯ এর ২০ একর সরকারি জমি ঘিরে কোটি টাকার ঘুষ, নীরব প্রশাসন এবং প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ভয়ংকর চিত্র। দ্বিতীয় পর্বে আরও বিস্ফোরক তথ্য যেখানে স্পষ্ট হচ্ছে, কেবল জমি দখল নয়, বরং পুরো একটি ‘প্রাতিষ্ঠানিক লুটতন্ত্র’ দাঁড় করিয়েছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী জোয়ারদার তাবেদুন নবী।
দুর্নীতির অভিযোগে বিভাগীয় মামলা চলমান থাকলেও, রহস্যজনকভাবে তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়াতেই রয়ে গেছে এই প্রকৌশলী? প্রথম পর্ব প্রকাশের পরও তিনি গণমাধ্যমের কাছে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি, যা তার নীরবতাকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।
অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনকালেই তাবেদুন নবী গড়ে তুলেছিলেন এক দূর্নীতির সাম্রাজ্য’। সরকারি চাকরির সীমিত বেতন কাঠামোর আড়ালে নামেবেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলছে। রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট, বাণিজ্যিক স্পেস, এমনকি আত্মীয়-স্বজনের নামে গড়ে তোলা হয়েছে অঘোষিত সম্পদের নেটওয়ার্ক। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই সম্পদের প্রকৃত মালিকানা অনুসন্ধান করলে বেরিয়ে আসবে হাজার কোটি টাকারও বেশি অবৈধ সম্পদের হিসাব।
মিরপুর হাউজিং এস্টেটকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেট শুধু জমি দখলেই সীমাবদ্ধ ছিল না। প্লট বরাদ্দ, নামজারি, নকশা অনুমোদন প্রতিটি ধাপে ছিল ‘দাম নির্ধারিত’। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট অংকের বিনিময়ে আবাসিক প্লটকে বাণিজ্যিক, আবার বাণিজ্যিককে শিল্প প্লটে রূপান্তরের মতো গুরুতর সিদ্ধান্তও নিয়েছেন তাবেদুন নবী ও তার সহযোগীরা। ফলে সরকারি নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একটি ‘প্যারালাল প্রশাসন’ চালু করেছিলেন তিনি।
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য, এই সিন্ডিকেটের অর্থ লেনদেনের বড় একটি অংশ হতো নগদে এবং হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগও উঠেছে। একাধিক ব্যাংক হিসাব, শেল কোম্পানি এবং আত্মীয়স্বজনের নামে খোলা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থের উৎস গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, তাবেদুন নবীর ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, তিনি নিজেকে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক প্রভাবের সাথে যুক্ত দাবি করে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এড়িয়ে গেছেন। ফলে মাঠপর্যায়ে তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায়নি। বরং তার ইশারাতেই চলতো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন, বদলি এবং গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের গতি।
প্রথম পর্বে উল্লেখিত ২০ একর জমির ঘটনায় যেমন দেখা গেছে, সকল নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শেষ মুহূর্তে ছাড়পত্র দিয়ে অবৈধ দখলকে বৈধতার আবরণ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এই অনিয়মের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ মানুষ। শত শত ফ্ল্যাট ক্রেতা, যারা জীবনের সঞ্চয় বিনিয়োগ করেছিলেন ‘স্বপ্ননগর-২’ প্রকল্পে, তারা এখন অনিশ্চয়তার অন্ধকারে। কেউ জমির মালিকানা পাচ্ছেন না, কেউ আবার আইনি জটিলতায় পড়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে।
একজন প্রকৌশলী কীভাবে এত বিশাল আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ওঠেন? কারা তাকে এই নিরাপত্তা বলয় দিয়েছে? কেন এখনো তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
দ্বিতীয় পর্বের অনুসন্ধান বলছে, তাবেদুন নবীর দুর্নীতির শিকড় শুধু মিরপুরেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং দেশের আরও কয়েকটি প্রকল্পে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলছে। পরবর্তী পর্বে উঠে আসবে সেই বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, যেখানে প্রকৌশলী থেকে রাজনীতিবিদ, সবাই জড়িয়ে পড়েছেন এক অদৃশ্য ‘লুটের মহাযজ্ঞে’।
চলবে…
মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব হলো ঈদুল আযহা, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘কুরবানির ঈদ’ নামেও পরিচিত। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এই দিনটির জন্য সারা বিশ্বের মুসলমানরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। ২০২৬ সালে ঈদুল আযহা কত তারিখে হতে পারে, তা নিয়ে এখন থেকেই অনেকে পরিকল্পনা শুরু করেছেন। আজকের ব্লগে আমরা ২০২৬ সালের সম্ভাব্য তারিখ এবং এই উৎসবের গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
ইসলামিক মাসগুলো সাধারণত চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আযহা উদযাপিত হয়।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গণনা এবং বর্তমান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী:
সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যে: ২০২৬ সালের ঈদুল আযহা সম্ভাব্যভাবে ২৭ মে (বুধবার) অনুষ্ঠিত হতে পারে।
বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে: চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে দক্ষিণ এশিয়ায় ঈদ একদিন পরে অর্থাৎ ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এটি সম্পূর্ণ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এই তারিখ এক দিন আগে বা পরে হতে পারে।
ঈদুল আযহা কেবল একটি উৎসব নয়, এটি এক মহান ত্যাগের ইতিহাস। ইসলামের নবী হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অসামান্য আনুগত্য ও ত্যাগের স্মৃতি রক্ষার্থে এই দিনটি পালিত হয়। আল্লাহ তাআলা হযরত ইব্রাহিম (আ.)-কে স্বপ্নে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কুরবানি করার নির্দেশ দেন। তিনি তাঁর পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-কে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কুরবানি করতে উদ্যত হন। এই চরম পরীক্ষা ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে আল্লাহ খুশি হয়ে ইসমাইল (আ.)-এর স্থলে একটি দুম্বা পাঠিয়ে দেন। সেই থেকে পশু কুরবানির মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের এই রীতি চলে আসছে।
কুরবানির মূল উদ্দেশ্য কেবল পশু জবাই করা নয়, বরং মনের পশুকে দমন করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে:
“আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না তাদের মাংস এবং রক্ত, বরং তাঁর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।”
সামাজিক প্রভাব:
১. গরিব-দুঃখীর পাশে দাঁড়ানো: কুরবানির পশুর মাংসের তিন ভাগের এক ভাগ গরিব ও অসহায়দের মধ্যে বণ্টন করা হয়, যা সমাজে সাম্য ও ভাতৃত্ববোধ তৈরি করে।
২. অর্থনৈতিক গতিশীলতা: ঈদকে কেন্দ্র করে চামড়া শিল্প, গবাদি পশুর খামার এবং মসলার বাজারে বড় ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেন হয়।
৩. সম্প্রীতি বৃদ্ধি: আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে মাংস বিতরণের মাধ্যমে সামাজিক বন্ধন আরও মজবুত হয়।
২০২৬ সালের মে মাসটি গরমের সময় হতে পারে। তাই আপনার ঈদের প্রস্তুতিতে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি:
আগেভাগে পশু নির্বাচন: ২০২৬ সালে মে মাসের শেষের দিকে গরম থাকতে পারে, তাই পশুর হাটে যাওয়ার সময় শারীরিক স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখুন। সম্ভব হলে অনলাইন হাট থেকে পশু ক্রয় করতে পারেন।
বাজেট পরিকল্পনা: মুদ্রাস্ফীতি ও বাজারের অবস্থা বিবেচনা করে এখন থেকেই ঈদের জন্য একটি ছোট সঞ্চয় শুরু করা বুদ্ধিমানির কাজ হবে।
পরিবেশ সুরক্ষা: কুরবানির পর পশুর বর্জ্য সঠিক স্থানে অপসারণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। গরমের সময় বর্জ্য থেকে দ্রুত দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে, তাই ব্লিচিং পাউডার বা জীবাণুনাশক ব্যবহার নিশ্চিত করুন।
২০২৬ সালের ঈদুল আযহা আমাদের জীবনে বয়ে আনুক শান্তি ও সমৃদ্ধি। ত্যাগের এই উৎসব কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর প্রকৃত শিক্ষা—অর্থাৎ মানুষের সেবা ও আল্লাহর আনুগত্য—আমাদের জীবনে প্রতিফলন ঘটানোই হোক মূল লক্ষ্য। যদিও সম্ভাব্য তারিখ ২৮ মে ধরা হচ্ছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
আপনার পরিবারের সাথে সুন্দর ও নিরাপদভাবে ঈদ কাটুক, এই শুভকামনা রইল।
১. ২০২৬ সালে কি দুইটা ঈদ হবে?
হ্যাঁ, হিজরি ক্যালেন্ডার ও ইংরেজি ক্যালেন্ডারের পার্থক্যের কারণে মাঝেমধ্যে একই ইংরেজি বছরে দুটি ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আযহা আসতে পারে, তবে ২০২৬ সালে স্বাভাবিকভাবে একটি ঈদুল ফিতর (মার্চে) এবং একটি ঈদুল আযহা (মে-তে) পড়বে।
২. ২০২৬ সালে হজের সম্ভাব্য তারিখ কবে?
সাধারণত ঈদের আগের দিন অর্থাৎ ৯ জিলহজ হজ অনুষ্ঠিত হয়। সেই হিসেবে ২৬ মে ২০২৬ হজের দিন হতে পারে।
৩. ঈদুল আযহার ছুটি কতদিন হতে পারে?
বাংলাদেশে সাধারণত ঈদের তিন দিনের সরকারি ছুটি থাকে। ২০২৬ সালে ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) ঈদ হলে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে একটি দীর্ঘ ছুটির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঈদুল আযহা ২০২৬,কুরবানি ২০২৬, ঈদের তারিখ, EidUlAdha2026, ইসলামিক ক্যালেন্ডার, ২০২৬ ঈদের ছুটি, ২০২৬ কোরবানি ঈদ, ২০২৬ ঈদুল আযহা সরকারি ছুটি
