অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক: খোকসা থানার ওসির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, তদন্তের দাবি
কুষ্টিয়ার খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোতালেব হোসেন এর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া চাঁদাবাজির অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, একটি চলমান তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই এ ধরনের প্রচারণা চালানো হতে পারে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ডিসেম্বরের শেষদিকে শিমুলিয়া ইউনিয়নের এক জনপ্রতিনিধির কাছে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। বিষয়টি থানায় অবগত হলে ওসি মোতালেব হোসেন তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন। তদন্তের স্বার্থে কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ওসি মোতালেব হোসেন বলেন,
“আমি দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে চাঁদাবাজির অভিযোগের তদন্তে নেমেছিলাম। তদন্তের সময় কিছু তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। এরপর থেকেই একটি মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে শুরু করে।”
তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে ল্যাপটপ চাওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য।
“আমি কোনো ব্যক্তির কাছে ব্যক্তিগতভাবে ল্যাপটপ বা অর্থ দাবি করিনি। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হয়েছে,” যোগ করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও পাল্টা বক্তব্য
অভিযোগ ওঠার পর এক ব্যবসায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে ওসির বিচার দাবি করেন। তবে পরে সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে ওসি বলেন, “কেউ যদি মনে করেন তিনি হুমকির মুখে, তাহলে আইনগত সহায়তা নেওয়ার সুযোগ খোলা আছে। কিন্তু ফেসবুকে একতরফা অভিযোগ দিয়ে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা সমাধান নয়।”
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি ব্যক্তিগত ভুল বোঝাবুঝি বা তদন্ত-সংক্রান্ত অসন্তোষের ফল হতে পারে। যদিও অভিযোগকারী পক্ষ নিজেদের দাবিতে অনড়।
পুলিশ সুপারের অবস্থান
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তা নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করা হবে।
“বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতিতে বিশ্বাস করে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর মিথ্যা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, তদন্ত ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।
খোকসা থানায় যোগদানের পর ওসি মোতালেব হোসেন মাদকবিরোধী অভিযান, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান। থানার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক মাদকবিরোধী অভিযান ও ওয়ারেন্ট তামিল কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
কিছু সচেতন নাগরিকের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল অসন্তুষ্ট হয়ে অপপ্রচার চালাতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এই পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ তদন্তই হতে পারে একমাত্র সমাধান। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হলে একদিকে যেমন প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে অযাচিত বিভ্রান্তিরও অবসান ঘটবে।





